দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়নের খেজুরবাগ জিরো পয়েন্ট হয়ে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কটির বেহাল অবস্থা। জনসাধারণের চলাচলে চার বছরেও সংস্কার হয়নি, ময়লার স্তূপে সয়লাব সড়কের উপরে ময়লা ফেলার কারণে হাঁটুসমান কাদামাটি ও ময়লা জমে আছে। ময়লা আবর্জনার স্তূপের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে জনসাধারণের জীবনযাত্রা, যান চলাচল বন্ধ। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছে ৬ গ্রামের প্রায় ৩ লাখ মানুষ।
এলাকাবাসী জানান, ঢাকা-মাওয়া হাইওয়ে সড়কে সংযুক্ত খেজুরবাগের জনসাধারণ, স্কুল, মাদরাসা, কলেজ, ইউনিভার্সিটির ছাত্রছাত্রীদের সহজে চলাচলের জন্য একমাত্র মাধ্যম এ সড়কটি। জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অবহেলার কারণে প্রায় চার বছর সংস্কার ছাড়াই পড়ে আছে সড়কটি। এতে করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির মাত্রা বেড়েই চলেছে। ময়লার গন্ধে এলাকার বাসাবাড়ির মানুষের থাকা দায় হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী আরো জানান, সড়কটি ভালো না থাকায় বাসাবাড়িতে ভালো ভাড়াটিয়া আসতে চায় না। বাড়ির মালিকরা ব্যাংক লোনের কিস্তি পরিশোধে অক্ষম হয়ে পড়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিযোগ করে বলেন, এলাকার জনপ্রতিনিধিরা নিজেরা পাজেরো গাড়িতে চলেন। এই সড়ক ব্যবহারের তাদের দরকার হয় না। তিনি আরো বলেন, তার পরিষদের কাছে সাধারণ জনগণ পানিতে হাবুডুবু খায়, তার খবর রাখেন না জনপ্রতিনিধিরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-মাওয়া সড়কঘেঁষে খেজুরবাগের ১ মাইল সোয়া ১ কিলোমিটার সড়কটির বেহাল দশা। পথ চলতে জুতা খুলতে হয়, হাঁটু কাদামাটি ময়লায় পা খিসখিস করে। এটা যে রাজধানীর পরিকল্পিত কেরানীগঞ্জ মনেই হয় না। জানা গেছে, এলাকাবাসীর সুবিধার্থে কয়েক বছর আগে স্থানীয় সরকার সড়কটি পিচঢালাই করে দেয়। শুভাঢ্যা ইউনিয় ও তেঘরিয়া বিভিন্ন এলাকার বাসাবাড়ির ময়লা আবর্জনা সড়কের দুপাশে ফেলা হয়। পর্যায়ক্রমে ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে ধীরে ধীরে পুরো সড়কটি ময়লা আবর্জনায় পরিণত হয়।
কোরানীগঞ্জের খেজুরবাগ, মুহুরীপট্টি, পারগেন্ডারিয়া, সাতপাখি, মুসলিমনগর, কানাপট্টি, ঋসিপাড়া, শাপলানগর, কালিগঞ্জ, মীরেরবাগ এলাকার ৩ লাখ মানুষ ওই সড়কে চলাচল করে। সড়কের আশপাশে রয়েছে দুটি ব্যাংক শাখা, একটি সরকারি প্রাইমারি স্কুল, একটি হাইস্কুল, একটি দাখিল মাদরাসা, ৬টি বেসরকারি কওমি মাদরাসা, কিন্ডার গার্টেনসহ বিভিন্ন দোকান, রড ও সিমেন্ট ব্যবসা। এত জনবহুল সড়কের বেহাল দশার কথা শোনার কেউ নেই।
রড সিমেন্ট ব্যবসায়ী মাসুদ জানান, ‘সড়ক সংস্কার না করার কারণে মাসকে মাস দোকান ভাড়া দিয়ে চালান হারাতে বসেছি। এভাবে চললে কীভাবে কী করব জানি না।’ এলাকাবাসী এ বিষয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এবং কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
শুভাঢ্যা ইউপি চেয়ারম্যান হাজি মো. ইকবাল হোসেনের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে তার পরিষদে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার সচিব জানিয়েছেন, তিনি কয়েকদিন যাবৎ অসুস্থ, অফিস করছেন না। মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহ জাহান বলেন, ‘সড়কটির বিষয়ে আমরা অবগত। একাধিকবার সড়কটি নিয়ে আমরা আলোচনাও করেছি। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানিয়েছি। সড়কটি মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সুয়ারেজ লাইনের কাজের টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। অতিদ্রুত সুয়ারেজ লাইনের কাজ শুরু হবে।





