বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় 'ফণীর' প্রভাবে বাগেরহাটে উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়। আর এ ঘুর্ণিঝড়ের কারণে দেখানো মোংলা বন্দরের ৭ নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে ৩ নম্বর স্থানীয় সর্তক সংকেতে নামিয়ে ফেলা হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরের পর হতে বাগেরহাট উপকুলের আকাশ স্বাভাবিক হতে শুরু করে। উপকুলীয় উপজেলা শরণখোলা, মোংলা, রামপাল এবং মোরেলগঞ্জের আশ্রয়কেন্দ্রে শুক্রবার রাতে আশ্রয় নেওয়া শত শত পরিবার ইতোমধ্যে নিজ বাড়িতে ফিরে যেতে শুরু করেছে। শুক্রবার রাত থেকে বন্ধ থাকা বিদ্যুৎ চালু হয়েছে। তবে শরনখোলা উপজেলার ৩৫/৩ বেরিবাঁধ দিয়ে শুক্র ও শনিবার জোয়ারের পানি ঢোকা অব্যহত থাকায় সেই এলাকার তিন গ্রামের ৫ শতাধিক পরিবার জলমগ্ন হয়ে রয়েছে।
ঘুণির্ঝড়ের প্রকোপ কেটে গেলেও বাগেরহাটের আকাশ জুড়ে মেঘ রয়েছে। থেমে থেমে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। সকালে বাগেরহাট জেলা সদরের দোকানপাঠ বন্ধ এবং রাস্তাগুলোতে জনসমাগম না থাকলেও দুপুর থেকে কর্মজীবিসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ স্ব স্ব কর্মে ফিরতে শুরু করেছে ।
মোংলা বন্দরের হারবার মাষ্টার মো: দুরুল হুদা জানান, ঘুনিঝড় ফণীর প্রভাব কেটে যাওয়ায় বন্দরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে ৩ নম্বর সংকেত জারি করা রয়েছে। বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। বিদেশি জাহাজসহ সব ধরনের যান চলাচল স্বভাবিক হয়েছে। পণ্য উঠানামাও শুরু হচ্ছে।
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবীদ আফতাব উদ্দীন জানান, শুক্রবার রাত থেকে বয়ে যাওয়া দমকা হাওয়ার প্রভাবে তেমন ক্ষতি হয়নি। জেলায় এ বছর ৫৬ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে বোরো মৌসুমে ধান চাষ করা হয়। এরমধ্যে মাত্র ১৪ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে এখনও ধান রয়েছে। দমকা হাওয়ায় ৭শ ১০ হেক্টও জমির ধান হেলে পড়েছে। কয়েকদিন আগে থেকে আবহাওয়ার সতর্ক সংকেত পাওয়ার পর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা ফসল ঘরে তোলার জন্য শতর্ক করে আসছে। ফলে মাত্র ২৫ ভাগ ধান মাঠে ছিল।
এবিষয়ে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কান্তি ঘোষ জানান, দূর্যোগপূর্ন আবহাওয়ার জন্য গতরাত থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ ছিল। দুপুরের আগেই বাগেরহাটের অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ফিরে এসেছে।
বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ জহিরুল ইসলাম জানান প্রাকৃতিক দূর্যোগ কেটে গেছে। এখন স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। বাগেরহাটে তেমন কোন ক্ষতি হয়নি। তারপরও ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।





