ক্রিকেট

ইংলিশদের হারিয়ে ফাইনালে কিউইরা

  • তারিক আল বান্না
  • প্রকাশিত ১০ নভেম্বর, ২০২১

প্রতিবার বিশ্বকাপে খেললেও শিরোপা তো দূরের কথা ফাইনালেই উঠতে পারছিল না নিউজিল্যান্ড। এবার ফাইনালে উঠার স্বপ্নপূরণ করলো তারা। সাবেক চ্যাম্পিয়ন শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে রুদ্ধশ্বাস সেমিফাইনালের লড়াইয়ে ৫ উইকেটে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে কিউইরা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবু ধাবিতে আজ বুধবার এই ম্যাচে ২০১০ সালের শিরোপাধারী ও গতবারের রানার্সআপ ইংল্যান্ড দলের ৪ উইকেটে ১৬৬ রানের জবাবে নিউজিল্যান্ড ১৯ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬৭ রান করে। আগামী রোববার তারা ফাইনালে খেলবে পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালের বিজয়ী দলের বিপক্ষে। 

১৬৭ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে কিউইরা। দলীয় ৪ রানের সময় ওকসের বলে মার্টিন গাপটিল মঈনের হাতে ধরা পড়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন। তিনি করেন ৩ বলে ৪ রান। দলের ১৩ রান পার না হতেই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন আউট হয়ে যান। গাপটিলের মতো তিনিও ওকসের শিকারে পরিনত হন। ওকসের বলে আদিল রশিদের হাতে ধরা পড়ার আগে উইলিয়ামসন করেন ৫ রান। ডারিল মিচেল ও ডেভন কনওয়ে তৃতীয় জুটিতে ৫০ পার করলে কিছুটা আশার মুখ দেখতে শুরু করে নিউজিল্যান্ড দল। তবে দলীয় ৯৫ রানের মাথায় তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটে তাদের। স্পিনার লিভিংস্টোনের বলে আগে বাড়িয়ে খেলতে গিয়ে স্ট্যাম্প হন কনওয়ে। তিনি করেন ৩৮ বলে ৫টি চার ও ১টি ছয়ে ৪৬ রান। দলীয় ১০৭ রানের সময় ফিলিপস আউট হলে বেকায়দায় পড়ে নিউজিল্যান্ড। লিভিংস্টোনের বলে তুলে মারতে গিয়ে ফিলিপস (২) ধরা পড়েন বিলিংসের হাতে। পঞ্চম জুটিতে মিচেল ও নিশাম দারুণ দ্রুততার সঙ্গে রান তুলতে থাকেন। দলীয় ১৪৭ রানের মাথায় আদিল রশিদের বলে মরগানের তালুবন্দী হন নিশাম। তিনি মাত্র ১০ বলে ৩টি ছয় ও ১টি চারে ২৬ রান করেন। শেষ পর্যন্ত মিচেলের অপরাজিত হাফ সেঞ্চুরির সুবাদে জয় নিশ্চিত করে নিউজিল্যান্ড। মিচেল ৪৮ বলে বলে ৪টি করে চার ও ছয়ে ৭৩ রান করে ম্যাচের নায়কে পরিনত হন। ইংল্যান্ডের ওকস ও লিভিংস্টোন ২টি করে এবং আদিল রশিদ ১টি উইকেট লাভ করেন।  

