লালমনিরহাটে এক ঘরে তিন পরিবার

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ফতোয়া জারি

লালমনিরহাটে এক ঘরে তিন পরিবার

  • লালমনিরহাট প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২১ মে, ২০২১

লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের ছেকনাপাড়া নামক গ্রামে তিন পরিবারকে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে এক ঘরে করে রাখার অভিযোগ উঠেছে সমাজপতিদের বিরুদ্ধে। গত ১৩ মে (ঈদের আগেরদিন) ফতোয়া জারি করে ওই ৩ পরিবাকে এক ঘরে করে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়।

ওই এলাকার মসজিদ ঈমাম মওলানা সহিদার রহমানের জারি করা ফতোয়া মতে, ওই তিন পরিবারের মানুষকে এলাকার অন্যান্য মানুষের সাথে মেশা, কোনো লেন-দেন, দোকানপাটে ক্রয় বিক্রয় না করার নিষেধাজ্ঞা এমনকি তাদের ক্ষেত খামারে কোন শ্রমিক কাজ না করার উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বর্তমানে ওই তিন পরিবারের লোকজনের সাথে এলাকার কোনো মানুষ কথা বলছে পারছে না। 

অবশেষে ফতোয়ার শিকার ভুক্তভূগী ওই ৩ পরিবার  বৃহস্পতিবার (২০মে) মসজিদ কমিটির সদস্য আব্দুল মতিন ও ঈমাম মওলানা সহিদার রহমানের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন।

লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন থেকে ওই ছেকনাপাড়া গ্রামের রিয়াজুল ইসলামের সাথে একই গ্রামের আব্দুল মতিনের পরিবারের জমি-জমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। আব্দুল মতিন এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় ওই এলাকার ৬০ বছরের বৃদ্ধ রিয়াজুল ইসলাম, ৭০ বছরের বৃদ্ধ ইসাহাক আলী ও ৯০ বছরের বৃদ্ধ এমাদ উদ্দিন সরকার এর পরিবারের সাথে গত কয়েক মাস থেকে ভয়ে প্রতিবেশিরা মেলামেশা বন্ধ করে দিয়েছে। অবশেষে গত ১৩ মে আব্দুল মতিন ও ছেকনাপাড়া বাইতুল মাকাম জামে মসজিদ এর ঈমাম মওলানা সহিদার রহমান মিলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ওই ৩ পরিবারের লোকজনের উপর ফতোয়া জারি করে এক ঘরে করে রাখে।

ফতোয়ার শিকার বৃদ্ধা এমাদ উদ্দিন জানান, শুধু পারিবারিক বিরোধের জেরে আব্দুল মতিন ও তার সহযোগিরা আমার পরিবারকে এক ঘরে করে রেখেছে। এই বৃদ্ধ বয়সে আমি কার কাছে গিয়ে বিচার চাই?

ভুক্তভোগী এছাহাক আলী জানান, প্রভাবশালী আব্দুন মতিন এর সাথে তার পূর্বে বিরোধ ছিল। এরই জের ধরে আমার পরিবারের উপর ফতোয়া জারি করে। এলাকার লোকজন ওই প্রভাবশালীর ভয়ে আমাদের সাথে কোন কথা বলে না এমনকি মসজিদের চাঁদাও নেয় না। এছাড়াও গত ঈদের নামাজ পড়তেও আমাদের বাঁধা দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আব্দুল মতিন জানান, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা। এমন কোন ঘটনাই এলাকায় ঘটেনি।  তবে মসজিদের ঈমাম মওলানা সহিদার রহমান  এ ব্যাপারে কোন কথা বলতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত পূর্বক দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads