মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে ঘরমুখো মানুষের মিছিল

ছবি: বাংলাদেশের খবর

যোগাযোগ

মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে ঘরমুখো মানুষের মিছিল

  • সালাহউদ্দিন সালমান, সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ)
  • প্রকাশিত ১২ মে, ২০২১

করোনা অনেক মানুষের জীবন এলোমেলো করে দিয়েছে। আয়-রোজগার বন্ধ। কর্মহীন হয়ে দীর্ঘদিন বেকার। লকডাউনের ধাক্কায় বহু প্রতিষ্ঠান বিপর্যস্ত। কোনোটি এখনো বন্ধ, কোনোটি চালু হলেও হয়েছে অনেক ছোট পরিসরে। ফলে অনেক কর্মীকে চাকরি হারাতে হয়েছে ও হচ্ছে। ছোটখাটো ব্যবসা করতেন এমন অনেকে গত এক মাসের লোকসান সামলে উঠতে পারছেন না। এর মধ্যে রয়েছে ঈদের পরে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের শঙ্কা। তাই ঈদ ছুটি পরে কাজের সুযোগ হবে এমন নিশ্চয়তাও নেই। তাই উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা নিয়ে নিরুপায় হয়ে ঢাকা ছাড়ছেন কর্মহীনরা। বর্তমানে করোনার কারণে লকডাউন থাকায় অর্থনৈতিক মন্দা চেপে বসেছে বাংলাদেশেসহ পুরো বিশ্বে। এ সময় কারও চাকরি চলে গেছে। কারও বেতন কমেছে। আবার কারও কারও কর্মক্ষেত্রই বন্ধ হয়ে গেছে। একদিকে আয়ের পথ বন্ধ, অন্যদিকে বেতন সংকুচিত হওয়ায় অনেকের পক্ষেই ঢাকা শহরে পরিবার নিয়ে বাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। মাস শেষে বাসা ভাড়া, গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল, ইন্টারনেট-ডিশ বিলসহ নানা খরচে দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে বহু মানুষের জীবন। শহরের ব্যয়ভার বহন করতে না পেরে বাধ্য হয়ে গ্রামে ফিরে যাচ্ছেন এসব কর্মহীন মানুষ। কেউ কেউ মালপত্র রেখেই যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন, বেসরকারি চাকরিজীবী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, গার্মেন্ট শ্রমিক, ছাত্র-শিক্ষক ও বিভিন্ন পেশার মানুষ।

আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে ঢাকা মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে সিএনজি অটোরিকশা এবং হেঁটে বাড়িমুখী যাওয়া মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়,লকডাউনের প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলে প্রবেশ করতে ঢাকা মাওয়া সড়ক দিয়েই বাড়িতে ফিরতে হয় এছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে বিকল্প কোন রাস্তা নেই।  তারা আরো জানান, রাস্তায় কোন বড় বাস নেই কোন প্রকার গণপরিবহন নেই।সিএনজি অটোরিকশা ছাড়া তাও ভাড়া আয়ত্বের বাইরে সবকিছু জেনেশুনেই এক প্রকার যুদ্ধে নেমেছে বলে জানান মাদারীপুরের এক যাত্রি।

যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে উদাসীনতা দেখা গেছে। ঢাকা মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে যেনো মোটর সাইকেল সিএনজি আর মানুষের দীর্ঘ মিছিল। রুটে বড় গাড়ি নেই কিন্ত লোকে লোকারণ্য। সেখানে নেই সামাজিক দূরত্ব, নেই স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই। গাদাগাদি করে এক সিএনজির ভিতরেই উঠছে ৮/৯ জন ভাড়া নাগালের বাইরে। সব মিলিয়ে মানুষের দুর্ভোগ চরমে বলে জানান,দণিাঞ্চলে যাওয়া এক মহিলা যাত্রী জান্নাত আরা বেগম।

লকডাউন আর ঈদ কে কেন্দ্র করে ধলেশ্বরী প্রথম ব্রিজ সংলগ্ন টোলপ্লাজায় দেখা গেছে দক্ষিণবঙ্গের যাত্রীদের উপচেপরা ভিড় সিএনজি ড্রাইভারদের কণ্ঠে ছিলো আক্ষেপ। তারা বলছিলো,  আমরা ঢাকা মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মূল সড়ক দিয়ে যাচ্ছি না আমরা সিএনজি চালিয়ে যাচ্ছি সাইটের সড়ক দিয়ে তবুও জোর করে টোলপ্লাজার কর্মকর্তারা আমাদের থেকে দ্বিগুণ টাকা নিচ্ছে অন্য সময় এই রাস্তা ব্যাবহার করলে আমাদের কোন টোল দিতে হতো না।যে যেভাবে পারছে টাকা নিচ্ছে বলে জানান মটরসাইকেলের যাত্রীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় টোলপ্লাজার মাঝখানে বিজিবি পুলিশের গাড়ী পুলিশ আনসারসহ সরকারি অনেক কর্মকর্তা ।কেউ কেউ গাড়ী ছাড়ছে কেউ তর্ক করছে। মানুষের উপচেপড়া ভিড় সামাল দেওয়া দায় বলে জানান

রাস্তায় কোন যানবাহন তেমন নেই,তবে মটরসাইকেলের বহর ছিলো চোখে পড়ার মতো ধলেশ্বরী টোলপ্লাজা থেকে মটরসাইকেলে জন প্রতি মাওয়া ঘাটে ৩ শত থেকে ৪ শত টাকা ভাড়া নিচ্ছে। পিকআপ ভ্যান মাঝে মাঝে সিএনজি করে মানুষ যাচ্ছে নাড়ীর টানে বাড়ি।মেঘবৃষ্টিতে মানুষের দুর্ভোগ ছিলো চরম বিপর্যস্ত। হাসাড়া হাইওয়ে থানার কর্মরত ডিউটি অফিসার এস আই সাকিব বলেন ঢাকা মাওয়া মহাসড়কে গণপরিবহণ চলাচল বন্ধ হলেও ইমারজেন্সি এ্যাম্বুলেন্স পণ্যবাহী গাড়ী,আর বিশেষ প্রয়োজনে গাড়ি চলাচল অব্যাহত আছে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads