ময়মনসিংহের ত্রিশালে ট্রাকচাপায় মায়ের পেট ফেটে জন্ম নেয়া সেই শিশুটিকে রাজধানীর আজিমপুরে অবস্থিত ‘ছোটমণি নিবাসে’ পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে শিশুটিকে সেখানে পাঠায় জেলা শিশু কল্যাণ বোর্ড।
ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও শিশুর চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য সচিব ডা. নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, সকাল ১০টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ওয়ায়েজ উদ্দিন ফরাজি ওই শিশুকে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ওয়ালীউল্লাহ ও নবজাতকের দাদা মোস্তাফিজুর রহমান বাবলুর কাছে হস্তান্তর করেন। পরে ত্রিশাল সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, জেলা সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) খালাম্মা তাহমিনা আক্তার স্বপ্না, দাদা মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু এবং পুলিশ অফিসারসহ দুজন পুলিশ সদস্য নবজাতককে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
শিশুটিকে প্রথমে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কথা থাকলেও তাদের আর্থিক অবস্থা স্বচ্ছল না হওয়ায় তাকে নিবাসে পাঠানো হয়েছে।
শিশুর চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য সচিব ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘শিশুটি জন্ডিস থেকে সেরে উঠেছে। শ্বাসকষ্ট, বুক ও ডান হাতের ফ্র্যাকচার পুরোপুরি ভালো হয়েছে। সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ায় ময়মনসিংহ জেলা শিশু কল্যাণ বোর্ড ও শিশুটির অভিভাবকের মতামতের ভিত্তিতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ওই নিবাসে পাঠানো হয়েছে।’
জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ওয়ালীউল্লাহ বলেন, ‘সুবিধাবঞ্চিত শিশু হিসেবে শিশু কল্যাণ বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নবজাতককে ঢাকা আজিমপুর ছোট মনি শিশু নিবাসে পাঠানো হয়েছে। তবে, কারোর তত্ত্বাবধানে নয়, সম্পূর্ণ সরকারি তত্ত্বাবধানে নবজাতককে দেখাশোনা করা হবে।’
নবজাতক শিশুটির দাদা মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু বলেন, পরিবারের সবার ইচ্ছা ছিল শিশুটির নাম ‘ফাতেমা’ রাখা হবে। জেলা প্রশাসক এবং কমিটির সদস্যরা সবাই মিলে ‘ফাতেমা’ নাম রাখায় আমরা খুশি। আমার সম্মতিতে প্রশাসন নাতি ফাতেমাকে আজিমপুর ছোট মনি শিশু নিবাসে পাঠিয়েছে। নাতিকে দেখার ইচ্ছা হলে আমি যে কোনো সময় তাকে দেখতে যেতে পারবো।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসন থেকে আমাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে আমাদের থাকার জন্য দুই রুমবিশিষ্ট একটি হাফ বিল্ডিং এবং অপর দুই শিশু জান্নাত ও এবাদতের লেখাপড়াসহ সার্বিক সহায়তা করা হবে।’
গত ১৬ জুলাই দুপুরের পরে উপজেলার রাইমনি গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম (৪০) তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রত্না আক্তারকে (৩০) আল্ট্রাসনোগ্রাফি করাতে ত্রিশালে আসেন। এ সময় তাদের সঙ্গে মেয়ে সানজিদা আক্তারও (৬) ছিল। তারা পৌর শহরের খান ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে রাস্তা পারাপারের সময় ময়মনসিংহগামী একটি ট্রাক তাদের চাপা দেয়। এতে জাহাঙ্গীর আলম, স্ত্রী রত্না এবং মেয়ে তিনজনেরই মৃত্যু হয়। এ সময় ট্রাকচাপায় রত্নার পেট ফেটে কন্যাশিশুটির জন্ম হয়।
পরে ওই নবজাতক নগরীর লাবিব হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে গত সোমবার (১৮ জুলাই) রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে তার জন্ডিস, ঘাড়ে এবং ডান হাতে ফ্র্যাকচার ধরা পড়ে। এ ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট মেডিকেল বোর্ড গঠন করে শিশুটিকে হাসপাতালের এনআইসিইউ বিভাগে ভর্তি করা হয়।





