দলে আধিপত্য বিস্তার, সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্বিমুখতা, সাংগঠনিক কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতাসহ নানা কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিএনপিতে দুটি গ্রুপ সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় দিবস, কেন্দ্রীয় কর্মসূচি,দলের প্রতিষ্ঠা বাষির্কী, সভা সমাবেশ, স্থানীয় সরকার নির্বাচন, সামাজিক অনুষ্ঠানসহ সব কিছুতেই দৃশ্যমান দুটি গ্রুপ আলাদা অবস্থান রয়েছে। এদিকে সদ্য পালিত হওয়া বিজয় দিবসও আলাদা অবস্থান থেকে দলের দুটি গ্রুপ পালন করে। এতে করে দলের সাধারণ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে ক্ষোভ বাড়ছে। এদিকে দিন যতই যাচ্ছে দলের শীর্ষ নেতারা পরস্পরের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন। কোন্দল ছড়িয়ে পড়ছে তৃণমুলেও। কেউ কাউকে মানছে না। ফলে অনেক নেতাকর্মী রাগে-ক্ষোভে অভিমান করে দলের কার্যক্রম থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ছে।
তাছাড়া দলের সহযোগি সংগঠন উপজেলা ছাত্রদল, পৌর ও কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটি নিয়ে দুটি গ্রুপের মধ্যে নতুন করে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। পাশাপাশি আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী নিয়ে নেতাকর্মীরা ও জড়িয়ে পড়ছেন দ্বন্দ্বের মধ্যে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মুশফিকুর রহমান দলের একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন । অপর গ্রুপের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মুসলেম উদ্দিন। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে এ উপজেলা বিএনপি মূলত দ’ুভাগ সৃষ্টি হয়। এরপর থেকেই চলে আলাদা আলাদা কর্মসুচি। ফলে দলের অনেক নেতকর্মী রাগ, ক্ষোভ আর অভিমান করে দলের হাল ছেড়ে দিচ্ছেন।
দলের একাধিক নেতাকর্মী জানায়, সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের বরিশল গ্রামের মো. কবির আহম্মেদ ভূইয়া হঠাৎ বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠে। তার ছোট ভাই আবদুর রহমান সানি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী হিসাবে দায়িত্ব পালন করায় তিনি কসবা ও আখাউড়ার বিএনপির রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। দলের মনোনয়ন কমিটিসহ সব কিছুতেই যেন তার ছোয়া রয়েছে। বর্তমানে উপজেলা বিএনপির একটি অংশ মুসলেম উদ্দিনের নেতৃত্বে প্রকাশ্যে কবিরের পরামর্শে চালাচ্ছেন সাংগঠনিক কার্যক্রম।
গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কবির তার ভাই সানির প্রভাবের মাধ্যমে ইঞ্জিনিয়ার মুসলিম উদ্দিনকে আখাউড়া- কসবা আসনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া। পরে যদিও নির্বাচন কমিশন থেকে মুসলিম উদ্দিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। মূলত ওই নির্বাচনের পর থেকেই কবিরের হাত ধরে মুসলেম উদ্দিন এ উপজেলায় একটি বলয় তৈরী করেন। বর্তমানে কবিরের মাধ্যমে তাদের অনুগত নেতাকর্মীদের দলের পদ-পদবি দেয়া হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, আলহাজ্ব মুশফিকুর রহমান ও আখাউড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মুসলেম উদ্দিন দুই জনই দলের দুর্দিনের কান্ডারি। মূলত মুশফিকুর রহমানের দক্ষ নেতৃত্বেই তৃণমুল পর্যায়ে উপজেলা বিএনপি খুবই শক্তিশালি হয়ে উঠে। তার হাত ধরেই বিএনপির রাজনীতিতে একটি অবস্থান তৈরী করেন ইঞ্জিনিয়ার মুসলেম উদ্দিন। আন্দোলন সংগ্রামে রাজনৈতিক মাঠে দলকে সুসংগঠিত করতে দুজন বেশ দক্ষতার পরিচয় দেওয়ায় তৃণমুল নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ছিল বেশ চাঙ্গা। কিন্তু এই সুসর্ম্পক রাজনৈতিক মাঠে বেশী দিন ধরে রাখতে পারেন নি।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রৌফ চৌধুরী ইঞ্জিনিয়ার মুসলেম উদ্দিনের নেতৃত্বেই উপজেলা বিএনপির কর্মকান্ড চলছে। তিনি দুর্দিনে সক্রিয় ভাবে মাঠে থেকে দলকে সংগঠিত করেছেন । কিন্তু অন্যরা দলের কোন খোঁজ ও নেননি। দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম বৃদ্ধিতে আমাদের সাথে এক হয়ে কাজ করার আহবান জানান।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লায়ন আবুল মনসুর মিশন বলেন,দলে নেতৃত্ব নিয়ে কোন বিরোধ নেই। মুশফিকুর রহমানের নেতৃত্বে শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিকেরা উপজেলা বিএনপি তৃণমুল পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আছে। নিয়মিত নেতাকর্মীদের খোঁজ খবর রাখছেন। তিনি আরো বলেন, যারা দলকে গ্রুপ তৈরী করেছে তারা মূলত দলের ভাল চাই না। ফায়দা লুটতে চাই।





