সোনারগাঁ(নারায়ণগঞ্জ)প্রতিনিধি:
আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসন দীর্ঘ ১০ বছর পর আওয়ামী লীগর নেতাকর্মীরা দলীয় প্রতীক নৌকায় ভোট দেওয়ার সুযাগ পেয়েছন।
এ আসন গত ১০ বছর আওয়ামী লীগ নৌকা প্রতীকের কোন প্রার্থী না দেওয়ার কারনে বঞ্চিত হন নেতাকর্মীরা। ২০১৪ সালের নির্বাচন সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত মুক্তিযাদ্ধা মোশারফ হোসেনকে মনোনয়ন দিয়েও তার প্রত্যাহার করে নেন।
২০১৮ সালের নির্বাচন এ আসন জাতীয় পার্টিকে আসন ছাড় দেওয়ার কারনে ভোট দেওয়ার আর সুযাগ পায়নি। ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে সাবেক সাংসদ ও সোনারগাঁ উপজলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কায়সারকে নৌকার প্রতীকের প্রার্থী ঘোষনা করন। প্রার্থী ঘোষনার পর থেকে এ আসন আবারও জাতীয় পার্টিকে ছাড় দেওয়ার গুঞ্জন উঠে।
মহাজোটের আসন বন্টন জাতীয় পার্টিসহ শরীক দলকে আওয়ামীলীগ ৩৩টি আসন ছড় দেয়। এর মধ্যে জাতীয় পার্টিকে ২৬ আসন ছাড় দেওয়া হয়। এর মধ্য নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন এ বছর জাতীয় পার্টির ছাড় না দেওয়ার কারণ আব্দুল্লাহ আল কায়সারই নৌকা প্রতীকের প্রার্থী রয়ে যান। তাছাড়া জাতীয় পার্টির বর্তমান সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকাও লাঙ্গল প্রতীক গত রবিবার মনানয়ন পত্র প্রত্যাহারর শেষ দিন মনোনয়ন প্রত্যাহার করে না নেওয়ার কারণে এ আসন নৌকা ও লাঙ্গলের লড়াই হবে।
ফলে ১০ বছর নৌকা প্রতীকে ভোট বঞ্চিত নেতাকর্মীরা এবার ভালোবাসার প্রতীক নৌকায় ভোট দিতে পারবেন। এতে করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎফুল্লতা দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযাগ মাধ্যমে ফেসবুকেও সোনারগাঁর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদর বিভিন্ন মধ্যে সরগম হয় উঠছে।
এদিকে গত রবিবার মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারর শেষ দিন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্রপ্রার্থী হিসেবে মনানয়ন প্রত্যাহার করছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের নৌকার মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল কায়সারের স্ত্রী রুবিয়া সুলতানা, তার চাচাতো ভাই এরফান হোসেন দীপ, সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির ছেলেও নগদের নির্বাহী পরিচালক মারুফুল ইসলাম ঝলক। তবে মনোয়ন প্রত্যাহার করনেনি স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা এএইচএম মাসুদ দুলাল।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানান, এ বছর আওয়ামীলীগ ঘোষনা দিয়েই আসছেন জাপাকে কোনভাবেই এ আসন ছাড় দেওয়া হবে না। অবশেষে এটাই সত্যি হলো। আওয়ামী লীগের মহাজোটের আসন বন্টন জাপাকে এ আসন ছাড় দেওয়া হয়নি।
২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন এ আসন জাপাকে ছাড় দিলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অভিভাবকহীন হয়ে পড়তেন। আসন ছাড় না দেওয়ার কারনে আমরা উজ্জীবিত হয় উঠছি। প্রাণহীন আওয়ামী লীগ এখন উজ্জীবিত। নির্বাচনের অবশেষে দীর্ঘ ১০ বছর পর দলীয় প্রতীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলাম।
এ আসন নৌকা ও জাপার মনোনীত প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্ধিতা করবেন বাংলাদশ তরীকত ফেডারেশন (বিটিএফ) প্রার্থী মা. মুজিবুর রহমান মানিক, বিএনএম দলের এবিএম ওয়ালিউর রহমান খাঁন, বিকল্প ধারা বাংলাদশর নারায়ণ দাস, বাংলাদশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসএম) দলের প্রার্থী মা. আসলাম হাসাইন ও মুক্তিজোটের মা. আরিফ।
সোনারগাঁ উপজলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলী হায়দার বলন, দীর্ঘ অপেক্ষার পর জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয় দলীয় সিদ্ধান্তে আবদুল্লাহ আল কায়সারই দলীয় প্রার্থী রয়ে গেলেন। এ আসন নির্বাচন নৌকা ও লাঙ্গল প্রতীক প্রতিদ্বন্ধিতা হবে। ১০বছর নৌকার কোন প্রার্থী ছিল না। এ বছর নেতাকর্মীরা নৌকা প্রতীক পেয়ে উছ্বাসে ভাসছেন। ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকা প্রতীককে বিজয়ী করবো।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আবদুল্লাহ আল কায়সার বলেন, সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয় প্রতিদ্বন্ধিতা করবো। আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের জয় হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকা প্রতীককে জয়ী করে প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেওয়া হবে।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বর্তমান সাংসদ ও জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকর প্রার্থী লিয়াকত হোসেন খোকা বলেন, নির্বাচনে আমার উন্নয়ন দেখে ভোট দিবেন জনগন। জনগনই আমার শক্তি। আশা করি আবারো সোনারগাঁবাসী আমাকে লাঙ্গল প্রতীক ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করবেন।





