সারা দেশ

৮ কোটি টাকার নালা ও সড়ক সংস্কার করেও জনদুর্ভোগ কমেনি

  • ''
  • প্রকাশিত ৭ অক্টোবর, ২০২৩

মাদারীপুর প্রতিনিধি:

মাদারীপুর পৌরসভায় দুই অর্থবছরে প্রায় আট কোটি টাকা খরচ করে সড়ক ও নালা নির্মাণ করা হয়। কিন্তু এর মধ্যে শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব সড়কই বেহাল অবস্থা। বৃষ্টি হলেই সড়কে জমে থাকে পানি। এতে এসব সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিদিন পৌরসভার বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েন।

সড়ক উন্নয়নের কাজে যুক্ত প্রকৌশলী ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেশ কিছু কারণে বৃষ্টির পানি জমে সড়কগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তার মধ্যে একটি অন্যতম কারণ হচ্ছে শহরের পানি নিষ্কাশনের বড় বড় পুকুর ও খাল ভরাট হয়ে যাওয়া। অপর একটি কারণ শহরের বিভিন্ন সড়কে ১০ চাকার ট্রাকের চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে। আর আরেকটি কারণ হচ্ছে সড়ক সংরক্ষণে পৌর কর্তৃপক্ষের যথাযথ পরিকল্পনার অভাব। এসব কারণে সড়কগুলো টেকসই হচ্ছে না। এতে প্রতি অর্থ বছরেই শহরের সড়কগুলোর কোটি কোটি টাকা যেমন গচ্চা যাচ্ছে, তেমনি কিছুতেই মানুষের দুর্ভোগও দূর হচ্ছে না।

মাদারীপুর পৌরসভার থেকে জানা গেছে, ১৮৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত সাড়ে ১৪ বর্গ কিলোমিটারের মাদারীপুর পৌরসভা ১৯৯১ সালে প্রথম শ্রেণীর পৌরসভার মর্যাদা পায়। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ৩৪ টি মৌজায় প্রায় ২ লাখ মানুষ বসবাস করেন। এই পৌরসভায় ৭০ কিলোমিটার পাকা সড়ক রয়েছে। তার মধ্যে ২০ কিলোমিটার সড়কে ইট বিছানো আছে। এছাড়া কাঁচা সড়ক রয়েছে ১৬ কিলোমিটার। মোট সড়কের মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক রয়েছে ৫ কিলো মিটার। পৌর সড়কের মাত্র ২৮ কিলোমিটার পয়োনিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা রয়েছে।

পৌরসভার হিসাব ও প্রকৌশলী বিভাগ থেকে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পসহ পৌরসভার রাজস্ব খাত থেকে সড়ক ও নালা নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩ কোটি ২৬ লাখ ৯৬ হাজার ৫৮ টাকা এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরেও গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পসহ পৌরসভার রাজস্ব খাত থেকে সড়ক ও ড্রেন নির্মাণে ব্যয় হয় ৪ কোটি ৭৮ লাখ ৭ হাজার ৭৭৪ টাকা। বর্তমানে চারটি প্রকল্পে পাঁচ কিলোমিটার পাকা সড়ক ও ৭০১ মিটার নালা নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। চলতি অর্থবছরেও সড়ক ও ড্রেন সংস্কার এবং উন্নয়নকাজের জন্য প্রায় ৫ কোটি টাকার প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। যা আগামী অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে কাজ শুরু হবে।

মাদারীপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘ভৌগোলিক কারণে পৌর শহরের কয়েকটি স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। তবে জলাবদ্ধতা দীর্ঘ মেয়াদী থাকে না। জলা বদ্ধতার কারণে নতুন করে সড়ক নির্মাণ করলেও বেশি দিন টেকসই হয় না। মূল শহরের সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করতে আমাদের কয়েকটি প্রকল্পে কাজ চলছে। কাজগুলো শেষ হলে এই সমস্যা অনেকটা কমে আসবে।’

সরেজমিনে দেখা যায়, সদর থানার মোড় থেকে শুরু করে পুরো শহীদ বাচ্চু সড়ক, ডা. অখিল বন্ধু সাহা সড়ক, শহীদ মানিক সড়ক, মন্টু ভূইয়া সড়ক, হামিদ আকন্দ সড়ক, পুরান বাজার মেইন সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ ১৫ টি সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। সড়কগুলোয় খানাখন্দ আর ছোট-বড় গর্তে ভরা। পরিকল্পিত ভাবে নালা নির্মাণ না করায় বৃষ্টির পানি জমে থাকে সড়কের বিভিন্ন স্থানে। ভাঙাচোরা এসব সড়ক দিয়ে হাজারো পথচারী ও যানবাহন চলাচল করছে।

ব্যস্ততম সড়ক থানার মোড় থেকে থেকে কাজীর মোড়। শহীদ বাচ্চু সড়ক নামের এই সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় দেড় কিলোমিটার। সড়কটি ছয় মাস আগে সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু এখনই সড়কের অধিকাংশ স্থানে খানা খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলে সড়কের কয়েকটি স্থানে পানি জমে থাকে। প্রতিদিন চার থেকে পাঁচবার এই সড়কে যাতায়াত করেন পুরানবাজার এলাকার ব্যবসায়ী গোলাম আজম (৪৫)। তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়িক কাজে প্রতিদিন তিন থেকে চারবার সড়কটি আমি ব্যবহার করি। সড়কটি ভাঙাচোরা। বৃষ্টি হলে পানি জমে থাকে। সেই পানি সহজে নামে না। প্রতিদিন দুর্ভোগ নিয়া চলতে হয়। কী যে একটা অবস্থা।’

শহরের নিরাময় এলাকার বাসিন্দা আবুল হাসান বলেন, ‘একটু বৃষ্টি হলেও শহরের রাস্তাঘাটে দীর্ঘক্ষণ পানি জমে থাকে। আমরা চরম দুর্ভোগে পড়ি। কিন্তু এসব দুর্ভোগের কথা কেউ তো আমাদের কাছে জানতে আসে না।’

মাদারীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি এ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ বলেন, পৌরবাসী পৌর কর দিলেও সেই হিসেবে নাগরিক সুবিধা পাচ্ছেন না। সামান্য বৃষ্টিতে সড়কে জলাবদ্ধতা দেখা যায়। পৌর কর্তৃপক্ষের উচিত, নাগরিকদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দ্রæত সড়কগুলো টেকসই ভাবে নির্মাণ করা।

এই বিষয়ে মাদারীপুর পৌরসভার মেয়র খালিদ হোসেন বলেন, ‘শহরের রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য আমরা একটি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি। নতুন অর্থবছরে টেকসই সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের কাজ করব। আশা করছি এই সমস্যা খুবই শিগগির দূর হয়ে যাবে।’

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads