রামগঞ্জ বাস টার্মিনালের আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন রামগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহম্মদের বিরুদ্ধে সংগঠনের নামে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অথচ একই সংগঠনের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক দাবি করেন, তারা অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের বিষয়টি জানেন না। এ কারণে আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা ও কার্যকরী সভাপতি মিজানুর রহমানসহ পাঁচজন সংগঠন থেকে পদত্যাগ করেন।
আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির সাবেক কার্যকরী সভাপতি মিজানুর রহমান জানান, করোনাকালে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জানিয়ে দুই মাস গাড়ি বন্ধ ছিল। এ সময় আয় রোজগার বন্ধ হয়ে শ্রমিকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে দিনযাপন করেছেন। তখন তারা শ্রমিকদের কোনো সহযোগিতা করে নাই। গত দুদিন ধরে পরিবহন চলাচল শুরু হলে ফরিদ আহম্মদ পূর্বের মতো স্বাধীন বাংলা পরিবহন থেকে ৫০ টাকা ও নীলাচল পরিবহন থেকে ৮০ টাকা করে বাধ্যতামূলক চাঁদা আদায় করে যাচ্ছেন।
আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের রামগঞ্জ শাখা সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহম্মদ বলেন, আমি ১৯৮২ সাল থেকে পরিবহন খাতের সঙ্গে জড়িত আছি। আমাদের সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি শ্রমিক চাঁদা আদায় করছি। করোনাকালে অনেক শ্রমিকের বিকাশে টাকা পাঠিয়েছি। যারা অভিযোগ করছে, তারা আমার সুনাম নষ্ট করতে এসব অভিযোগ করেছে।
আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের রামগঞ্জ শাখার সভাপতি ছায়েদুল হক বলেন, এসব নানা সমস্যার কারণে আমি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। ৩০ টাকা করে চাঁদা আদায়ের নির্দেশনা আছে। অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের ব্যাপারে আমার জানা নেই।
আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক আবুল কাশেম বলেন, সংগঠনের নির্দেশনা অনুযায়ী ৩০ টাকার বেশি চাঁদা আদায়ের সুযোগ নাই। অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপ্তি চাকমা বলেন, উপজেলা প্রশাসন সরাসরি বাস ট্রার্মিনালে তত্ত্বাবধান করে না। পৌরসভার মেয়র বাস ট্রার্মিনাল ইজারাদাতা, তাই মেয়র তত্ত্বাবধান করে থাকেন।
রামগঞ্জ পৌর মেয়র আবুল খায়ের পাটোয়ারী বলেন, পৌরসভা নির্ধারিত চাঁদা বাইরে কেউ অতিরিক্ত কোনো চাঁদা নেয় কি না সেটা আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে জেনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





