হাঁস মুরগি পালনে বাড়তি আয়

সংগৃহীত ছবি

সারা দেশ

আখাউড়ায় স্বল্প আয় লোকদের হাসির ঝিলিক 

হাঁস মুরগি পালন বাড়তি আয়

  • কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
  • প্রকাশিত ১১ অগাস্ট, ২০২১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজলায় করোনা পরিস্থিতিতে স্বল্প আয়ের মানুষের জীবিকা অর্জন অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়ছে। আয় রোজগার কমে যাওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে দিনানিপাত করতে তাদের খুবই হিমশিম খেত খেতে হচ্ছে । এ অবস্থায়  পরিবারে আর্থিক স্বছলতা ফিরে  আনতে হতদরিদ্র লোকজনরা তাদের বাড়িতে হাঁস মুরগি, কবুতর পালনসহ আয়মূলক নানা কাজ করছে। এতেই তাদর পরিবার ফুটে উঠেছে হাসি। নিজদের প্রচেষ্টায় আয় মূলক কাজ করায় ফলে অনেক পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে।  

খোঁজ  নিয়ে জানা যায়,  বর্তমান এই করোনা পরিস্থিতিে পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নিন্ম আয়ের লোকজনের আয় উপার্যন কমে যাওয়ায় অনেকটাই বিপাকে পড়েন। তাদের সংসারে বাড়তি আয় করতে অনকেই হাঁস,মুরগিসহ নানা প্রকার পাখি পালনের দিক ঝুঁকছেন। গ্রামাঞ্চলের এমন কোনো বাড়ি নেই যেখান হাঁস,মুরগি নেই।স্বল্প পুঁজিতে হাঁস, মুরগিসহ কবুতর পালনে আয় ভাল হওয়ায় ওইসব পালনে তাদের  দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে। নারীদের  পাশাপাশি পুরুষরাও ওইসব পালন করছেন। বর্তমান এই কঠিন পরিস্থিতিতে ওইসব পালনের  মাধ্যমে সংসারে কিছু সহযাগিতা করতে পারায় তারা খুবই খুশি। 

পৌর শহরের দেবগ্রাম এলাকার গৃহিণী বিলকিস বেগম বলেন, তার পরিবারে ৫ জন সদস্য রয়েছে। তাদের স্বামী শ্রমিকের কাজ করছেন। সামান্য আয়ে চলে তাদের সংসার। দিন দিন সংসারের খরচ বদ্ধি পাওয়ায় তাদের চলা খুবই কষ্টকর হয়ে উঠছে। তাই পরিবার কিছু বাড়ি আয়ে হাঁস মুরগি পালন করেছন। বর্তমান তার ১০টি মুরগী ও ১২টি হাঁস লালন পালন করছেন। প্রতিমাসে ডিম বিক্রি করে তিনি ৪-৫ হাজার টাকা আয় করছেন। ডিম বিক্রির টাকা দিয়ে এখন তার হাত খরচ চলছে। সেই সাথে ছেলে মেয়েদেরকে পড়ালেখার খরচের টাকা দিতে পারায় তার বাড়তি কোন চিন্তা করতে হয় না। 

উত্তর ইউনিয়নর আজমপুর গ্রামের গহিণী জিয়াসমিন আক্তার বলেন, তার স্বামী অসুস্থ। দুই মেয়ে এক ছেলে নিয়ে তাদের সংসারে ৫ জন সদস্য রয়েছে। বাড়িতে তাদের মাথা গোজার ঠাঁই ছাড়া আর কোনো জায়গা নেই। অনেক কষ্ট করে তার  সংসার চলছে। কোন উপায় না পেয়ে  নিজের জমানা স্বল্প টাকা দিয়ে ৫টি হাঁস ও ৭টি মুরগি ক্রয় করে লালন পালন শুরু করেন। বর্তমানে তার ১৬টি হাঁস, ৬টি রাজহাঁস ও ১৫ টি ছোটবড় মুরগি রয়েছে। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে ডিম বিক্রি করে মাসে তার ৬-৭ হাজার টাকা আয় করছেন। পাশাপাশি করছেন শাক সবজি চাষও । 

দরুইন গ্রামর গহিণী কুলসুম বেগম জানায়, স্বামী মারা যাওয়ায় ২ ছেলে ১ মেয়ে নিয়ে খুবই অসহায় হয়ে পড়েন তিনি । বর্তমান তার এক ছেলে শ্রমিকের কাজ করেন। শ্রমিকের কাজ করে দৈনিক যে টাকা মজুরি পায় তা দিয়ে সংসার চালাতে খুবই কষ্ট হয়। তাই সংসারের অভাব অনটন গুছাতে তিনি গত ১ বছর ধরে হাঁস, মুরগি লালন পালন করছেন।  বর্তমানে তার ১৫ টি হাঁস ,১২টি মুরগি ও বেশ কয়েকটি রাজহাঁস পালন করছেন । পাশাপাশি তার আরো ৮ জোড়া কবুতর রয়েছে। প্রতি মাসে ৬-৭ হাজার টাকার উপর আয় হওয়ায় বাড়তি খরচ নিয়ে কোনো চিন্তা  করতে হয় না। 

শাহ আলম  বলন, দীর্ঘ ১৫ বছর ধর ট্রেনের মধ্যে আচার বিক্রি করছেন। তার পরিবারে ২ ছেলে  ১ মেয়েসহ ৫ জন সদস্য রয়ছে। কিন্তু ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে তাকে বিপাক পড়তে হয়। তাই আচার বিক্রি বাদ দিয়ে গ্রামে গ্রামে তিনি ফল বিক্রি করছেন। পাশাপাশি তিনি বাড়িতে হাঁস ও  মুরগি পালন করছেন। স্বল্প জমি বর্গা নিয়ে করছেন  সবজি চাষও । এতে করে তার সংসারে অনেকটাই অভাব অনটন কমেছে। 

মো হেলাল  মিয়া বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির আগে তিনি হোটেলে কাজ করতেন। এখন তেমন কাজ নেই। তাই তিনি এখন বাড়িতে রাজহাঁস লালন পালন করছেন। ৫ জোড়া হাঁস দিয়ে তার এখন ১৬ জোড়া হাঁস হয়েছে। এক একটি হাঁস বিক্রি করছেন ১৫শ থেকে  ১৮শ টাকায়। হাঁস বিক্রির আয় দিয়ে মেয়ের  পড়াশোনার খরচসহ সংসারে অন্যান্য খরচ করছেন তিনি । 

মো আল-আমিন মিয়া  বলেন , তার পরিবারে স্ত্রী ১ মেয়ে ১ ছেলে  নিয়ে সংসার। দৈনিক রিকশা চালানোর আয় দিয়ে চলে  তার সংসার । বর্তমান পরিস্থিতিতে আয় রোজগার কমে যাওয়ায় তাকে অনেটাই যেন বিপাকে পড়তে হয়। সংসারে আয় বদ্ধিতে স্বামী-স্ত্রী দুজন মিলে হাঁস ও মুরগি লালন পালন শুরু করেন । এরমধ্য রাজা হাঁস রয়ছ ১৭টি ছোট হাস ১১টি ও মুরগ রয়েছে ১৪টি। ওইসব থেকে প্রতিমাসে ৭-৮ হাজার টাকা বাড়তি আয় করছেন। 

লিমন মিয়া বলেন, ছোট বেলা থেকেই কবুতর পালন তার খুব শখ ছিল। কাজের চাপ থাকায় কবুতর পালন করা হয়নি। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে কাজের  তেমন চাপ না থাকায়  বাড়িতে ১ জোড়া কবুতর দিয়ে এখন তার ২০ জোড়া  করেছেন । প্রতিমাসে দুই হাজার টাকার উপর আয় করছেন। তিনি আরো বলেন, অবসর সময় বসে  না কাটিয়ে আয় মূলক কিছু করলে  পরিবার স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনা যায়।  

আখাউড়া উপজলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা  ডা: মা. কামাল বাশার বলন, বর্তমান পরিস্থিতিতে উপজেলার অনক নারী পুরুষ হাঁস, মুরগি, কবুতর পালন বেশ আগ্রহ বদ্ধি পাচ্ছে। তারা ওইসব পালন করে অনেকেই অভাব অনটন দূর করেছেন।  ওইসব পালনে যখনই কোনো  সমস্যা হচ্ছে আমাদের কাছে আসলে আমরা তাদের পরামর্শ দিয়ে থাকি। 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads