সীমা আক্তার ছোঁয়া, সাভার প্রতিনিধি:
সাভারের রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১০ বছর পূর্ণে স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নিহত আহতদের স্বজন ও শ্রমিকসহ বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা।
সোমবার (২৪ এপ্রিল) সকালে সাভার বাসস্ট্যান্ডে রানা প্লাজার সামনের স্মৃতিস্তম্ভ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তারা।
এ সময় গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট, গার্মেন্টস শ্রমিক লীগসহ বেশ কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন রানা প্লাজার স্মৃতি স্তম্ভের সামনে মানববন্ধন করেন। এ বছর তারা ৭ দফা দাবিতে কর্মসূচি পালন করে।
দাবিগুলো হচ্ছে—সব দোষীদের পরিচয় জনগণের সামনে এনে ভবন মালিক সোহেল রানাসহ দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি, রানা প্লাজার নিহত শ্রমিকের প্রতিনিধি ৪০ লাখ পোশাক শ্রমিকের জন্য অবিলম্বে মজুরি বোর্ড ও ন্যূনতম মজুরি ২৫ হাজার টাকা।
মজুরি বৃদ্ধির আগ পর্যন্ত ৬০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা, ক্ষতিপূরণের আইন বদল করে এক জীবনের ক্ষতিপূরণ, আহত শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা ভাতা ও প্রয়োজনীয় পুনর্বাসন, রানা প্লাজা এলাকা যথাযথ সংরক্ষণ ও স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি, সব শ্রমিকের জন্য মালিক-সরকার ও বায়ারের উদ্যোগে জরুরি তহবিল গঠন ও ২৪ এপ্রিল শোক ও নিরাপত্তা দিবস হিসেবে সব কারখানা বন্ধ ঘোষণা করার দাবিও তারা জানিয়েছেন।
উক্ত মানববন্ধনে শ্রমিক নেতারা বলেন, ১০ বছর আগে এই দিনে হাজারের বেশি শ্রমিক ভবনের নিচে চাপা পড়ে মারা যায়। নিহত শ্রমিক ও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের জন্য চারটি দাবি জানিয়ে তারা আরোও বলেন, রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের এক জীবনের আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন ব্যবস্থা করা, রানা প্লাজা ঘটনার জন্য দায়ী সবার বিচারের ব্যবস্থা করা, দেশের শ্রম আইন সংস্কার করে শ্রমিকবান্ধব আইন গড়ে তোলা, দেশের সব শিল্প খাতে আহত শ্রমিকদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা ও সরকারি ভাতার ব্যবস্থা করতে হবে।
এছাড়া , শ্রমিকদের নিরাপত্তা জোরদার করার আহ্বান জানান তারা।
উল্লেখ্য, বাণিজ্যিক এ ভবনে পাঁচটি পোশাক কারখানা ছিল। এসব কারখানায় বসানো হয় বৈদ্যুতিক ভারী জেনারেটর, ভারী সুইং মেশিন। রানা প্লাজা ধসের আগের দিন ভবনের তৃতীয় তলায় ফাটল দেখা দেয়। কিন্তু মালিকপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা না করে পরদিন পাঁচটি পোশাক কারখানা চালু করে।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকাল ৯টায় রানা প্লাজায় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। তখন একসঙ্গে পোশাক কারখানাগুলো তিনটি জেনারেটর চালু করে। ঠিক তখনই রানা প্লাজা ভবন বিকট শব্দ করে ধসে পড়ে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়। এসময় ভবন ধসে প্রায় এক হাজার ১৩৬ জন শ্রমিক মারা যান। এ ঘটনায় আহত হন সহস্রাধিকের বেশি শ্রমিক।
এর আগে তিন দিন যাবৎ চার দফা দাবিতে ঢাকার শহীদ মিনারে অনশন করছেন রানা প্লাজায় আহত কয়েকজন শ্রমিক।





