করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসায় ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ সিট খালি থাকলেও জনবলের অভাবে তা কাজে লাগাতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। চার মাস আগে এই হাসপাতালে পাঁচটি আইসিইউ ও ১৫টি এইসডিইউ শয্যা স্থাপন করা হয়েছে। এর বাইরে আরো শতাধিক শয্যা রয়েছে হাসপাতালটিতে। অথচ করোনার এই ভয়াবহ সময়ে আইসিইউ সংকটে অনেকেই মারা যাচ্ছেন।
রাজধানীর পুরান ঢাকার নয়াবাজারে তিনতলা বিশিষ্ট ১৫০ শয্যার এই হাসপাতালটির মালিক ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। তবে জনবল, ওষুধসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি দেওয়ার কথা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের। জনবল চেয়ে বারবার চিঠি দেওয়া হলেও অধিদপ্তর তা দিচ্ছে না। এতে হতাশ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাদের অভিযোগ, করোনার এই সময়ে সারা দেশে হাসপাতালে সাধারণ শয্যার সংকট। রোগীরা হাজার চেষ্টা করেও আইসিইউ পাচ্ছেন না। অথচ এখানে জনবলের অভাবে হাসপাতালটি খালি পড়ে রয়েছে। একটি দেশে স্বাস্থ্য খাতে অব্যবস্থাপনা কতটা বেহাল তা মহানগর জেনারেল হাসপাতালের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। মাসের পর মাস আইসিইউ শয্যা খালি, চিকিৎসক-নার্স নেই। অথচ প্রায় প্রতিদিনই করোনা আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালে ছুটে আসছেন। কিন্তু অনেকেই জানেন না এই হাসপাতালে এখন করোনার চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয় না।
তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সংশ্লিষ্টরা বলেন, করোনার শুরুতে অন্যান্য জেনারেল হাসপাতাল থেকে অনেক জনবল করোনা হাসপাতালে প্রেষণে দেওয়া হয়েছে। এখন ওই হাসপাতালে জনবল দেওয়ার মতো লোকবল নেই। অন্যান্য জেনারেল হাসপাতালেও জনবল সংকট দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে করণীয় ঠিক করতে শিগগির বৈঠকে বসবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
দেশে করোনা সংক্রমণের শুরুতে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে সরকার নির্ধারিত হাসপাতালগুলোর মধ্যে একটি ছিল ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতাল। তখন ৩৩ জন নার্স ১৯ জন চিকিৎসক প্রেষণে নিয়োগ দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কিন্তু তাদের মধ্যে সাতজন চিকিৎসক হাসপাতালটিতে যোগ দেননি। ফলে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাননি নাগরিকরা। পরে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে দেশে করোনার প্রকোপ কমলে এই হাসপাতালে করোনার চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এখন দেশে করোনা সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়লেও চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়নি। গত ২২ এপ্রিল ডিএসসিসি মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস পরিদর্শনে গিয়ে ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে এ হাসপাতালে রোগী ভর্তি শুরু হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, এখন তিনতলা বিশিষ্ট হাসপাতালটির শুধু বহির্বিভাগে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় করোনা রোগীদের চিকিৎসায় স্থাপন করা শয্যাগুলোতে কয়েক স্তরে ধুলাবালি পড়ে আছে। এর মধ্যে প্রতিটি কক্ষের দরজায় তালা লাগানো। চিকিৎসক এবং নার্সদের কক্ষগুলোতেও তালা লাগানো। তবে আইসিইউ ইউনিট বেশ পরিষ্কার। শয্যা এবং যন্ত্রগুলো সারিবদ্ধভাবে সাজানো। সেখানে কাউকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়নি।
পুরান ঢাকার আরমানিটোলার বাসিন্দা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, একটি দেশে স্বাস্থ্য খাতে অব্যবস্থাপনা কতটা বেহাল তা মহানগর জেনারেল হাসপাতালের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। মাসের পর মাস আইসিইউ শয্যা খালি, চিকিৎসক-নার্স নেই। অথচ প্রায় প্রতিদিনই করোনা আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালে ছুটে যান। কিন্তু অনেকেই জানেন না এই হাসপাতালে এখন করোনার চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয় না।
ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক প্রকাশ চন্দ্র রায় বলেন, গত এপ্রিলের শুরুতে ৫৬ জন মেডিকেল অফিসার ও ৬০ জন নার্সসহ টেকনোলজিস্ট, ওয়ার্ডবয় ও ক্লিনারের চাহিদা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা তা দেননি। পরে জনবল আরো কমিয়ে চেয়েছি, তাও পাইনি। এ নিয়ে শুধু চিঠি চালাচালিই চলছে।
ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতালটি পরিচালনা করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ। এই বিভাগের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. শরীফ আহমেদ বলেন, হাসপাতালটিতে করোনা চিকিৎসা দেওয়ার জন্য সব ব্যবস্থা রয়েছে। এখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় জনবল পেলেই চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করা যাবে।
জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকার কল দিলেও তারা ধরেননি।





