কুলাউড়ায় ওমান ও দুবাই ফেরত দুই প্রবাসী হোম কোয়ারেন্টাইন আদেশ না মেনে বিয়ের আকদ ও বিয়ে করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত উভয়কে মোট ২০ হজার টাকা জরিমানা করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ টি এম ফরহাদ চৌধুরী সরেজমিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আদেশ না মানায় উভয়কে ১০হাজার টাকা করে মোট ২০হাজার টাকা জরিমানা করেন ও মৌখিক ভাবে সর্তক করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকতা ডাক্তার নূরুল হক, থানার অফিসার ইনর্চাজ ইয়ারদৌস হাসান, ওসি তদন্ত সঞ্জয় চক্রবর্তী।
জানা যায়, উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের চকের গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমান (মাষ্টার) এর পুত্র ওমান প্রবাসী জিয়াউর রহমান জিয়া গত ১৫মার্চ দেশে আসেন। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন থেকে ফোন দিয়ে ১৪ দিনের জন্য নীজ বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়, কিন্তু জিয়া সেই আদেশ অমান্য করে চুপিসারে ২০মার্চ শুক্রবার ভাটেরা ইউনিয়নের শরীফপুর গ্রামে বিয়ের তারিখ ঠিক করেন।
বৃহস্পতিবার বার দুপুরে তার আকদ অনুষ্ঠানে উভয় পরিবারের আত্বিয়স্বজন উপস্থিত হোন। খবর পেয়ে ইউএনওর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত সরেজমিনে বরের বাড়িতে উপস্থিত হলে কিছু লোক পেছন দিয়ে দেওয়াল টপকে পালিয়ে যায়। এরপর হোম কোয়ারেন্টাইন আদেশ না মানায় বরকে নগদ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ১৪দিন অতিবাহিত হওয়ার পর বিয়ের অনুষ্টান করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এদিকে উপজেলার কাদিপুর ইউনিয়ের ছকাপন গ্রামের হাজ্বী আনসার আলীর পুত্র রিয়াজ উদ্দিন দুবাই থেকে গত ৬মার্চ দেশে ফিরেন। তাকেও উপজেলা প্রশাসন থেকে ফোন দিয়ে ১৪ দিনের জন্য নীজ বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু রিয়াজ উদ্দিন সেই আদেশ অমান্য করে পাশ্ববর্তী ভুকশিমইল ইউনিয়নের শশারকান্দি গ্রামে বিয়ে ঠিক করেন। ১৯মার্চ বৃহস্পতিবার ছিলো তাদের বিয়ের দিন, ওইদিন একটি কমিউনিটি সেন্টারে তাদের ধুমধাম বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিলো।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম ফরহাদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বিয়ের আসরে বরকে নগদ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তবে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা আগেই শেষ হয়ে যাওয়ায় বিয়ে স্থগিত করা যায় নি।
এ ব্যাপারে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এটি এম ফরহাদ চৌধুরী জানান, করোনা ভাইরাস আক্রান্তে সারা বিশ্বে এখন ভয়াবহ আকার ধারন করেছে অথছ প্রবাস ফেরত অনেকে দেশে এসে তা মানছেন না। বর্তমানে যারা প্রবাস থেকে দেশে ফিরবে সবাইকে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইন আইন মেনে চলতে হবে। আর যারা তা মানবে না ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আমরা তাদেরকে শাস্তির আওয়তায় আনবো। ভাইরাসের সংক্রমন যতদিন কমছে না ততদিন এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।





