আট বছর ধরে বন্ধ অস্ত্রোপচার

সংগৃহীত ছবি

জাতীয়

কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র

আট বছর ধরে বন্ধ অস্ত্রোপচার

  • কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১৮ জুন, ২০২২

চিকিৎসা সেবাসহ বেশ কয়েকটি কারণে চারবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী পদক পেয়েছিল কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রটি। যন্ত্রপাতি, সারঞ্জামসহ হাসপাতালটিতে যাবতীয় সুযোগ সুবিধা থাকলেও নেই গাইনি ও এনেসথেসিয়া কনসালট্যান্ট ১১ পদের জনবল। সে কারণে প্রায় আট বছর বন্ধ রয়েছে অস্ত্রোপচার।

হাসপাতালটিতে অস্ত্রোপচার বন্ধ থাকায় প্রতিনিয়ত নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগী ও স্বজনরা। অস্ত্রোপচারে জন্য রোগীদের যেতে হচ্ছে জেলা অথবা বেসরকারি ক্লিনিকে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালে ৩১ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নত করা হয়। সে সময় রোগীর খাবার ও ওষুধের অনুমোদন দেওয়া হলেও চিকিৎসক পদ গুলো ফাঁকা ছিল। ২০২১ সালে চিকিৎসকের অনুমোদন দেওয়া হয়। সম্প্রতি কয়েকজন চিকিৎসক যোগ দিয়েছে হাসাপাতালে। আরো জানা গেছে, প্রায় ৪ লাখ মানুষের একমাত্র আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটি এটি। এখানে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা রয়েছে। এথেকে আয় করছে হাসপাতালটি। মে মাসে বিভিন্ন পরীক্ষা থেকে প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকা আয় হয়েছে। কিন্তু যন্ত্রপাতি, সারঞ্জম থাকলেও জনবল অভাবে ২০১৪ সাল থেকে অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সরেজমিন দেখা গেছে, হাসপাতালে পুরুষের তুলনা নারী ও শিশু রোগীর সংখ্যা বেশি। রোগী ভর্তি আছেন প্রায় শতাধিক। শয্যা সংকটে বারান্দায় ও মেঝেতে রয়েছেন রোগীরা। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমসিম খাচ্ছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

বেলা ১১ টার দিকে বহির্বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, নারীদের লম্বা লাইন। প্রায় অর্ধ শতাধিক নারী টিকেটের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। সেখানে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ জন মানুষ চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এ সময় কথা হয় বাগুলাট ইউনিয়নের কালুপাড়া গ্রামের গৃহিণী চায়না খাতুনের সাথে। তিনি বলেন, টিকিরের জন্য লম্বা লাইনে প্রায় আধাঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছি। অস্বস্তি গরম। অসুস্থ হয়ে পড়ছেন মানুষ। যদুবয়রা ইউনিয়নের জোতমোড়া গ্রামের ফরিদুজ্জামান বলেন, অনেকে আগে টিকিট কাটার জন্য লাফালাফি করছে। অনেকে আবার জড়াচ্ছেন বাগবিতণ্ডায়।

বহির্বিভাগ ও ভর্তি রোগী এবং স্বজনরা জানায়, ' যেসমস্ত রোগীদের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ছে, তাঁদের জেলা বা বে-সরকারি ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে। অতি সাধারণ অস্ত্রোপচারের জন্য যেতে হচ্ছে অন্যত্র।'

তারা আরো জানায়, ' অন্ত:সত্ত্বা রোগীর অনেকেই নরমল ডেলিভারীর জন্য হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। অনেক সময় নানাবিধ কারণে স্বাভাবিক প্রসব হচ্ছেনা। সেক্ষেত্রে স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে।'

চিকিৎসক ও নার্সরা জানান, ' গাইনি ও এনেশথেসিয়া কনসালট্যান্ট ১১ পদের সব ফাঁকা। কর্তৃপক্ষের বারবার চিঠি দিয়ে জানিয়েও কোনো ফল হচ্ছে না। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন জনগণ।'

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আকুল উদ্দিন বলেন, ' যন্ত্রপাতি ও সকল সারঞ্জম আছে হাসপাতালে। কিন্তু জনবল না থাকায় ২০১৪ সাল থেকে অস্ত্রোপচার বন্ধ আছে। ফলে রোগীরা এসেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। বারবার পত্র দিয়েও ফল হয়নি।'

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিতান কুমার মন্ডল বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ্য থেকে লিখিত জানানো হলে জনবলের জন্য সুপারিশ পাঠানো হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads