নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির(ডিপিডিসি)এনওসিএস মুগদাপাড়া ডিভিশনে দুর্নীতির মহাউৎসব। অদৃশ্য ক্ষমতায় চলছে রমরমা ঘুষ-বাণিজ্য। পেনাল বিল মওকুফের আবেদন খারিজের খবর জানে না ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষ। ফাইলটি উপরে না পাঠিয়ে মতিঝিলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (এসই) আবদুল মজিদ একক ক্ষমতা বলে নথিটি মুগদা ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে ফেরত পাঠান। রিকসাচালক গ্যারেজ মালিক আরকানের প্রতি অন্যায় ও জুলুম করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য,অঘোষিত লাইনম্যান মেট ওহিদুর রহমান (আইডি নং-২১২০৬)ওরফে আকাশ এবং অফিস সহকারি নজরুল ইসলামের (আইডি নং-২০৫২৩) তাদের জমে উঠেছে রমরমা ঘুষ বাণিজ্য। দুজনের বাণিজ্যের কৌশল ভিন্ন ভিন্ন। আকাশের উৎকোচের ধরণ প্রি-পেইড মিটারে রিচার্জ করতে টোকেন ডিজিট ভুল হলে মিটাৱ অটোলক হয়ে যায়। মিটার লক সমস্যা এবং অফিসের অনুমতি ছাড়া লোড বৃদ্ধি,নাম পরিবর্তনসহ নানা অপকর্মের সাথে জড়িত লাইনম্যান মেট। তিনি সকাল থেকে গ্রাহকের অভিযোগ নাম ঠিকানা কাস্টমার নাম্বারসহ প্রয়োজনীয় তথ্য লিপিবদ্ধ করেন। এসব সমস্যা অফিসকে অবহিত করা আকাশের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু তিনি কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে সন্ধ্যার পর তালিকা সাথে একটি ল্যাপটপ নিয়ে ছুটে যান গ্রাহকের ঠিকানায়।
অভিযোগ লিপিবদ্ধের সময় গ্রাহককে জানিয়ে দেন মিটারের সফটওয়্যার ফি ২ হাজার তার যাতায়াতের বাবদ দিতে হবে এক হাজার। সন্ধ্যার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মিটার পরির্দশন করে মিটার পরিবর্তনসহ গ্রাহককে নানাভাবে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করেন। এতে মিটার পরিবর্তন করতে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার হিসেব ধরিয়ে দেন। বাড়ির মালিক খরচ কমাতে বিকল্প ব্যবস্থা দাবি করেন আকাশের নিকট। তিনি মিটারে কারিশমা করে গ্রাহকের কাছে সফটওয়্যার ফি ২০০০ থেকে তিন হাজার যাতায়াত ভাড়া বাবদ এক হাজার মোট ৪ হাজার টাকা প্রতি মিটারে ঘুষ নিয়ে থাকেন। গত মাসের ২৯ মে রাত ৯,৫০ মিনিটে আকাশ মান্ডার প্লট বি ৫৩ রোড নং-৫-গ্রীণ মডেল টাউনের-কাস্টমার নং ২৫৯২৪৯৯৫। গ্রাহকের বাসায় গিয়ে টাকার বিনিময়ে মিটারের সফটওয়্যার দিয়ে সমস্যা সমাধান করে দেন।
তবে সফটওয়্যার ফি গ্রহণের কোন সুযোগ নেই ডিপিডিসিতে। প্রসঙ্গগত, গত ১৯ মার্চ প্রি-পেইড মিটার সমস্যার অভিযোগ আসে ৫টি,২৪ তারিখে ৬টি এবং ২৫ মার্চ তিনটি। গত ১৯ মার্চ অভিযোগ করেন মো,হুমায়ন কবির,উত্তর মুগদা জান্নাতবাগ। যার কাস্টমার নং-২৫৫৬৬৯০৬ এবং গ্রাহক নাম্বার-০২০২২০০৯৭৭৩। মো,শাহজাহান,নন্দীপাড়া আর্দশপাড়া (ও) গলি। তার গ্রাহক নাম্বার-০২০৪২০০০৮৬৩৯ এবং কাস্টমার নং-২৫৯৭০৫১৮সহ ৫টি মিটারের সমস্যা। ২৪ মার্চ ৬টি মিটারের অভিযোগ। গ্রাহকের নাম রাহেলা রহমান,মদিনাবাগ ৫৮/৩৪/১ডি মুগদা। কাস্টমার নাম্বার ২৫৯৫৮৯০৯ গ্রাহক নং-০২০৪২০০০১০৩০ অপর গ্রাহকের নাম,আফরুজা সুলতানা,দরগাও,৬ নং রোড শাহেব আলীর গলি। ২৫ তারিখে যে সব মিটার থেকে টাকা নিয়েছে সেই গ্রাহকের নাম মো,আবুল কাশেম,৮০/১ সি কদমতলা বাসাবো,হক প্রজেক্টের সাথে। যার কাস্টমার নং -২৫৯৪৩২১১,গ্রাহক নাম্বার ০২০৪২০০০৫৩৯৯ পরের গ্রাহকের নাম-রাজিয়া বেগম,উত্তর মানিকদিয়া,জান্নাত নুর জামে মসজিদ। তার কাস্টমার নং-২৫৮০৭৫২২ এবং গ্রাহক নাম্বার-০২০২২০০৫৫৭০০।
