মুক্তমত

অটোরিকশা চলাচল বন্ধ এবং কিছু কথা

  • প্রকাশিত ৯ জানুয়ারি, ২০২১

জেবিন সাজ্জাদ

 

 

 

বগুড়া বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদ। বলা যায়, স্বাধীনতার আগে যে কয়টি বৃহত্তর জেলা ছিল, তার মধ্যে বগুড়া অন্যতম। বগুড়া শহর বাংলাদেশের অন্যতম ব্যস্ততম একটি শহর, যার আয়তন প্রায় ৭২ বর্গকিলোমিটার। আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা ও গোছানোর জন্য বগুড়া শহর সবার কাছেই অত্যন্ত পছন্দনীয় একটি শহর। বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র হলো সাতমাথা। প্রাণকেন্দ্র এজন্যই বলা হয়, কারণ বগুড়া শহরে ঢোকার যতগুলো রাস্তা রয়েছে সবগুলোর একমাত্র কেন্দ্র এই সাতমাথা। সম্প্রতি বগুড়া জেলা পুলিশ ও পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে বগুড়া শহরের সব ধরনের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, অটো, সিএনজি সাতমাথায় ঢোকায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এতে অনেকেই যেমন সাধুবাদ জানাচ্ছেন, আবার অনেকেই অনেক দুর্ভোগে পড়েছেন। আবার কেউ-বা ফেসবুকে কীবোর্ডে অটোরিকশা স্থায়ীভাবে বন্ধ করার ক্ষেত্রে পূর্ণ সমর্থনও জানিয়েছেন। এখন একটু পেছন ফিরে দেখা যাক। বগুড়া শহরে আগে প্যাডেলচালিত রিকশা, টেম্পো ছিল। এরপর আজ থেকে ১৩-১৪ বছর আগে বগুড়ায় প্রথম সিএনজি অটোরিকশা চালু হয়। আস্তে আস্তে বগুড়া শহরের প্রধান প্রধান জায়গা যেমন- সাতমাথা-বনানী, সাতমাথা-চারমাথা, তিনমাথা, সাবরুল, রাণীরহাট; দত্তবাড়ী-মহাস্থানগড়, সোনাতলা, শিবগঞ্জ, বাতপুর; চকযাদু-নিশিন্দারা; চেলোপাড়া-জোড়গাছা, গোলাবাড়ী, সারিয়াকান্দি, গাবতলী, ফুলবাড়ী, দুর্গাহাটাসহ বিভিন্ন জায়গায় সিএনজি অটোরিকশার চলাচল সম্প্রসারণ হয়ে যায়। বর্তমানে এই রুটগুলোতে প্রায় কয়েক হাজার সিএনজি চলাচল করছে।

অন্যদিকে বেশ কয়েক বছর আগে চীন থেকে আমদানি করা ব্যাটারিচালিত অটো, অটোরিকশা বগুড়া শহরে চলাচল শুরু করে, যার মাধ্যমে বগুড়া শহরে বিভিন্ন রুটে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে চলাচল করে। এর মধ্যে সাতমাথা-বনানী, বড়গোলা-মাটিডালি, চেলোপাড়া-সাবগ্রাম অন্যতম। এছাড়া শহরে আস্তে আস্তে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মাধ্যমে যাতায়াত ব্যবস্থা হয়েছে আরো সহজ ও আরামদায়ক। বগুড়া শহরের সব মানুষ নিরবচ্ছিন্নভাবে শহরের এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাতায়াত করতে পারছেন। তবে সম্প্রতি যে উদ্যোগ বগুড়া জেলা পুলিশ নিয়েছে, তাতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সাতমাথা রুটে বা এর অভিমুখে যাতায়াতকারী অটো, অটোরিকশা, সিএনজি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা চালকরা এবং যাত্রীসাধারণ। কেননা শহরের ইয়াকুবিয়ার মোড়, পার্ক রোড, জজকোট এলাকা, বড়গোলা মোড় ও নবাববাড়ীতে যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে, তাতে কার্যত শহরের বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে শহরের প্রাণকেন্দ্র বা মেইন শহরকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে, আর এতেই মূলত দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীসাধারণ।

যারা চেলোপাড়া বা কালিতলায় যাবেন তারা অবশ্যই সোজা, সরাসরি এতদিন সাতমাথার ওপর দিয়ে চলাচল করেছেন। কিন্তু এখন কীভাবে তারা যাবেন এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। উত্তর একটাই, যে রাস্তা ধরে তারা আসতেন সাতমাথায়, সেই রাস্তার যেখানে বন্ধ করা হয়েছে সেখানে নেমে হেঁটে সাতমাথা অতিক্রম করে আবার বেশ খানিকটা পথ পেরিয়ে সামনে অটো বা অটোরিকশায় করে যেতে হবে। এতে সময় যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি দুর্ভোগের মাত্রাও বেড়েছে।

যদিও এটা সত্য যে, বগুড়া শহরে যানবাহনের সংখ্যা অনেক বেড়েছে, শৃঙ্খলাও প্রয়োজন তবে শৃঙ্খলাটা অবশ্যই এভাবে কাম্য নয়। এতে হয়তো সাতমাথায় যাত্রী, যানবাহনের চাপ কমেছে তবে যে জায়গাগুলোয় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে, সে জায়গাগুলোতে অনেক যানজটও সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি যারা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে সাতমাথার ওপর দিয়ে যাতায়াত করতেন, তারাও সরাসরি যেমন যেতে পারছেন না, তেমনি চরম ভোগান্তিতেও পড়েছেন। সমাজকর্মীদের মতামত, সব ধরনের ব্যাটারিচালিত যানবাহনকে লাইসেন্সের আওতায় এনে শিফটভিত্তিক চালনার ব্যবস্থা করে একটি শৃঙ্খলিত ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব। এর ফলে সাতমাথা অবরুদ্ধ করে রাখতে হবে না। পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু স্ট্যান্ড এরিয়া/পার্কিং এরিয়া এবং ওই পার্কিং এরিয়ার যান সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দিয়ে সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে।

 

লেখক : শিক্ষার্থী, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বগুড়া

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads