আখাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

আখাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত

  • আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব কুকুর হাসপাতাল চত্বরে ভিতরে এবং বারান্দায় যেন নিয়মিত থেকে এক ভূতুড়ে পরিবেশ তৈরি করেছে। হাসপাতালে কুকুরের অবাধ বিচরণের ফলে চিকিৎসা নিয়ে আসা রোগি ও তার সাথে আসা লোকজন ভয় ভীতি ও আতঙ্ক নিয়ে তাদের সেবা নিতে হচ্ছে। এসব বেওয়ারিশ কুকুর সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দল বেঁধে দাপিয়ে বেড়ালেও সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ যেন দেখেও না দেখার ভান করছেন। তাছাড়া রয়েছে হাসপাতালে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশও। ফলে কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছে না হাসপাতালে আসা রোগীরা।

উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে বর্তমানে ৫০ শয্যায় উন্নতি করা হয়েছে। পৌর শহরসহ উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও সদর উপজেলার বেশ কিছু এলাকার প্রায় ২ লাখ লোকেরএকমাত্র চিকিৎসার ভরসা এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটি। বর্তমানে এই স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সটিতে যেন বেওয়ারিশ কুকুর অভাধে বিচরণ করছে।

সরেজমিতে সকাল ১০টায় হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি কুকুর হাসপাতালের ভেতরে চিকিৎসকের কক্ষের সামনে সারিবদ্ধভাবে শুয়ে আছে। আবার কিছু কুকুর হাসপাতাল চত্বরের সামনে দল বেধে ঘোরাঘুরি করছে। সেইসাথে নতুন ভবনের ভেতরে ও সামনে রয়েছে বেশ কয়েকটি কুকুর। ওইসব জায়গা দিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা রোগিরা চিকিৎসকের কক্ষে যেতে হচ্ছে। অনেকে ভয়ে আতঙ্কে চিকিৎসকের কক্ষে যেতে দেখা যায়। হাসপাতালের মতো একটি জায়গার মধ্যে অভাবে বেওয়ারিশ কুকুরের বিচরণ দেখতে পেয়ে রোগীসহ স্বজনরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের হীরাপুর গ্রামে মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, অসুস্থতার কারণে প্রায় সময় ডাক্তার দেখাতে হাসপাতালে আসা হয়। কিন্তু বেশ কিছু দিন ধরে হাসপাতাল এলাকায় কুকুরের উৎপাত দেখা দেওয়ায় চিকিৎসা নিতে অনেকটাই ভয় করছে। হাসপাতালে এভাবে কুকুর থাকলে মানুষ কিভাবে স্বাস্থ্য সেবা পাবে। পৌর শহরের রাধানগর এলাকার গৃহিণী আলেয়া বেগম বলেন, তার ছোট মেয়ে ইয়াসমিকে ডাক্তার দেখানে এই হাসপাতালে আসেন। হাসপাতালের নতুন ভবনের ভেতরে বেশ কয়েকটি কুকুর দেখতে পেয়ে তার মেয়ে অনেকটাই যেন ভয় পান। অনেক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে পরে পরে চিকিৎসকের কক্ষে যাওয়া হয় বলে জানায়।

হাসপাতাল এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল অহাব মিয়া জানান, হাসপাতালের ভিতরের সড়ক দিয়ে আমাদের দৈনিক যাতায়ত করতে হয়। কুকুরের ভয়ে রাতে একা বাড়িতে আসা যায় না খুবই ভয় করে। এ এলাকায় দিন দিন বেওয়ারিশ কুকুর বৃদ্ধি পাচ্ছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীকে দেখতে আসা স্বজন মো. আশরাফুল আলম বলেন, মানুষ যেখানে প্রতিনিয়তই করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে ঠিক সেই মুহূর্তে চিকিৎসা সেবাকেন্দ্র হাসপাতালে যদি এমনভাবে কুকুর শুয়ে থাকা খুবই দু:খ জনক।

উপজেলা মোগড়া ইউনিয়ন থেকে চিকিৎসা নিতে আসা মো. হেলাল মিয়া বলেন, তিনি বেশ কয়েক দিন ধরে জ্বরে ভোগছেন তাই সকালে ডাক্তার দেখাতে এখানে আসা। কিন্তু হাসপাতালের ভেতরে কুকুর দেখতে পেয়ে তিনি ভয় পেয়ে যান। তিনি বলেন ছোট বেলায় কুকুরের কামড় খেয়ে ১৪টি ইনজেকশন তার নিতে হয়। যেখানে মানুষের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়ে থাকে সেখানে কুকুরের বিচরণ থাকা খুবই খুবই দু:খ জনক।

দেবগ্রাম এলাকার বিলকিস বেগম বলেন, তার স্বামী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অনেক প্রয়োজনে তাকে বাইরে যেতে হয়। কিন্তু হাসপাতাল চত্বরে কুকুর থাকায় প্রয়োজনীয় কাজে রাতে বাইরে যেতে তার খুবই ভয় করে বলে জানায়। হাসপাতালের পরিবেশ এবং অব্যবস্থাপনায় করোনাকালেও এ হাসপাতালে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানায়।

উপজেলা আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: শ্যামল চন্দ্র ভৌমীক বলেন, আগে হাসপাতালে কুকুর ছিল না। তবে বেশ কয়েকদিন ধরে দেখা যাচ্ছে। তবে শুধু এখানে নয় পৌরসভার বিভিন্ন জায়গায় ও কুকুর বেড়ে গেছে। এ হাসপাতালে নৈশপ্রহরীকে বলা হয়েছে কুকুর দেখা মাত্র তাড়িয়ে দিতে।

তিনি আরও বলেন, কুকুর নিধনে পৌর কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় হাসপাতাল এলাকায় কুকুর বেড়ে গেছে। কুকুর নিধনে তিনি পৌর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

আখাউড়া পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো,ফয়ছল আহাম্মেদ খান বলেন, পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রতি বছরই বেওয়ারিশ কুকুর নিধন করা হত। কিন্তু হাইকোর্ট কুকুর না মারার জন্য একটি রু জারি করার ফলে কুকুর মারা বন্ধ হয়ে গেছে। তারপরও আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads