আ ন ম সানাউল্লাহ-চট্টগ্রাম :
কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেলের ভিতর ও চারপাশে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জানা গেছে, কার রেসিং আর সেলফি তোলার মত ঘটনা ঘটার পর এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
টানেল উদ্বোধনের পর কার রেসিং, অনিয়ন্ত্রিত দ্রুত গতির বাস চালিয়ে প্রাইভেট কারকে পিছন থেকে ধাক্কা দেওয়া, টানেলের ভেতর সেলফি তোলা এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে টোল প্লাজার প্রবেশ মুখে রেলিং এ ধাক্কা দেওয়ার মত কয়েকটি ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, টানেলের ভিতর অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর ঘটনায় সাতটি গাড়ি শনাক্ত হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে মামলা প্রক্রিয়াধীন।
গভীর রাতে টানেলের ভেতরে দ্রুতগতিতে ১০টি গাড়িকে প্রতিযোগিতা করতে দেখা যায়। টানেলের নির্ধারিত গতিসীমা ৬০ কিলোমিটার অতিক্রম করেছিল প্রাইভেট কারগুলো। তাছাড়া গাড়ি গুলো টানেলের বাইরে প্রবেশ মুখেও বিপদজনক ভাবে প্রতিযোগিতা করছিল ফলে সেখানে থাকা লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
টানেলের আনোয়ারা প্রান্তের অদূরে মূল সড়কে প্রাইভেট কারগুলোর কসরত করার ভিডিও পাওয়া যায়।
গত রোববার রাত ৩টার দিকে টানেলের আনোয়ারা প্রান্তে টোল প্লাজায় একটি প্রাডো গাড়ি ‘অসাবধানতাবশত’ আন্ডারভিহিকেল স্ক্যানিং সিস্টেমের রেলিংয়ের বাম্পারে ধাক্কা দেয়। এতে রেলিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এরপর সোমবার রাতে টানেলের ভেতরে নগর ছাত্রলীগের এক নেতা এবং সাতকানিয়া উপজেলার একটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ ৫ জনের তোলা ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
সবশেষ টানেলের ভেতরে একটি বাস পিছন থেকে দ্রুতগতিতে একটি প্রাইভেট কারকে ধাক্কা দেয়। সেই ভিডিও মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এসব ঘটনা বিষয়ে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফেরদাউস সাংবাদিকদের বলেন, “কার রেসিং ও দুর্ঘটনার বিষয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছে। পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।
তিনি আরো জানান, দেশের প্রথম টানেল হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘কৌতুহল ও উৎসাহ’ বেশি হওয়ায় শুরুতে ‘কিছু’ ঘটনা ঘটলেও পরে এমন আর ঘটবে না বলে আশাবাদী টানেল কর্তৃপক্ষ।
টানেলের ভিতর লেন ক্রসিংয়ের অনুমতি নেই। এছাড়া টানেলের ভিতর নেমে হাঁটাচলা বা সেলফি তোলায় নিষেধাজ্ঞা আছে। মোটর সাইকেল ও থ্রি হুইলার চলাচলও করতে পারবে না টানেলের ভেতরে।
টানেলের সহকারী প্রকৌশলী (টোল ও ট্রাফিক) তানভীর রিফাত বলেন, “আমরা সার্বক্ষণিক মনিটিরিং করছি। আমাদের তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে। নৌবাহিনী, পুলিশ এবং আমাদের সিকিউরিটি টিম সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে। সবাই নিয়মিত পেট্রোলিং করছি, যাতে এ ধরনের কিছু আর না ঘটে।
কার রেসিং এর ঘটনায় জড়িত গাড়িগুলোর বিষয়ে নগর পুলিশের উপ-কমিশনার শাকিলা সুলতানা জানান, “সাতটি গাড়ি শনাক্ত করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে টানেল কর্তৃপক্ষ মামলা করার উদ্যোগ নিয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে। মামলা হওয়ার পর মালিকদের শনাক্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





