চিত্রশিল্পী শাহনাজ সুলতানা। এ পর্যন্ত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বেশ কয়েকটি প্রদর্শনী করেছেন। অস্ট্রেলিয়াতে থিতু হলেও বার বার ফিরে আসেন তার প্রিয় মাতৃভূমিতে। বাংলার প্রকৃতি, নদী, খাল-বিল, পাখপাখালি, মেঠো প্রান্তর, পাহাড়, ফুল তথা বাংলার ঐতিহ্যের প্রতি তার তীব্র ঝোঁক। দেশকে ভালোবাসার পাশাপাশি দেশের জন্য অদ্ভুত এক টান অনুভব করেন এই শিল্পী। তাইতো সেই টানে আবার এসেছেন বাংলায়। করলেন তার একক চিত্র প্রদর্শনী ‘কালান্তর’। গত ১৭-২৩ জানুয়ারি, রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ সফিউদ্দিন শিল্পালয়ে হয়ে গেল শিল্পীর এই প্রদর্শনী। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন প্রধান অতিথি। ‘কালান্তর’ শিরোনামে এই আয়োজনে প্রদর্শিত হয় শিল্পীর সম-সাময়িক সময়ে আঁকা মোট ৩২টি ছবি। সব ছবিগুলোই ছিল এক্রাইলিক রঙের মাধ্যম আঁকা। ছবিগুলোর শিরোনামগুলো হলো- সম্ভাবনার এপাশ ওপাশ, ওই অজানার জানা, অপরাজিতা পরম্পরা, মুক্তির অন্বেষণে, দৃশ্যমান অদৃশ্য, জীবনের প্রতিফলন, সঞ্চিত সুখের সন্ধানে, সময়ের প্রেক্ষাপট, অজানা ওই অদূরে, অজানায় গল্পগাঁথা, মানুষের দুর্ভোগ, ছায়া ১, ছায়া ২, ১ সুখ, ধূসর মগ্নতা, প্রশান্তি ১, প্রলয়ের প্রতিবিম্ব, মুগ্ধতার বিশুদ্ধতায় পরম্পরা, আশা শৃঙ্খল, সময়ের প্রেক্ষাপট ২, আত্মমগ্নতায় নবজাগরণ। এ ছাড়াও ছিল এ থার্স্টি বার্ড, মোগল মিনিয়েচার, ইন্টিমেট-এসব শিরোনামের মিনিয়েচার। ‘জীবনের প্রতিফলন’ চিত্রের বর্ণনায় শিল্পী বলেন, ‘জীবন এক অপরিকল্পিত ধারাপাত। এর স্রোত আমাদের ভাসিয়ে নিয়ে যায় লৌকিক ও অলৌকিক, সামাজিক ও আনুষ্ঠানিক নিয়ম অনিয়মের ভিন্ন ধারায়। নারীর জীবনধারা নির্ধারিত হয় পরিবার ও পরিজনের ইচ্ছায়। এখানে আত্মার চাওয়া প্রায় মূল্যহীন। লৌকিকতার আস্তরণে মনের মাঝে বিরাজমান হয় ধূসর। উজ্বলতার আড়ালে বিবর্ণ সত্ত্বা উপলব্ধি করতে হয় একান্তে। শিল্পীর সৃজনশীলতায় সমাজের ছায়া বিরাজ করে। এই চিত্রকর্মটি সংগ্রামের অজানা যাত্রার গল্প প্রতিফলিত করার চেষ্টা।’
‘আত্মমগ্নতায় নবজাগরণ’ শিরোনামে ছবির বর্ণনায় বলেন, ‘এক অখণ্ড বাসনা নিয়ে জীবনের পথে পথে এগিয়ে চলা। আশা নামক অন্তমিলের সন্ধানে নিত্য প্রতীক্ষায় বেঁচে থাকা। জলের একটু পরশে যেমন জগতে প্রাণের সঞ্চার ঘটে তেমনি জীবনের মোহনায় এতটুকু স্বপ্নপূরণ নতুনভাবে বেঁচে থাকার প্রেরণা জোগায়। একবিন্দু আশাজাগা নিয়ে স্বপ্ন সময়কে বদলে দেয়। জীবনবোধ জাগে নতুন আবেদন।’
প্রদর্শনী সম্পর্কে শিল্পী বলেন, ‘আমার চিত্রকর্মে বিভিন্ন সময়ে মনের গভীর অনুভূতিগুলোই প্রকাশ পেয়েছে বেশি। আমি বিশ্বাস করি শিল্পসৃষ্টি হলো মন ও আত্মার প্রতিচ্ছবি। প্রকৃতির প্রতি মুগ্ধ থেকে সৃষ্টির খেয়াল আপন মনে বর্ণবিন্যাস আর আর নিজের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় চিন্তাভাবনার সংযোজন করে আপনাদের কাছে অনুভূতি প্রকাশ করে নিজের কাজকে সহজ সরল চিন্তার মাধ্যমে তুলে ধরে নিজেকে ধন্য মনে করছি।’
ছবি আঁকা প্রসঙ্গে এই শিল্পী বলেন, ‘আমি সবসময়ই মনে করি আমার জন্ম হয়েছে কেবলই ছবি আঁকার জন্য। একারণেই ছবি আঁকার মধ্যেই নিজের প্রাণ খুঁজে পাই। ছবি আঁকার ক্ষেত্রে কখনই আগেভাগে চিন্তা করি না। থিম নিয়েও ভাবিনা। কেবলই ক্যানভাসের সামনে বসে আঁকতে থাকি।’
শাহনাজ সুলতানা বড় হয়েছেন ঢাকা শহরেই। ৯০ দশকের প্রারম্ভে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাশ করেছেন। এক কন্যা সন্তানের জননী। জানালেন বিদেশে চলে গেলেও আবার ফিরবেন বাংলায়। কারণ এখানেই তিনি নিজের মনের প্রশান্তি খুঁজে পান।