আকাশের নতুন কৌশল বাইপাস মিটারের লক নিষ্পত্তি করতে ডিপিডিসি ডিভিশন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হয়। সে ক্ষেত্রে ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষ মিটার বাইপাস (মিটারে রিডিং কমাতে) করার অভিযোগে গ্রাহককে মোটা অঙ্কের টাকা জরিমানা করে থাকে। সেই জরিমানার টাকা এবং পূণঃসংযোগ গ্রহনে ব্যাংককে ২২০০ টাকা টেম্পারিং ফি জমা দিয়ে আবেদন করতে হয়। গ্রাহক জরিমানা দেয়ার ভয়ে লাইনম্যান মেট আকাশের সাথে যোগাযোগ করেন। গত কয়েকদিন আগে ৫৬ মান্ডার আবদুল গফুর,যার কাস্টমার নাম্বার-২৫৯৪৮২৭৮ গ্রাহক নং-০২০৪২০০০৪১২২। ওহিদুর রহমান আবদুল গফুরের বাসার মিটার টেম্পার দিয়ে ৫০০০ টাকা নিয়ে আসেন। যার খবর জানে না কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।মিটার টেম্পার দেয়ার কোন প্রমাণ রাখে না আকাশ। তবে সার্ভার চেক করলে আকাশের অপকর্ম ধরা পড়বে।
এদিকে মুগদা ডিভিশনের আওতায় নবনির্মিত কোন বাসায় নতুন সংযোগ গ্রহণ করতে হলে ভবন মালিককে ওয়্যারিং ছাড়পত্র প্রদান করতে হয়। কাস্টমার ঝামেলায় না জড়িয়ে ওই ডিভিশনের অফিস সহকারী নজরুল ইসলামের সাথে কন্ট্রাক করেন। পাঁচ হাজার টাকায় নজরুলের কাছে পাওয়া যায় ছাড়পত্র। রাজধানীর নন্দিপাড়া ১ নম্বর সড়কে বাড়ি নং- ৬১/১ সেমিপাকা বাড়িসহ তিন কাঠা জায়গা কিনেছেন নজরুল ইসলাম। ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া আবদুল মজিদ বলেন এই বাড়ির মালিক বিদ্যুতের এক কর্মকর্তার। স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুর রহমান জানান,এই এলাকায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা কাঠা। নজরুলের ওই বাড়ির দাম ৭৫ থেক ৮০ লাখ টাকা। সএদিকে পেনাল বিল মওকুফের আবেদন বাতিলের খবর জানে না ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষ।
রাজধানীর শাহীবাগ দক্ষিণগাঁও রিকশাচালক আরকানের বিল তদন্তপূর্বক পেনাল বিল সংশোধন চেয়ে ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে আবেদন করেন । এমডি আবেদনটি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন পরিচালক অপারেশন কিউ এম শফিকুল ইসলামকে।
তিনি গত ফেরুয়ারী বিষয়টি আমলে নিয়ে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। এনওসিএস মুগদা ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহে আলম নোটে কমিটি গঠনের সুপারিশ করে ফাইল পাঠান মতিঝিল ডিভিশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (এসই) আবদুল মজিদের কাছে। প্রায় তিন মাস পর ফাইলটি উপরে না পাঠিয়ে মুগদা ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে ফেরত পাঠান বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য। কর্তৃপক্ষের নির্দেশকে তোয়াক্কা না করে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং নির্বাহী প্রকৌশলী পরস্পর যোগসাজশে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত বাতিল করেন। যার কিছুই জানেন না ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষ। ১/ নির্বাহী প্রকৌশলী মাহে আলম, ২/ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবদুল মজিদ, ৩/ পরিচালক অপারেশন কিউ এম শফিকুল ইসলাম, ৪/ এমডি নোমান, ৫/ সচিব হাবিবুর রহমান,৬/ Ohidur, ৭/ নজরুল ইসলাম।





