শ্রীপুরে সারাহ্ রিসোর্ট থেকে মহাবিপন্ন দুটি মায়া হরিণ উদ্ধার

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

শ্রীপুরে সারাহ্ রিসোর্ট থেকে মহাবিপন্ন দুটি মায়া হরিণ উদ্ধার

  • শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ৪ জুলাই, ২০২২

গাজীপুরের শ্রীপুরে সারাহ্ রির্সোট থেকে মহাবিপন্ন দুটি মায়া হরিণ উদ্ধার করেছে বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের একটি দল। গতকাল রোববার বিকালে রাজাবাড়ি ইউনিয়নের চিনাশুখানিয়া গ্রামের ওই থেকে হরিণ দুটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া দুটি হরিণ সাফারি পার্কে অবমুক্ত করা হয়। হরিণ উদ্ধার অভিযানে সাফারি পার্কের কর্মকর্তারাও সঙ্গে ছিলেন। বিপন্ন মায়ার হরিণ দুটি বেআইনি এ বিষয়টি জানান পর পার্ক কর্তৃপক্ষ হরিণ দুটি হস্তান্তর করতে রাজি হয়। প্রথমে দিতে রাজি না হলেও পরে তাদের ভুল স্বীকার করে দুটি হরিণ হস্তান্তর করেন।

বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের জুনিয়র ওয়াইল্ড লাইফ স্কাউট সাদেকুল ইসলাম জানান, বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের প্রাণী পরিদর্শক নার্গিস সুলতানা লিজার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। পরে সারাহ্ রির্সোট থেকে উদ্ধার হওয়া দুটি মায়া হরিণ শেখ মুজিব সাফারি পার্কে হস্তান্তর করা হয়। উদ্ধারের সময় পার্কের ভেটেরিনারি সার্জনসহ অন্যন্যরাও উপস্থিত ছিলেন। হরিণ জব্দ করার সময় শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মীর বজলুর রহমানও আমাদের সঙ্গে ছিলেন।

তবে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে সারাহ্ রিসোর্সের পক্ষ থেকে কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে কেউ কথা বলতে রাজি হয়নি।

বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক (ওসি) নার্গিস সুলতানা লিজা বলেন, সম্প্রতি শ্রীপুরের ভাংনাহাটি এলাকায় বিরল প্রজারি একটি লজ্জাবতি বানর স্থানীয়রা আটক করে। পরে আমরা খবর পেয়ে তা উদ্ধার করে লাউয়াছড়াতে অবমুক্ত করি। কিন্তু প্রশ্ন হলো এমন প্রাণী এ অঞ্চলে আসার কোনো সুযোগ নাই। তাই আমরা নজর দেই আশপাশের বড় বড় রির্সোটে। ধারণা করা হয়, বিরল লজ্জাবতী বানর কোনো কোনো রির্সোট থেকে বের হয়ে মানুষের কাছাকাছি বলে আসে। পরে মানুষ তা ধরে ফেলে। এরি মধ্যে আমরা গাজীপুরের বিভিন্ন রির্সোটে খোঁজ রাখছি কোনো বন্য প্রাণী আটকে রাখা হচ্ছে কি না। নজরদারি সময় গোপন সংবাদে জানতে পারি সারাহ্ রির্সোটে দুটি মহাবিপন্ন মায়া হরিণ রাখা আছে। পরে সে দুটি জব্দ করা হয়। এ নিয়ে তাদের সাথে কথা বললে প্রথমে দিতে রাজি হয়নি। পরে বন্য প্রাণী আইন সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে অবহিত করা হয়। বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২ তাদের বুঝানো হলে, পরে তাদের ভুল স্বীকার করে আমাদের কাছে দুটি মায়া হরিণ হস্তান্তর করেন।

তিনি বলেন, ২০১২ সালের বন্য প্রানী আইন অনুযায়ী হরিণের এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত ও বাংলাদেশে মহাবিপন্ন। এটি এখনো অল্প কিছু সুন্দরবনসহ আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় দেখা যায়। তিনি জানান, দুটি হরিণের মধ্যে একটি নারী অন্যটি পুরুষ হরিণ। তিনি আরও বলেন, উদ্ধারের পর হরিণ দুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে সাফারি পার্কের হরিণ বেষ্টনীতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads