সময় চলে গেল ২৪ ঘন্টার বেশি। এখনো মধ্য বয়সী এক নারীর লাশ ভাসছে নদীর তীরে। থানা পুলিশ ও রেলওয়ে পুলিশের সীমানা নিয়ে রশি টানাটনির দ্বন্ধে এখনো নদীর পাড়েই পড়ে রয়েছে (৩৫) অজ্ঞাত নারীর এ মরদেহ। শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ গয়েশপুর বাজারে পাশে রেল সেতুর নিচে এ মরদেহটি পড়ে আছে। অজ্ঞাত এ নারীর কোনো স্বজন এখনো মিলেনি। এরি মধ্যে থানা পুলিশ ও রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েও মরদেহ উদ্ধারে কোনো কাজ করেনি। থানা পুলিশ রেলওয়ে পুলিশের ওপর দায় চাপিয়ে চলে যাওয়ার কিছুক্ষর পরই রেলওয়ে পুলিশ থানা পুলিশের ওপর চাপিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ নিয়ে স্থানীয়রা পুলিশের দায়িত্বে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রেল সেতু দিয়ে ওই নারী শ্রীপুরের কাওরাইদ বাজার থেকে গফরগাঁও উপজেলার গয়েশপুর বাজারে পাড়ি দেওয়ার সময় এক ট্রেন চলে আসে। পরে ওই নারী দ্রুত সেতুর নিচে পাটাতনে আশ্রয় নেয়। পরে সকালে সুতিয়া নদীর পানিতে ওই নারীর মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। পরে পাগলা থানা পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
গয়েশপুর বাজারের ব্যবসায়ি আসাদুজ্জামান ঢালী জানান, আজ ভোরে (বুধবার) সুতিয়া নদীর পানিতে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ ভাসতে দেখে কয়েক কিশোর মিলে লাশ পাড়ে তুলে রাখে। পরে খবর পেয়ে পাগলা থানা পুলিশের কয়েক সদস্য ঘটনা স্থলে আসে। এ সময় পুলিশ জানায় এটা রেলওয়ে পুলিশের দায়িত্ব বলে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
কাওরাইদ বাজারের কাঁচা বাজার ব্যবসায়ি আনোয়ার হোসেন জানান, খবর পেয়ে দুপুরেই রেলওয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার আসে। পরে মরদেহের কাছে গিয়ে দেখে কোনো আঘাতের চিহ্ন নাই। পরে রেলওয়ে পুলিশ জানান, নারী ট্রেনের আঘাতে নিহত না হওয়াই এ বিষয়টি স্থানীয় পুলিশের কাজ বলে, পুলিশ চলে যায়।
কাওরাইদ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আনোয়ার হোসেন জানান,স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশকে জানানো হয়।
জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশের এস আই রকিবুল হক বলেন মরদেহ ময়মনসিংহ এলাকায় হওয়াই তা ওই অঞ্চলের পুলিশ বিষয়টি দেখছে।
পাগলা থানার ওসি (তদন্ত) ফাইজুর রহমান জানান, সীমানা জটিলার কারনে মরদেহ উদ্ধারে একটু দেরি হয়েছে। আজ (বুধবার) রাত সাড়ে সাতটায় নারীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।





