ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার সারুটিয়া ইউনিয়নে জসিম উদ্দিন নামে ৩২ বছরের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার বিকেল ভাটবাড়িয়া গ্রামের রাস্তায় ৩-৪ জনের একটি দল তাকে উপুর্যপরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। সে ওই গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে এবং নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মাহমুুদুল হাসান মামুনের সমর্থক। প্রতিপক্ষ আনারস প্রতীকের প্রার্থী জুলফিকার কায়সার টিপুর সমর্থকরা তাকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেছে তারা পরিবার।
স্থানীয়রা জানায়, জসিম উদ্দিন তার চাকরিস্থল ঢাকা থেকে বাড়িতে এল পাশের রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। ৩-৪জন অস্ত্রধারি যুবক তাকে অতর্কিতে ছুরিকাঘাত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় একজনকে আটক করে তারা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
এ নিয়ে গত দুই দিনে প্রতিপক্ষের হামলায় নৌকার তিন কর্মী নিহত হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার সকালে হারান বিশ্বাস (৬৫) নামে নৌকা প্রতীকের আরেক এক কর্মী মারা গেছেন এবং নির্বাচনী অফিস ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। একই হামলায় আহত হয়েছেন ২০ জন। আহতদের শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে মারাত্নক আহত রবিউল ইসলাম, রজব আলি ও ইয়ারুল ইসলামকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার সন্ধাায় এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসি জানায়, হারান বিশ্বাস, রবিউল ইসলাম, রজব আলি ও ইয়ারুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মী সমর্থকরা নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর অফিসে বসে থাককাালিন প্রতিপক্ষ প্রার্থী জুলফিকার কায়সার টিপুর সমর্থকরা তাদের ওপর অতর্কিতে হামলা করলে অন্তত ২০ জন আহত হয়। আহতদের শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে হারান বিশ্বাস চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যান।
শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি জানান, হত্যাকারিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে। নিহত হারান বিশ্বাসের মরদেহ ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে ময়না তদন্তের পর ফেরত এসেছে এবং জন্য পাঠানো হয়েছে এবং জসিম উদ্দিনের হত্যা বিষয়ে মামলার পর তা ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে।
এছাড়া, রাজনৈতিক দল পরিবর্তণ করায় শৈলকুপার পৌরমেয়র কাজী আশরাফুল আজমের সমর্থকদের রামদায়ের কোপে আহত যুবলীগ কর্মী ১৪ দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় শুক্রবার ভোরে মারা গেছেন। তার নামাজে জানাজা শনিবার সকালে কবিরপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সভাপতি ও ঝিনাইদহ-১ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হাই জানাজা অনুষ্ঠানে উপস্থিৎ ছিলেন।
এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে ওসি জানান।





