মাত্র ১৭ দিনেই এক বছরের কাজ সম্পন্ন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরো। এ কাজে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ কাজটি করেছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর ডেপুটি চিফ ও প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. নাছির উদ্দিন। জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোতে গত অর্থবছরে (২০১৮-১৯) ছয়টি গণসচেতনতামূলক প্রচারণা সার্ভিস প্যাকেজ ছিল, যেগুলোর মাধ্যমে দেশব্যাপী মানুষদের স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন করার কথা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গত ১৩ জুন এসব প্যাকেজের কার্যাদেশ দেন ও ৩০ জুনের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন।
এ প্রসঙ্গে কয়েকজন বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, এই কাজগুলো এনজিওর মাধ্যমে করার কথা। ছয়টি প্যাকেজের একটি ছিল ব্রেস্ট ক্যানসার সচেতনতামূলক কর্মসূচি। এর মাধ্যমে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা করা, এরপর বিভাগীয়/জেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছ থেকে সনদ নেওয়ার কথা। কিন্তু এসবের কিছুই হয়নি। এর মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে কয়েক কোটি টাকা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শৃঙ্খলাভঙ্গের অপরাধে স্বাস্থ্য অধিপ্তরের স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর সাবেক সহকারী প্রধান মো. নাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে শাস্তি হিসেবে বেতন দুই ধাপ অবনমিত করে সর্বনিম্ন ধাপে নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এই আদেশ না মেনে তিনি আগের হারেই বেতন তুলতে থাকেন। পরবর্তীকালে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে ২০১৬ সালের ২২ জুন মাসে মন্ত্রণালয় থেকে তার শাস্তি নিশ্চিত এবং অতিরিক্ত গৃহীত বেতনভাতা আদায় করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিধি ভঙ্গ করে স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোতে অনুপ্রবেশ করায় সরকারি চাকরিতে যোগদানের তারিখ থেকে দুই বছরের জুনিয়র বিবেচ্য এবং দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতির অযোগ্য বলে বিবেচ্য হবেন বলেও আদেশ দেওয়া হয়।
তারপরেও মো. নাছির উদ্দিন ২০১৯ সালের মে মাসে স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর ডেপুটি চিফ ও প্রোগ্রাম ম্যানেজার হিসেবে পদায়ন নিয়ে এসেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি আগের মতো নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। এমনকি এই পদের দায়িত্বপ্রাপ্তদের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ির বরাদ্দ না থাকলেও তিনি ব্যবহার করছেন দুটি পাজেরো।
এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ গণমাধ্যমকে বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, মো. নাছির উদ্দিনকে ২০০৬ সালের ১৬ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে মূলে সরাসরি নিয়োগযোগ্য গবেষণা কর্মকর্তা পদে (নিজ বেতনে) পদায়ন করা হয়, যা স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর নিয়োগ বিধিমালার পরিপন্থি বলে তৎকালীন প্রধান ২০০৭ সালের ১০ আগস্ট স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরো তাকে পূর্বপদে বদলির প্রস্তাব করে এবং নিয়োগবিধিবহির্ভূত স্থায়ীকরণের আদেশ বাতিলের জন্য ২০০৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর দুটি পৃথক চিঠি মহাপরিচালক বরাবর পাঠায়। তাছাড়া স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর নিয়োগবিধির কোন শর্ত পূরণ না করায় উন্নয়ন খাত/প্রকল্প থেকে অনুপ্রবেশকারী মো. নাছির উদ্দিনকে স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরো থেকে অপসারণের জন্য মহাপরিচালক বরাবর তৎকালীন স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোতে কর্মরত কর্মকর্তারা অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
দুদকের অনুসন্ধানে আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়ক ও টেন্ডার-সংক্রান্ত দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি ডা. ইশরাত জাহান ছাড়াও ১২ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। সেখানে ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিনের নামও উঠে আসে।
এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত মো. নাছির উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, আমার শাস্তি হয়েছিল ভুয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে। তাছাড়া শাস্তির সময় ইতোমধ্যে শেষ। আমি এখানে পদোন্নতি নিয়ে আসিনি, চলতি দায়িত্বে এসেছি। কাগজপত্রে কোনো জালিয়াতি হয়নি। প্রকল্প থেকে পিএসসির মাধ্যমে রাজস্ব খাতে এসেছি। আর বহিরাগত সদস্য হিসেবে কমিটির একটি সভায় গিয়েছিলাম ও সই করেছি। এর বেশি কিছু জানি না।





