সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গায় ফুলজোড় নদীতে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশের সাথে এলাকাবাসীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য আহত এবং ৬জন গ্রামবাসী গুলিবিদ্ধসহ ২০জন আহত হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরের দিকে সলঙ্গা থানার আলোকদিয়া এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধরা হলেন, আলোকদিয়া গ্রামের কোরবান আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম (৩২), সোনাউল্লার ছেলে সাখওয়াত (৪০), সূর্য্য শেখের ছেলে ফনি (২৫), নুরুল ইসলামের ছেলে ইউনুস আলী (১৮), শুকুর আলীর মেয়ে শান্তি খাতুন (৩৫) ও তারুটিয়া গ্রামের সোবাহান আলীর ছেলে আব্দুল মালেক। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতাঠালে পাঠিয়েছে স্বজনেরা।
স্থানীয়রা মাকসুদুর রহমান জানান, ফুলজোড় নদীতে বালুমহালের নির্দিষ্ট স্থান ছেড়ে ড্রেজার দিয়ে কৃষকের জমির মাটি কাটা হচ্ছিল। এ বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) বরাবর একটি লিখিত দরখাস্ত দেয়া হয়। এরপরও আজ শুক্রবার সকাল থেকে মহাল ছেড়ে এসে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। পরে এলাকাবাসী বালু উত্তোলনের সাথে জড়িতদের ধাওয়া দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে গ্রামবাসীর সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ গুলিবর্ষণ করলে ৬ জন গ্রামবাসী রাবার বুলেট বিদ্ধসহ ২০জন আহত হয়েছে।
সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেট জেট তাজুল হুদা ক বলেন, বালুমহাল নিয়ে ৫/৭ দিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার থেকে পুলিশ নৌকা নিয়ে ওই এলাকায় টহল শুরু করেছে। দুপুরে হঠাৎ করেই টহল পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে উত্তেজিত গ্রামবাসি। আত্মরক্ষার্থে বাধ্য হয়ে বেশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ছুঁড়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। তিনি আরও বলেন, ইট-পাটকেলের ঢিলে দুজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। রাবার বুলেটে গ্রামবাসীর কেউ আহত হতে পারে, তবে সে বিষয়টি আমরা নিশ্চিত নই।
উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুজ্জামান জানান, গ্রামবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইজাদাররা নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে অতিরিক্ত ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলণ করা হচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে পুলিশ নিয়ে ওই যাওয়া হয়। কিন্তু গ্রামবাসী হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে পুলিশের উপর হামলা চালিয়েছে। কারা পুলিশের উপর হামলা চালালো চিহ্নিত করতে পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।





