ইমদাদুল হক, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)
‘স্বামী ৩০ বছর আগে মারা গেছে। ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করছি। স্বামীহীন অবস্থায় থাকার স্থানটুকু নড়বড়ে। হামরা শুনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হামার মতো মানুষগুলাকে ঘর করি দিবের নাকচে। তোমরা মোর ছবি তোলেন বাহে। মোক কাইয়ো দ্যাখে না, ঘরের বেড়া নাই, ভাঙা ঘরোত থাকোং, ঝরি আইলে চালার ট্যারা দিয়ে পানি পড়ে, সউগ ভিজিয়ে যায়। মোক এলাও কেউ একটা ঘর করি দিল না। তোমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে মোর হয়া একটা খবর লেখ। চেয়ারম্যান, মেম্বারের কাছে গেইলে তারাও মোক কোনো পাত্তা দেয় না, মোক একটা ঘর করি দেও বাবা।’ কথাগুলো বললেন বয়সের ভারে নূয়েপড়া অশীতিপর বৃদ্ধা ভিক্ষুক পবন বালা। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ নিজাম খাঁ গ্রামের পরেশ চন্দ্রের লেচু বাগানে ঝড়-বৃষ্টি আর শীতের শীতল আবহাওয়ায় ভাঙা চালায় সীমাহীন কষ্টের জীবনের প্রতিটি ক্ষণ পার করছেন তিনি স্বামী-সন্তানহারা মেয়ে হতদরিদ্র আকালী রানীর (৬৫) সঙ্গে। মা পবন বালা (৮৫) প্রকৃত আবাসস্থল ছিল উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নে। তিস্তা নদীর করাল গ্রাসে বসতবাড়ি হারিয়ে পবন বালা স্বামীসহ আশ্রয় নেন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধে। সেখানে কিছুদিন যেতে না যেতেই স্বামী নরেশ চন্দ্র মারা যান। ভিটা-মাটি হারা পবন বালা অবশেষে আশ্রয় নের তারাপুর ইউনিয়নের চাচীয়া মীরগঞ্জে বসবাসরত হতদরিদ্র জামাতা বাচ্চু চন্দ্রের বাড়িতে। সেখানে কিছুদিন অবস্থানের পর বাধ্য হয়ে ঠাঁই নেয় পিতৃ এলাকার পরেশ চন্দ্রের লেচু বাগানে। সেখানে তিনি জীবনের প্রায় শেষ সায়ান্নে আশ্রয় নেন বড় মেয়ে স্বামী-সন্তানহারা আকালী রানীর নিকট। সারা দিন অন্যের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে যেটুকু ভিক্ষা পায়, তারই উপর জীবন নির্ভরশীল মা-মেয়ের।





