মুন্সীগঞ্জে বাদামের খোসা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে অপূর্ব শৈলীতে সরস্বতী পূজা মণ্ডপ। পৌরসভার নয়াপাড়ায় বাদামের খোসা দিয়ে তৈরি সরস্বতীর পূজামণ্ডপ দেখতে শনিবার সকাল থেকেই উৎসুক মানুষের সমাগম ঘটতে দেখা যায়।
দুইদিনব্যাপী এই পূজা উদযাপন অনুষ্ঠানে, আজ রোববার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এখনো লোকে লোকান্নণ্য পূজা মণ্ডপটি। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও নতুন রূপে সাজানো হয় দেবী সরস্বতীকে।
শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. দীনেশ মণ্ডলের বাড়ির আঙিনায় ‘নয়াপাড়া নবীন সংঘে’র সদস্যরা নতুন শৈল্পিক ছোঁয়ায় এ পূজামণ্ডপ তৈরি করে। এক যুগপূর্তি উপলক্ষে এ ব্যতিক্রমী আয়োজন নবীন সংঘের সদস্য ছাড়াও কাজে সহযোগিতা করেছে বাড়ির নারী ও শিশুরা। বিভিন্ন হাটবাজার থেকে বাদামের খোসা দিয়ে সংগ্রহ করে পূজামণ্ডপ, গেট ও প্রতিমা তৈরি করা হয়। এতে ৮০ কেজি বাদামের খোসা লাগে। পূজামণ্ডপটি তৈরি করতে সময় লাগে দের মাস।
নয়াপাড়ার নবীন সংঘের সাংগঠনিক সম্পাদক লোকনাথ দাস বলেন, ‘মুন্সিগঞ্জের মিরকাদিম, বেতকা মুন্সীরহাটসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বাদামের প্রায় ৮০ কেজি খোসা কিনে এনেছি।
নবীন সংঘের সব সদস্যরা কাজল চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে কাজ করেছেন। এখানে কোনো পেশাদার শিল্পী নেই। আমাদের সংঘের সদস্য কেউ কাঠমিস্ত্রি, কেউ চাকরিজীবী বা ব্যবসায়ী। গেটসহ পূজামণ্ডপ তৈরিতে আমাদের দিনরাত খেটে প্রায় দেড় মাস সময় লেগেছে। খরচ হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা।’
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক কাজল চন্দ্র দাস বলেন, ‘নবীন সংঘের সভাপতি ড. দীনেশ মণ্ডলের বাড়িতে আমরা সবসময় সরস্বতী পূজার আয়োজন করি। প্রতিমা এনেছি শহরের মুন্সীরহাট থেকে। তারপরে প্রতিমা সাজানোর কাজ করতে হয়েছে। দেড় মাসের বেশি সময় ধরে কাজ করছি। এর আগেও আমরা ৫০ হাজার কফি কাপ দিয়ে প্রতিমা গড়েছিলাম। এবার ককশিট, কাঠের গুঁড়া, দড়ি দিয়ে সাজানো হয়েছে প্রতিমা ও পূজার মঞ্চ। তবে প্রধান উপাদান বাদামের খোসা।
দেখতে আশা শ্রীকান্ত দাস বলেন, সরস্বতী পূজাতে আমরা দেবী সরস্বতীর দেবী মূর্তি মণ্ডপে আনা হয়। শুনলাম নয়াপাড়ার মণ্ডপটি বাদামের খোসা ধারা তৈরি করা হয়েছে। তাই পূজা মণ্ডপটি দেখতে আসছি।





