লালমনিরহাট জেলার ২৮৪ কিলোমিটার সীমান্তপথ। এর ৫৪ কিলোমিটার অংশে নেই কাটাতারের বেড়া। অরক্ষিত ওই সীমান্ত অংশে নেই আলোকিত করার কোনো ব্যাবস্থা। সন্ধ্যা হলেই নেমে আসে অন্ধকার। কাটাতারের বেড়াবিহীন সীমান্তের মোগলহাট ও দুর্গাপুর অংশে মিশে আছে দুৃ’দেশের নদী। আর এ সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে দুই দেশের মাদক ব্যবসায়ীরা। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের আঁধারে পাচার করছে ফেনসিডিল ও গাঁজার বড় বড় চালান। অরক্ষিত সীমান্তপথ এখন মাদক পাড়াপাড়ের নিরাপদ রূট।
অনুসন্ধানে জানা যায়, জেলার মোগলহাট, দুর্গাপুর, লোহাকুটি, দইখাওয়া, জাওরানী, বুড়িমারী ও দহগ্রামসহ সীমান্তের অন্তত ১৯টিরও বেশি পয়েন্ট দিয়ে গাঁজা ও ফেনসিডিল পারাপার করছে চোরাকারবারি সিন্ডিকেট। আর চরকী দিয়ে গরু পারাপারের সাথেও সীমান্ত পেরিয়ে দেশে আসছে গাঁজার বড় চালান। এদিকে কাঁটাতারের বেড়াবিহীন ৫৪ কিলোমিটার সীমান্তের মোগলহাট ও দুর্গাপুর অংশে দুৃ’দেশের মধ্যে মিশে আছে রত্নাই নদী। এ কারণে খুব সহজেই নৌকা দিয়ে সীমান্তের মোগলহাট ইউনিয়নের গোড়ক মন্ডল, মেঘারাম এবং পার্শ্ববর্তী কুড়িগ্রাম জেলার বালারহাট এলাকা দিয়ে পাড় হচ্ছে ফেনসিডিল ও গাঁজার বড় বড় চালান। সম্প্রতি গাঁজার বেশ কয়েকটি বড় চালান পুলিশ ও বিজিবি’র হাতে ধরা পড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মাদক মামলার আসামী কয়েকজন চোরাকারবারির সাথে কথা বলে জানা গেছে, সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে মাদক ব্যবসায়ীদের রয়েছে নিয়োগপ্রাপ্ত লাইনম্যান। আর ওই লাইনম্যানদের মাধ্যমে সীমান্তে বিজিবি’র স্থানীয় বিওপি ক্যাম্প, সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশকে নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে তারা মাদক পারাপার করে থাকেন। এছাড়াও নিয়মিত মাসোহারা নেওয়া নামের তালিকায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য, স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি এমনটি স্থানীয় সংবাদকর্মীদের নামও রয়েছে। আর এদের প্রকাশ্য মদদে মাদক ব্যবসায়ীরা এখন শক্তিশালী সিন্ডিকেটে পরিণত হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরো কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী বলেন, সীমান্তপাড়ের মানুষের কৃষি কাজ ছাড়া অন্য কোনো কাজের ব্যবস্থা নেই। তাছাড়া বিএসএফের আতঙ্কে অনেক সময় কৃষি কাজও ভালোভাবে করতে পারেন না। এছাড়া কাজের তেমন কোন সুযোগ না থাকায় অনেকটা বাধ্য হয়েই তারা চোরাকারবারির সাথে যুক্ত হয়েছে। তারা অভিযোগ করে বলেন, কয়েক বছর আগে মোগলহাট, দুর্গাপুর, লোহাকুটি ও দইখাওয়া সীমান্তের কয়েকশত মাদক ব্যবসায়ী মাদক ছেড়ে আলোর পথে ফিরে আসে। তখন প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা তাদের ফুল দিয়ে বরণ করেন। কথা ছিল তাদের কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু তাদের কর্মসংস্থানের কোন ব্যবস্থা করা হয়নি, এমনকি তাঁদের তেমন খোঁজ খবর না নেয়ায় তারা আবারও পুরনো ব্যবসা মাদক কেনা বেচা শুরু করে।
এ ব্যাপারে লালমনিরহাট ১৫ ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল এস এম তৌহিদুল আলম জানান, সীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিজিবির কঠোর নজরদারী ও জোর তৎপরতা রয়েছে। তবে সব চাইতে জরুরী জনসচেতনতা বৃদ্ধি করে সমন্বিতভাবে কাজ করা। এজন্য তিনি জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিদের এগিয়ে আসারও আহ্বান জানিয়েছেন।