এর আগে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ডের প্রথম তিন ওভারে আসে মাত্র ১৩ রান। ট্রেন্ট বোল্টের করা চতুর্থ ওভার থেকে ১৬ রান নিয়ে নিজেদের রান রেট উন্নতি করে ইংল্যান্ড। টিম সাউদির করা পঞ্চম ওভারে এক বাউন্ডারিসহ ৮ রান নিলে পাঁচ ওভার শেষে স্কোর দাঁড়ায় বিনা উইকেটে ৩৭ রান। পাওয়ার প্লে’র শেষ ওভারে প্রথমবারের মতো আক্রমণে আসে অ্যাডাম মিলনে। তার প্রথম বলেই সাজঘরের পথ ধরেন বেয়ারস্টো। অফস্ট্যাম্পের বাইরের বলটি কভার ড্রাইভ করেছিলেন ডানহাতি ওপেনার। কিন্তু পার করতে পারেননি মিড অফে দাঁড়ানো কেন উইলিয়ামসনকে। দারুণ এক ডাইভে সেই বল তালুবন্দী করেন কিউই অধিনায়ক। থার্ড আম্পায়ার রিপ্লে দেখে আউট নিশ্চিত করেন। বেয়ারস্টো করেন ১৩ রান। এরপর দলীয় ৫৩ রানের সময় বাটলার সোধির বলে এলবিডব্লিউ হন। বাটলার করেন ২৯ রান। এরপর মঈন আলী ও ডেভিড মালান তৃতীয় জুটিতে দারুণ খেলে তোলেন মূল্যবান ৬৩ রান। দলীয় ১১৬ রানের মাথায় মালান সাউদির বলে উইকেটকিপার কনওয়ের হাতে ধরা পড়েন। মালান করেন ৩০ বলে ৪টি চার ও ১টি ছয়ে ৪১ রান। মঈনের সঙ্গে জুটি বাঁধেন লিভিংস্টোন। দলীয় ১৫৬ রানের সময় লিভিংস্টোন নিশামের বলে সান্টনারের তালুবন্দী হন। তিনি ১০ বলে করেন ১৭ রান। শেষ পর্যন্ত মঈনের ৩৭ বলে অপরাজিত ৫১ রানের সুবাদে ইংল্যান্ড লড়াই করার মতো স্কোর পায়। মঈন ৩টি চার ও ২টি ছয়ে করেন ঐ রান। অধিনায়ক মরগান ৪ রানে অপরাজিত থাকেন।  নিউজিল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে সোধি, সাউদি, মিলনে ও নিশাম ১টি করে উইকেট লাভ করেন।   

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এগিয়ে ইংল্যান্ড। গতকালের ম্যাচের আগে ২১ বারের মুখোমুখিতে ইংল্যান্ড ১২ বার এবং নিউজিল্যান্ড ৭ বার জয়লাভ করে। ১টি করে ম্যাচ টাই ও পরিত্যক্ত হয়। বিশ্বকাপের মঞ্চে পাঁচবার দেখা হয় ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের। এতে তিনবার জিতে ইংলিশরা। আর দু’বার জিতে কিউইরা। ২০০৭ সালে প্রথম বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে মুখোমুখি হয়েছিলো ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচটি ৫ রানে জিতেছিলো নিউজিল্যান্ড। ২০১০ সালে তৃতীয় বিশ্বকাপের আবারো গ্রুপ পর্বে লড়াই করে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। এই ম্যাচটি উত্তেজনা ছড়িয়েছে। শেষ ওভারে ৩ উইকেটের জয় তুলে নেয় ইংলিশরা। বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম দুই লড়াই হাড্ডাহাড্ডি হলেও, ২০১২ সালে গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সহজেই জিতে যায় ইংল্যান্ড। ৬ উইকেটে ম্যাচ জিতেছিলো ইংলিশরা। ২০১৪ সালে বাংলাদেশের হওয়া বিশ^কাপে আবারো গ্রুপ পর্বে দেখা হয় তাদের। বৃষ্টি আইনে সেই লড়াই ৯ রানে জিতেছিলো কিউইরা। আর ২০১৬ সালের সেমিফাইনালে দেখা হয়েছিলো ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। এ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে দাঁড়াতেই দেয়নি ইংল্যান্ড। ৭ উইকেটের সহজ জয়ে দ্বিতীয়বারের মত ফাইনাল খেলে ইংলিশরা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads