ভারতে করোনার প্রকোপ বৃদ্ধির ফলে গত ২৬ মার্চ বাংলাদেশ-ভারত দু-দেশের সীমান্ত বন্ধ রয়েছে। তবে চিকিৎসাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে ভারতে যাওয়া বাংলাদেশিরা আগরতলা থেকে বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের নো অবজেকশন সার্টিফিকেট বা অনাপত্তিপত্র নিয়ে দেশে ফিরে আসছেন। বাংলাদেশে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকেরাও বিশেষ অনুমতি নিয়ে ভারতে ফিরে যাচ্ছেন। সর্বশেষ গতকাল সোমবার বেলা ২ টা পর্যন্ত গত ১৫ দিনে আখাউড়া স্থল বন্দর দিয়ে ৩৭২ জন বাংলাদেশী নাগরিক এবং বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকরা দেশে প্রবেশ করেছেন। এত বিপুল সংখ্যক লোক এ স্থল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে আসায় করোনার সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে আখাউড়া।
ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট সূত্রে জানা গেছে, ভারত ফেরত নাগরিকদেরকে হাসপাতাল এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হচ্ছে। জেলার ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর, আখাউড়া ও বিজয়নগর উপজেলায় ৫টি প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে ১২২ জনকে রাখা হয়েছে। ১০০ জনকে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনে প্রেরণ করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় দুতাবাসে কর্মরত ১৪জনকে ভারতীয়দেরকে দুতাবাসাতে পাঠানো হয়েছে এবং সশস্ত্রবাহিনীর ৩৩ জন সদস্যকে সিএমএইচএ-এ পাঠানো হয়েছে।
আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. মো. রাশেদুর রহমান বলেন বলেন, ভারত থেকে বেশি লোক আসায় আমরা আখাউড়াবাসী স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছি। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে যদি কেউ করোনা সংক্রমিত হয়ে আসে তাহলে আমাদের জন্য খুবই দুশ্চিন্তার কারণ রয়েছে।
উপজেলা সূত্রে জানা গেছে, আখাউড়া পৌরশহরের সড়ক বাজারে নাইন স্টার হোটেলে রোববার পর্যন্ত ২০ জন এবং রজনীগন্ধা হোটেলে ৫ জন কোয়ারেন্টাইনে আছে। কোয়ারেন্টাইনের বিষয়টি দেখভাল করার জন্য আখাউড়ায় জেলা প্রশাসনের দু’জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত রয়েছেন।
এ অবস্থায় বিষয়টির গুরুত্ব দিয়ে সম্প্রতি স্থলবন্দর পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান। পরিদর্শন কালে তিনি ইমিগ্রেশন অফিস ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে তিনি ইমিগ্রেশন অফিসের সামনে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বসানো মেডিকেল টিমের সদস্য ও ভারত থেকে আসা রোগীর স্বজন সহ যাত্রীদের সাথে কথা বলেন।
এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবারে জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খান বলেন, আখাউড়া স্থল বন্দর হয়ে ভারত থেকে যাত্রী প্রবেশের হার বেড়েছে। এ অবস্থায় ভারত ফেরত যাত্রীদেরকে বর্তমানে জেলার বিজয়নগর উপজেলায় ৫০শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোয়ারেন্টাইন করা হচ্ছে। ভারত থেকে ফেরা নাগরিকদের সংখ্যা যদি বাড়তে থাকে তাহলে পাশের জেলায় কোয়ারেন্টাইনে রাখার চিন্তা করতে হবে।
আখাউড়া পৌরসভার মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে এমনিতেই আমরা সংক্রমণের ঝুঁকিতে আছি। তারমধ্যে ভারত ফেরত নাগকিরা আখাউড়ায় থাকায় একটু বেশিই ঝুঁকি রয়েছে। ভারত থেকে কেউ যদি করোনা সংক্রমিত হয়ে আসে তাহলে আমাদের জন্য ঝুঁকির কারণ আছে।
আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর-এ-আলম বলেন, সরকারী সিদ্ধান্তের আলোকে যারা ভারতে আটকা পড়েছেন তাদেরকে বাংলাদেশে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে তাদেরকে ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। যারা গুরুতর অসুস্থ তাদেরকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। জেলা প্রশাসনের দু’জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কোয়ারেন্টাইনের বিষয়টি সার্বক্ষনিক তদারকি করছেন। যারা কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন তাদের পাসপোর্ট আমরা সংরক্ষণ করছি। কোয়ারেন্টাইন শেষ হওয়ার ছাড়পত্র প্রদর্শন করার পর তাদের পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া হবে।





