বন্যা সহনশীল ও উচ্চ ফলনশীল অ্যারাইজ এজেড হাইব্রিড ধান চাষ করে ব্যাপকভাবে সাফল্য পেয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার কৃষকরা। ইতোমধ্যে উচ্চ ফলনশীল এজেড হাইব্রিড-৭০০৬ জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। জমিতে নতুন ওই জাতের ধানের ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। বর্তমানে স্থানীয় কৃষকরা প্রাণভরে ধান কেটে মাড়াই কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সেই সাথে কৃষানীরা ও বসে নেই , তারাও মনের আনন্দে ধান শুকিয়ে গোলাই তুলার কাজে তাদেরকে সাহায্য করছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, উচ্চফলনশীল হাইব্রিড এ জাতের ধান স্বল্প সময়ে আবাদকৃত জমিতে বিঘা প্রতি ২০-২৩ মণ ধান উৎপাদন হয়। যা অন্য যে কোন ধানের চেয়ে বিঘাতে ৫ থেকে ৬ মণ বেশী উৎপাদন হচ্ছে। ফলে এ নতুন জাতের ধান চাষ করে কৃষরা অধিক লাভবান হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি রোপা আমন মৌসুমে পৌর শহরসহ উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে নতুন প্রযুক্তির উচ্চ ফলনশীল অ্যারাইজ এজেড হাইব্রিড ৭০০৬ জাতের ধান প্রথম অবস্থায় ৩০ বিঘা জমিতে আবাদ করা হয়। এ জন্য ৩০ জন কৃষককে সরকার কর্তৃক বিনামূল্যে বীজ ধান দেওয়া হয়।
মৌসুমের শুরু থেকেই আবহাওয়া ও প্রকৃতি ধান চাষের অনুকুলে থাকায় মাঠে কোনো রোগ বালাই না হওয়ায় ফলন ভাল হয়েছে। ফলে স্থানীয় কৃষকরা উচ্চ ফলনশীল নতুন জাতের এই ধান আবাদ করে বিঘা প্রতি ২০ থেকে ২৩ মণ ধান পেয়ে তারা এক প্রকার চমক সৃষ্টি করেন।
কৃষি কর্মকর্তারা জানায়, বন্যা সহনশীল হওয়ায় এ ধান লাগানোর পর ১২ দিন ৮ ফিট পানির নিচে ডুবে থাকার পরেও কোন ক্ষতি হয় না। পাশাপাশি এজেড ৭০০৬ ধান উচ্চ ফলনশীল হওয়ার ফলে এ ধানের জীবনকাল (বীজতলা থেকে শুরু করে) ১২০ দিন থেকে ১২৫ দিনের মধ্যে ধান কাটা যায়। বিঘা প্রতি অন্যান্য ধানের চাইতে ৫-৭ মণ ধান ফলনে বেশী হয়। বায়ার এর গবেষণালব্ধ পাতাপোড়া(ইখই) প্রতিরোধী চিকন হয় এই হাইব্রিড ধান।ফলন ভালো হওয়ায় এ উপজেলায় দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে এ ধান চাষ ।
এদিকে পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায় মাঠ জুড়ে এখন সোনালী ধানের সমারোহ। আগাম জাতের ধান কাটা নিয়ে স্থানীয় কৃষকরা এক প্রকার ব্যস্ত সময় পার করছেন । এছাড়া ধান গাছের উচ্চতাও রয়েছে ভাল। যা গো খাদ্যের চাহিদা মেটাতে সহায়ক হয়। তাছাড়া ধান চাষে রোগ বালাই না থাকার ফলে ফলন ভালো হওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা খুবই খুশি। তাই নতুন প্রযুক্তির উচ্চ ফলনশীল ধানটি আগামী বছর থেকে সবাই চাষ করতে আগ্রহী প্রকাশ করেন।
পৌর শহরের তারাগন এলাকার কৃষক আলহাজ্ব হেফজু মিয়া বলেন, এই মৌসুমে ১ বিঘা জমিতে প্রথম উচ্চ ফলনশীল অ্যারাইজ এজেড হাইব্রিড ৭০০৬ জাতের নতুন ধান চাষ করেছি। প্রথমে এ ধান নিয়ে অনেকটাই চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু ফলন ভালো হওয়ায় চিন্তা দুর হয়েছে। আমন মৌসুমে অন্য ধানের চেয়ে অধিক ফলন বেশী পেয়েছি। যা কল্পনা করা যায়নি। আগামীতে এ জাতের ধান বেশি বেশি করে চাষ করবে বলে জানায়।
দেবগ্রাম এলাকার কৃষক মো. জাকির হোসেন বলেন, এ মৌসুমে ১ বিঘা জমিতে উচ্চ ফলনশীল অ্যারাইজ এজেড হাইব্রিড ৭০০৬ জাতের ধান আবাদ করতে সরকার কর্তৃক বীজধান দেওয়া হয়। তবে শুরু থেকেই জমির অবস্থা ভালো ছিল। ইতিমধ্যে জমিতে ধান কাটা শেষে হয়েছে। এক বিঘা জমিতে তিনি ২২মণ ধান পেয়েছেন বলে জানায়। তিনি আরও বলেন এই নতুন জাতের ধান চাষ না করে অন্য কোন ধান চাষ করলে ১৫ মনের বেশী ধান পাওয়া যেতো না। তাই কম খরচ আর স্বল্প সময়ে এ ধানের ভালো ফলন পাওয়ায় তিনি খুবই খুশি।
কৃষক মো. আলমগীর বলেন এ মৌসুমে নতুন জাতের ধান চাষ করার ফলে কম খরচে আর স্বল্প সময়ে ভালো ফলন পাওয়া গেছে। যা অন্য ধান আবাদের চেয়ে অনেক বেশী। ধান কাটা শেষ হওয়ায় জমিতে অন্য ফসল করতে চিন্তা করছেন বলে জানায়।
আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন, ধান হলো আমাদের প্রধান ফসল। আর সে কারণেই ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে বর্তমান সরকার কৃষকদেরকে নানাভাবে সহযোগিতা করছেন। আমাদের উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান আবাদ করে দেশের খাদ্য ঘাটতি পূরণ করতে হবে। এজেড ৭০০৬ ধান আবাদ করতে এ উপজেলার দরিদ্র কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধানবীজ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে হাইব্রিড জাতের এজেড-৭০০৬ আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। এ ধান চাষে কৃষকরা লাভবান হচ্ছে বলে জানায়। তাছাড়া তিনি আরও বলেন আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এ মৌসুমে আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন তিনি।





