মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মৃত্তিকা বিজ্ঞান উদ্ভাবন করেছেন ‘বাউ সয়েল টেস্টিং কিট’। এই কিট ব্যবহার করে ফসল উৎপাদনে অধিক লাভবান হচ্ছে কৃষকরা। ফসলের চাহিদা অনুযায়ী সার সুপারিশ করতে বাউ সয়েল টেস্টিং কিট ভূমিকা রাখছে।
কিটটির মাধ্যমে মাটির অম্লতা-ক্ষারকতা, নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়াম নির্ণয় করে ফসলের জন্য সঠিক মাত্রার সার প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে। যার ফলে পরিমিত সার ব্যবহার করে কৃষকরা পূর্বের তুলনায় একই জমিতে একর প্রতি প্রায় দেড়গুন ফসল উৎপাদন করতে সক্ষম হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার দাতা সংস্থা এসিআইএআর এবং বাংলাদেশের কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে ধানসহ অন্যান্য ফসলের জমিতে পরিমিত মাত্রায় সার ব্যবস্থাপনার উপর একটি প্রকল্প (নিউম্যান) পরিচালনা করা হয়। প্রকল্পের একটি অংশ হিসেবে ময়মনসিংহ সদরের সুতিয়াখালী গ্রামের কৃষকরা এ সয়েল টেস্টিং কিট ব্যবহার করে আমন ধান ও অন্যান্য শস্যজাত ফসল চাষবাদ শুরু করে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নিজস্ব চাষ পদ্ধতির তুলনায় বাউ সয়েল টেস্টিং কিট ব্যবহার করে কম খরচে ও কম সময়ে মাটি পরীক্ষা করে। কিটটির পরামর্শ অনুসারে সার প্রয়োগ করে অধিক লাভবান হয়েছেন কৃষকরা।
প্রকল্পের আওতায় থাকা ময়মনসিংহের সুতিয়াখালী গ্রামের কামরুল হাসান নামের এক কৃষক বলেন, আমি আগে অনুমান স্বাপেক্ষে জমিতে সার প্রয়োগ করতাম। সার বেশি প্রয়োগ করেও ভালো ফলন পেতাম না। পরে আমি সয়েল টেস্টিং কিট যন্ত্রের মাধ্যমে আমার জমিতে সার প্রয়োগের পরিমাণ জানতে পারি এবং সে অনুযায়ী সার প্রয়োগ করি। আমার ২ একর জমিতে গত মৌসুমে ১২০ মন ধান পেয়েছিলাম। কিন্তু সয়েল টেস্টিং কিটের সহায়তায় সারের পরিমাণ নির্ণয় করে, সার প্রয়োগ করে ১৮০ মন ধান পেয়েছি।
ময়মনসিংহের কুষ্টিয়া ইউনিয়নের আরেক কৃষক মো. দুলাল উদ্দিন বলেন, আমার ২৪ বিঘা জমির অর্ধেকে আমি অনুমান নির্ভর সার প্রয়োগ এবং বাকি অর্ধেকে সয়েল টেস্টিং কিটের পরামর্শ অনুসারে সার প্রয়োগ করি। পরিমিত সার প্রয়োগের জমিগুলোতেই আমি অধিক ফলন পেয়েছি।





