ঈদ আনন্দ বঞ্চিত হতে চলেছে কৃষক পরিবারগুলো

ফাইল ছবি

সারা দেশ

ঈদ আনন্দ বঞ্চিত হতে চলেছে কৃষক পরিবারগুলো

  • প্রকাশিত ২০ মে, ২০১৯

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে কৃষক পরিবারে এবারে ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত হতে চলেছে।  কৃষকের ক্ষেতেই ঝড়ছে পাকা ধান, ধান কাটা শ্রমিক সঙ্কট ও ধানের দাম না থাকায় পাকা ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছে কৃষকেরা। ঈদ দুয়ারে কড়া নাড়লেও সেখানে নেই কোনো আমেজ। চরম দুর্ভোগে কাটছে কৃষকদের জীবন। ধান চাষে  করে চরম লোকসানের মুখে পড়ছে কৃষকরা। অর্থাভাবে পরিবার নিয়ে সংসার চালানো কষ্ট হয়ে পড়েছে কৃষকদের। তাই ঈদ আনান্দের কথা ভাবতেই পারছেন না কৃষক পরিবাররা।  বেশিরভাগ পরিবারেই নেই ঈদের কেনাকাটা।

বাগমারা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলায় ১৪ হাজার ২৭৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। শ্রমিক সঙ্কটের কারণে অনেক জমির  ধান কাটা হয়নি। এমনটি চিত্র উপজেলার প্রতিটি মাঠ জুড়ে। এবার বঞ্চিত হবেন ঈদ আনন্দ থেকে কৃষক পরিবারগুলো।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতা শূন্যতায় উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের দোকানিরা। উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারগুলোতে এ সময়টিতে জমজমাট বিক্রির কথা থাকলেও এ বছর দৃশ্য ভিন্ন পট। ঈদের বর্ণিল সাজে দোকানগুলো সাজলেও ক্রেতা কম।

উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের পিরিজপুর গ্রামের মাসুদ হাসান বলেন, শ্রমিক সংকোটে জমির পাকা ধান এখন পর্যন্ত কাটতে পারিনি। পাকা ধান জমিতেই পড়ে আছে। ধানের দাম না থাকায় শ্রমিকরা ধান কাটতে চাচ্ছে না। বর্তমানে ধানের যে দাম  জমির ধান বিক্রি করে উৎপাদন খরচ উঠবে না। সংসার চলবে কি দিয়ে? ঈদে আনান্দ পরের কথা।

উপজেলার ফরিদপুর গ্রামের কাশেম বলেন, ছেলে মেয়েরা ঈদের কেনা কাটার জন্য বায়না ধরেছে। ধান বিক্রি করে তাদের কেনাকাটা করে দিব বলেছি। কিন্তু কিস্তি তুলে জমি চাষ আবাদ করে ছিলাম। এক বিঘা জমি থেকে ধান কাটায় মাড়াই করতে ১০শ্রমিক লেগেছে । প্রতি শ্রমিকের মজুরি ৫০০ টাকা করে। ধানের যে দাম, জমির ধান বিক্রি করে কিস্তির টাকা পরিশোধ হবে না, ঈদের ভাবনা ভাববো কি করে?

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার শফিকুল ইসলাম জানান, শ্রমিক সঙ্কট ও ধানের দাম কম থাকায় কৃষক কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সরকার ১ হাজার টাকা মণ দরে ধান কিনছে। বাজারের তুলনায় দাম প্রায় দ্বিগুণ। এই দামে ধান যদি সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে কেনা হয় তাহলে কৃষক লাভবান হবে।  

গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধি

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads