আগামী ১৯ আগস্ট থেকে দেশের সকল পর্যটন কেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র খোলার অনুমতি দিয়েছে সরকার। তবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনের পর্যটন স্পট খোলার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছে, সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়তে পারে।
সুন্দরবনের পর্যটন খোলার বিষয়ে আগামী ১৬ আগস্ট বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছে ট্যুর অপারেটররা। ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আযম ডেভিড জানান, করোনাভাইরাসের প্রভাবে ২০২০ সালের মার্চ থেকে সুন্দরবনের পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। এর মাঝে মৌসুমে অবশ্য কয়েক মাস খোলা ছিল। পরবর্তীতে এপ্রিলে ফের বন্ধ হয়ে যায়। যা এখনো বন্ধ রয়েছে। আগামী ১৯ আগস্ট দেশের সকল পর্যটন কেন্দ্র খুলে দেওয়া হচ্ছে। অথচ সুন্দরবন খুলবে কি-না সে বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি। ১৬ আগস্ট ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের পক্ষ থেকে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করা হবে।
তিনি আরো জানান, সংগঠনের তালিকাভুক্ত ৬৩টি ট্যুর অপারেটর ছাড়াও বিচ্ছিন্নভাবে আরো কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সব মিলিয়ে শতাধিক প্রতিষ্ঠান হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলেই দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। আর্থিক সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মী কমিয়েছে। অনেকেই বেকার হয়েছে। তিনি দ্রুত পর্যটন স্পটগুলো খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন জানান, দেশের সকল পর্যটন কেন্দ্র খুললেও সুন্দরবনের পর্যটন কেন্দ্র ১৯ আগস্ট খুলছে না। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে সকল প্রকাশ মৎস্য ও কাকড়া শিকার বন্ধ রাখার ঘোষণা রয়েছে আগে থেকেই। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় সুন্দরবনের পর্যটন কেন্দ্রও পড়ছে। ফলে ১ সেপ্টেম্বরের আগে সুন্দরবনের পর্যটন কেন্দ্র খোলার সম্ভাবনা নেই।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, সাধারণত জুলাই-আগস্ট মাছের প্রজনন মৌসুম। তবে এবার জুন মাস থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে মৎস্য শিকার ও প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ১ সেপ্টেম্বর থেকে মৎস্য শিকারের জন্য পাশ পারমিট দেওয়া হবে। তবে পর্যটন কেন্দ্র খোলার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।
খুলনা আঞ্চলিক বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো জানান, সুন্দরবন খোলার ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। সুন্দরবনের পর্যটন কেন্দ্র বন্ধের সময় আরো বাড়তে পারে। তবে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত আসলে পর্যটন কেন্দ্র খুলে দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে গত বছর ১৯ মার্চ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ৭ মাস সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশ বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে খুলে দেওয়া হয়। ফের করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে চলতি বছরের ৩ এপ্রিল থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বন বিভাগ। করোনা সংক্রমণরোধে তা বাড়ানো হয়।





