প্রেমের ফাঁদে হিজড়াকে বিয়ে, যুবকের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি : সংগৃহীত

সারা দেশ

প্রেমের ফাঁদে হিজড়াকে বিয়ে, যুবকের বিরুদ্ধে মামলা

  • শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় নাছরিন আক্তার নামে এক নারী হিজড়াকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে লুসানুর রহমান (লুসান) নামে এক যুবক ১৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই যুবকের নামে মানিকগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।

মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নারী হিজড়া নাছরিনের সঙ্গে পরিচয় হয় শৈলকুপা উপজেলার বিজুলিয়া গ্রামের খাসিয়ার রহমানের ছেলে লুসানের। লুসান তখন তেজগাঁও পলিটেকনিক্যাল কলেজের ছাত্র ছিল। নাছরিনের আদি বাড়ি খুলনা হলেও তিনি মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার নিহন্দ গ্রামে বসবাস করেন। তার পিতার নাম আব্দুল গাফফার শেখ। পরিচয় থেকে পরিণয়ের দিকে গড়ায় নাছরিন লুসানের সম্পর্ক। ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারী নোটারি পাবলিকে ৫ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্যে তাদের বিয়ে হয়। এজাহারে বাদীর ভাষ্যমতে বিয়ের আগে ও পরে স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্রের মাধ্যমে লুসান ব্যবসার কথা বলে ১৫ লাখ টাকা নিয়েছে। পরে আরো ৪ লাখ সহ সর্বমোট ১৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। টাকা নেওয়ার পর লুসান স্ত্রী নাসরিনকে এড়িয়ে চলে। টাকার জন্য ঘুরতে থাকলে লুসান বিভিন্ন সময় হুমকি ধামকি ও সে কোন টাকা নেয়নি বলে অস্বীকার করতে থাকে। নিরুপায় হয়ে নাছরিন স্বামী লুসানের বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জের আদালতে ২০১৮ সনের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় মামলা দায়ের করেছে। যার নং সিআর-১৩০/২০। বর্তমানে প্রথম স্ত্রী নাছরিনের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে লুসান।

নাছরিনের আত্মীয় স্বপন জানায়, নাছরিন ও লুসান কলকাতা বেড়াতে গিয়ে একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে নাছরিনকে হত্যার চেষ্টা চালায়। মাথায় আঘাত করে নাসরিনকে ঘরে ফেলে নগদ টাকা নিয়ে চম্পট দেয় লুসান।

শৈলকুপার মনোহরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তফা আরিফ রেজা মন্নু ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, লুসানের সঙ্গে নারী হিজড়া নাছরিনের বিয়ে হয়েছে। বিয়ের সুত্রে বিজুলিয়া গ্রামে দীর্ঘদিন সংসার করেছে নাসরিন। তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিকে বিয়ে করার বিষয়টি প্রথমদিকে এলাকায় মুখরোচক হলেও এর বাস্তবতা ভিন্ন। অসহায় নাসরিনকে ঠকিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা এলাকার মানুষ জানে। এ বিষয়ে অসহায় নাসরিন ও তার পরিবার অনেকবার আমার কাছে এসেছে, তাদেরকে আইনী আশ্রয় নিতে পরামর্শ দিয়েছি। এ সংক্রান্তে বাদীর নিকট অডিও ভিডিও স্থিরচিত্রসহ নানা তথ্য প্রমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads