অফিস থেকে টেনে বের করে শিক্ষকের গায়ে কেরোসিন!

সংগৃহীত ছবি

অপরাধ

অফিস থেকে টেনে বের করে শিক্ষকের গায়ে কেরোসিন!

  • চট্টগ্রাম ব্যুরো
  • প্রকাশিত ৩ জুলাই, ২০১৯

চট্টগ্রামে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (ইউএসটিসি) অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদকে অফিস থেকে বের করে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে দিয়েছে একদল শিক্ষার্থী। গতকাল মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটে।  মেধাবী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে এর আগে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন একদল শিক্ষার্থী। এ ঘটনার সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীরাই জড়িত বলে সন্দেহ পুলিশের। শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার পর ওই শিক্ষার্থীরাই দুপুরে আবার নগরীর খুলশীতে ইউএসটিসি ক্যাম্পাসের সামনে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। শিক্ষককে লাঞ্ছিত করা ও সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ক্যাম্পাসে যায়। পুলিশ যাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা সড়ক থেকে সরে যান।  নগর পুলিশের বায়েজিদ বোস্তামি জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) পরিত্রাণ তালুকদার বলেন, অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদের বিরুদ্ধে এর আগেও যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে আন্দোলনে নামেন কিছু  শিক্ষার্থী। এরপর মাসুদ মাহমুদের পদত্যাগ দাবিতে সরব হন। আজ তারা এই শিক্ষকের গায়ে কেরোসিন ঢেলে দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।

ইউএসটিসির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার দিলীপ কুমার বড়ুয়া বলেন, স্যার একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয় মানুষ। কিছু শিক্ষার্থী প্রকাশ্যে স্যারকে অফিস থেকে টেনে বের করে গায়ে কেরোসিন ঢেলে দিয়ে অপমান করেছে। এই অপমান শুধু স্যারের নয়, আমাদের সব শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও। আমরা স্যারের পাশে আছি। যারা শিক্ষকের গায়ে হাত দেয়, তারা কেমন ছাত্র! এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) বিজয় বসাক এবং খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রণব চৌধুরী ঘটনাস্থলে যান। তারা ইউএসটিসির উপাচার্যসহ শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

উল্লেখ্য, ইংরেজি সাহিত্যের কোর্স কারিকুলামের অংশ হিসেবে বেশ কয়েকটি কবিতা পড়াতে গিয়ে নারী-পুরুষের জৈবিক সম্পর্ক, বিভিন্ন শারীরিক প্রক্রিয়া, পোশাক নিয়ে ক্লাসে নিয়মিত আলোচনা করেন শিক্ষক মাসুদ মাহমুদ। সেসব বিষয়কে যৌন হয়রানি হিসেবে অভিযোগ তুলে ইউএসটিসির একদল শিক্ষার্থী গত এপ্রিলে তার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামেন। তবে মাহমুদের দাবি, ইংরেজি বিভাগের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি কয়েকজন শিক্ষককে চাকুরিচ্যুত করেন। তাদের ইন্ধনে শিক্ষার্থীদের একাংশ তার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলতে থাকেন। অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদ ইউএসটিসির ইংরেজি বিভাগের উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত আছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসরের পর তিনি ইউএসটিসিতে যোগ দেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads