সিরাজগঞ্জে বিজয় র্যালীকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
আজ রবিবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে ইলিয়ট ব্রীজের পুর্বপাশে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুপক্ষের সংঘর্ষ এক পর্যায়ে ইসলামিয়া কলেজ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে রাবার বুলেট-টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে ইট পাটকেল-দেশীয় অস্ত্র-পুলিশের ছোড়া টিয়ারশেল ও গুলিতে উভয়পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়াও ইটপাটকেলের আঘাতে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাউদসহ অন্তত ৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। সংঘর্ষের জন্য বিএনপি-আওয়ামী লীগ দায়ী করলেও আওয়ামী লীগ বলছে এর সাথে আওয়ামী লীগের কোন সম্পৃক্ততা নেই।
জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক ও সদর আসনের সংসদ সদস্য ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না সংঘর্ষের পর সংবাদ সম্মেলন করে জানান, সিরাজগঞ্জ সরকারী কলেজের উদ্যোগে বিজয় র্যালীর আয়োজন করা হয়। র্যালীতে তিনি অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। মিছিলটি ইলিয়ট ব্রীজের পুর্বপাশে যাবার পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর পেটুয়া বাহিনী ছাত্রদল-যুবদলের সন্ত্রাসীরা বিজয় র্যালীতে হামলা চালিয়েছে। হামলায় কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ প্রায় ২৫জন আহত হয়েছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সাথে কোন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। মুলত বিজয়ী র্যালীতে বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে। এসময় তিনি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবী জানান।
জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক জানান, সংঘর্ষে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাসিম রেজা দিপু, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রাসেল আহমেদ, সালমান খান, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক শামীম আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন সোহাগ, ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারন সম্পাদক রুবেল, ছাত্রলীগ কর্মী, মনি ও পৌর ছাত্রলীগ সজিবসহ অন্তত ২৫জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে সজিবকে গুরুত্বর অবস্থায় ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ টি.এম.সোহেল রানা জানান, বিজয় র্যালীতে মুক্তিযোদ্ধাসহ কলেজের প্রায় সাত হাজার ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহন করেছিল। মুলত মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতা বিরোধীরা বিজয় র্যালীর উপর নগ্ন হামলা চালিয়েছে।
জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু ও যুগ্ম সম্পাদক হারুন অর রশিদ খান জানান, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে জেলা বিএনপি ইবি রোডের শহীদ মিনার এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিল শেষে ভাসানী মিলনায়তনের সবুজ চত্ত্বরে সমাবেশ করছিল। এসময় আওয়ামীলীগ-ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সমাবেশে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সমাবেশে হামলা চালালে সংঘর্ষের সুত্রপাত হয়। সংঘর্ষে ইটপাটকেল ও গুলিতে জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠিক সম্পাদক শামীম হোসেন হিটলার, যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল আব্বাছ, দপ্তর সম্পাদক মাসুম রেজা মুছা, যুবদল কর্মী, নয়ন, আলামিন, খোকন, ইমরান, জেবরান, জুবায়ের, ইসমাইল, শিশির, কোরবান, আনোয়ার, ছাত্রদলের সাব্বিম, রানা, রতন, ছোট সবুজ, সেজাব, আব্দুল হাকিম, ফিরোজ, রাব্বি, রিয়াজ, স্বপন, সোহেল, জুলমাত, জহুরুল, ও শাহাদতসহ অন্তত ২৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এক পর্যায়ে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ করেছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ জানান, বিজয় র্যালীকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের সুত্রপাত হয়েছে। সংঘর্ষের সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে টিয়ারশেল-রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। তবে সংঘর্ষের সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংঘর্ষে ইটপাটকেলের আঘাতে ৩পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।





