নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার চরাঞ্চল নুনেরটেক এলাকায় নদী দখল করে তানিয়া মেটাল ওয়ার্কস নামে একটি অবৈধ সিলভারের আসবাবপত্র তৈরির কারখানা গড়ে ওঠেছে। কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়ায় জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে, আতংকে বসবাস করছে চরাঞ্চলের প্রায় ২০ হাজার অবহেলীত জনসাধারণ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বারদী ইউনিয়নের চরাঞ্চল নুনেরটেক ডিয়ারা (পশ্চিমপাড়া) এলাকায় নদী দখল করে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে বর্জ্য (এ্যালুমেনিয়ামের ক্যান) গালানোর কারখানা। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন ধরনের পরিত্যক্ত এ্যালমুনিয়ামের ক্যান, পরিত্যক্ত ওষুধের পাতা কিনে এখানে গালানো হয়। শ্রমিকরা জীবনের নিরাপত্তা ছাড়াই ঝুঁকি নিয়ে গালানোর কাজ করছে। এখানে নেই কোনো প্রকার অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা, যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
ওয়েসটিজ গালানোর সময় দেখা যায়, বিভিন্ন ধরনের ক্যান গালানোর জন্য চুল্লিতে দেওয়ার পর মাঝে মাঝে বিস্ফোরণ ঘটে। বিষাক্ত কালো ধোঁয়া বের হওয়ার জন্য নির্দেশনা মোতাবেক কোনো ব্যবস্থা না করেই সরাসরি বাতাশে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। যার ফলে আশেপাশের ফসলি জমিতে কোনো আবাদ করা যাচ্ছে না। দূষিত কালো ধোঁয়ায় জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে আতঙ্কে প্রায় ২০ হাজার মানুষ জীবন যাপন করতাছে।
তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুল হোসাইন গত বছর ডিসেম্বরের ৪ তারিখে অভিযান চালিয়ে পরিবেশ দূষনের দায়ে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে।
নুুনেরটেক এলাকার আব্দুল করিম, সোলাইমান, মোস্তফা জানান, আমাদের প্রায় ৩০ বিঘা ফসলি জমি রয়েছে। ফসলি জমিতে কয়েক বছর ধরে বিষাক্ত ধোয়া ও বর্জ্যের কারণে কোনো ফসল হয়না। গত বছর বিষাক্ত বর্জ্য খেয়ে ১০০ হাঁস মারা যায়।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবুল হাসেম জানান, এলাকায় একটি সিলভারের কাঁচামাল তৈরি কারখানা নির্মাণ করেছে। প্রতিনিয়ত বিষাক্ত কালো ধোয়া বের হচ্ছে। এই কারখানার কাছাকাছি হাস ও মুরগি গেলে সাথে সাথে মারা যায়। আমরা চাই এই কারখানা বন্ধ করে এখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হোক।
কারখানার মালিক আ: জব্বার জানান, আমি কোনো প্রকার নদী দখল করি নাই। আমার কারখানার পরিবেশের ছাড়পত্র নাই। গত বছর এ্যাসিলেন্ড পরিবেশের ছাড়পত্র না থাকায় জরিমানা করেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরে প্রতিবছর ফি দিয়ে যাচ্ছি।
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাঈদ আনোয়ার জানান, পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়া কেউ কারখানা পরিচালনা করে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) সাইদুল ইসলাম জানান, অবৈধভাবে নদী দখল ও পরিবেশের ক্ষতি করে কেউ কারখানা চালালে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।





