যে-কোনো উৎসব-পার্বণ মানেই ছোটদের আনন্দ-উল্লাস। আর সেই আনন্দঘন মুহূর্তে সবার আগে চাই শিশুর পোশাক। কারণ ঘরকে আনন্দে উল্লাসে মাতিয়ে রাখে ঘরের ছোট ছেলেমেয়ে বা নাতি-নাতনিরাই। আর ছোটদের আনন্দকে মাতিয়ে তুলতে ফ্যাশন ডিজাইনার ও বিক্রেতারা ঐতিহ্য, আধুনিকতম পোশাকের নানারঙের সমাহার নিয়ে হাজির হয় শিশুদের উৎসবের পূর্ণতা দিতে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। দুর্গাপূজা নির্দিষ্ট ধর্মের সীমানা পেরিয়ে সর্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে বলে ‘সর্বজনীন দুর্গোৎসব’ নামেই এখন অভিহিত করা হয়। পূজার কয়েকটি দিন বাবা-মা কোলে চড়ে কিংবা দাদা-দিদির হাত ধরে সোনামনিরা ছুটে বেড়াবে এ মণ্ডপ থেকে ও মণ্ডপ। ঘুরে ঘুরে ঠাকুরকে প্রণাম জানানোটাই যেন তাদের কাছে মহার্ঘ্য!
শিশুরা স্পর্শকাতর। তাই তাদের পোশাক বাছাইয়ে চাই বিশেষ সতর্কতা। ছোটদের পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে আরামদায়ক ও সহজ কাটের পোশাকের দিকেই লক্ষ্য রাখার কথা জানান বিশেষজ্ঞরা।
ধুতি-পাঞ্জাবি, ঘাগারা-চোলি, তাঁতের শাড়ি, ফতুয়া, চুড়িদার ইত্যাদি পূজার ঐতিহ্যবাহী পোশাকের কদর আজকাল কিছুটা কমেছে। তার বদলে জায়গা করে নিয়েছে আধুনিক সব পোশাক। ফ্যাশন হাউস বিশ্বরঙ-এ ছেলে শিশুদের জন্য এন্ডি, মসলিন ও সুতি কাপড়ে এমব্রয়ডারি কাজের পাঞ্জাবি পাওয়া যাচ্ছে। ছেলেশিশুদের চেয়ে মেয়েশিশুদের পোশাক হয় অনেক বৈচিত্র্যময়। দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলোতে মেয়েশিশুদের জন্য তাঁতে বোনা শাড়িসহ মসলিন, কাতান, এন্ডি কটনের শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে। সেইসাথে বাহারি সালোয়ার-কামিজ, বর্ণিল ঘাগরা-চোলির সম্ভার নিয়ে এসেছে ফ্যাশন হাউসগুলো।
বিশ্বরঙ সাধ্যের ভেতর পূজার আনন্দ ছড়িয়ে দিতে নজরকাড়া শারদ সংগ্রহ নিয়ে এসেছে এই ফ্যাশন হাউস। বড়দের পাশাপাশি ছোটদের উৎসবকে রাঙিয়ে দিতে থিম হিসেবে পোশাকে স্থান পেয়েছে মন্দির ও প্রতীক, দেবীর অলংকার, শতরঞ্জি। কাপড় হিসেবে কটন, হাফসিল্ক, সেমি-পিউর, লিলেন প্রাধান্য পেয়েছে। মূল রং হিসেবে লাল, নীল, পিচ, কমলা, হলুদ, ব্রাউন, লাইট অলিভ, গেরুয়া ইত্যাদি প্রাধান্য পেয়েছে। পোশাকের নকশাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে নানা ভ্যালু অ্যাডেড মিডিয়ার ব্যবহারে। এর মধ্যে জায়গা পেয়েছে স্ক্রিন প্রিন্ট, ব্লক প্রিন্ট, হাতের কাজ, প্যাচওয়ার্ক, কারচুপি ইত্যাদি। শারদ সংগ্রহে ছোটদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন ধরনের অনন্য ডিজাইনের পোশাক-বেবি শাড়ি, থ্রিপিস, কামিজ, ফ্রক, পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, শার্ট, ধুতি, উত্তরীয় ইত্যাদি।
ঐতিহ্যবাহী জমকালো পোশাকের পাশাপাশি ফর্মাল পোশাকের ক্ষেত্রে, ছেলেশিশুদের ট্রেন্ডি শার্ট-প্যান্ট-ফতুয়া রয়েছে। থাকছে জিনস্ আর গ্যাবার্ডিনের হাল ফ্যাশনের প্যান্ট। মেয়ে শিশুদের বেলায় বিভিন্ন ডিজাইনের থ্রিপিস-পার্টি ফ্রক-স্কার্ট-টপস্-লেগিংস-ক্যাপ্রি পাওয়া যাচ্ছে।
কোথায় মিলবে কেমন দরদাম : যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা সিটি, অরচার্ড পয়েন্ট, গুলশান, বনানীর বিভিন্ন মার্কেটের ফ্যাশন আউটলেটগুলোতে পাওয়া যাবে শিশুদের বর্ণিল পোশাক। এ ছাড়া বিশ্বরঙ, রঙ বাংলাদেশ, নিত্য উপহার, আড়ং, দেশাল, নিপুণ, ইনফিনিটিসহ প্রায় সব ধরনের ফ্যাশন হাউসেই বড়দের পাশাপাশি ছোটদের পোশাকে তুলে ধরেছেন নিজস্ব ডিজাইন। ঘরে বসে কিনতে চাইলে, ভিজিট করতে পারেন ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইট। ফ্যাশন হাউসগুলোতে পোশাকের কাজ অনুযায়ী পাঞ্জাবির দাম পড়বে ৫০০ থেকে ৩,৫০০, ফতুয়া ২৫০ থেকে ১,২০০, সালোয়ার-কামিজ ৭০০ থেকে ৭,০০০, ফ্রক ৫৫০ থেকে ২,৫০০, টি-শার্ট ২০০ থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত।





