সিরাজগঞ্জের বন্যাকবলিত এলাকায় বাড়ছে রোগ-বালাই

ছবি: বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

সিরাজগঞ্জের বন্যাকবলিত এলাকায় বাড়ছে রোগ-বালাই

  • সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১৮ জুলাই, ২০২০

সিরাজগঞ্জের বন্যাকবলিত এলাকায় রোগ-বালাই বাড়ছে। পানিবাহিত হাত-পায়ে ঘা, ডায়রিয়াসহ নানা রোগ বালাই ভুগছে বন্যাকবলিতরা। সব সময় পানিতে থাকার কারণে এসব রোগ দেখা দিচ্ছে। এছাড়াও বিশুদ্ধ পানির অভাবে পেটেরপীড়া ভুগছে অনেকে। একদিকে যেমন আয় রোজগার নেই, অন্যদিকে পানিবন্দী থাকায় সঠিকভাবে চিকিৎসা করতে পারছে না। এতে রোগ-বালাই নিয়েই তাদের কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে।

কাওয়াকোলা ইউপির নারী আয়েশা ও রমিছা বেগম জানান, চরাঞ্চলের কোথাও উঁচু জায়গা নেই। কোথাও উঁচু থাকলেও স্যাতস্যাত অবস্থা। পানি ও স্যাতস্যাতে এলাকায় থাকার কারণে হাত-পায়ে ঘা দেখা দিয়েছে। দিনে যেমন-তেমন রাতে হাত-পায়ের চুলকানি ও জ্বালাপোড়ায় ঘুমাতে পারি না।

একই এলাকার নামদার হোসেন জানান, বিশুদ্ধ পানির সংকটে পেটে নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। পেটের পীড়াসহ আমাশয় হচ্ছে অনেকের। পানিবন্দী মানুষ ঠিকমতো ওষুধও পাচ্ছে না। এ অবস্থায় বন্যাকবলিতদের চরম দুর্বিসহভাবে জীবন কাটছে।

জান যায়, গত ১৫দিন যাবত সিরাজগঞ্জের ৩৫ইউনিয়নের প্রায় সোয়া দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী রয়েছে। এর মধ্যে চরাঞ্চলের সব পরিবার পানির মধ্যেই জীবন কাটাচ্ছে। কেউ ঘরের চালে খোলা আকাশের নীচে ও কেউবা নৌকায় খোলা আকাশের আবার কেউ ঘরের মধ্যে উচু করে মানবেতরভাবে জীবনযাপন করছে। কারো ঘরে চাল আছে তো চুলা নেই। আবার কারো ঘরে চুলো আছেতো চাল নেই। বিশুদ্ধ পানি না থাকায় বন্যার পানিতে দিয়েই হাত-মুখ ও বাসনপত্র পরিস্কার করছে। রান্না-বান্নাও অনেক সময় বন্যার পানি দিয়েই করতে হচ্ছে। এতে বিভিন্ন রোগবালাই দেখা দিয়েছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোন ওষুধ বা শুকনো ও শিশু খাদ্য সরবরাহ করা হয় নাই। এনিয়ে বন্যা কবলিতদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। তবে কিছু কিছু পরিবারে শুধু দশ কেজি চাউল বিতরন করা হয়েছে। তাও আবার বাড়ীতে নিয়ে ৯ সের করে হচ্ছে। এছাড়াও চরাঞ্চলের ফসলসহ ঘাস তলিয়ে যাওয়ায় গবাদি পশুর খাদ্য নিয়ে চরম সংকটে পড়েছে। খাদ্য না থাকায় গরু শুকিয়ে যাচ্ছে। ঠিকমতো দুধও দিচ্ছে না। আবার হাট না বসায় গরুর বিক্রিও করতে পারছে না। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। নৌকা ও কলার ভেলা একমাত্র ভরসা। কিন্তু সবার পরিবারের তা নেই। এ জন্য অনেক পরিবার সার্বক্ষনিক বাড়ীর মধ্যেই পানিবন্দী অবস্থায় থাকবে। সব মিলিয়ে বন্যা কবলিত চরাঞ্চলের মানুষ চরাঞ্চলের মানুষ চরম দুর্বিসহ অবস্থার মধ্যে দিনযাপন করছে।

কাওয়াকোলা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান টি.এম. শাহাদত হোসেন ঠান্ডু জানান, মধ্য যমুনায় অবস্থিত কাওয়াকোলা ইউপি। চরাঞ্চলের ১৬টি গ্রাম সম্পুর্ন পানির নীচে। ফসল হারিয়ে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। সকলেই পানিবন্দী। ঘর থেকে বের হতে পারছেনা কেউ। এ অবস্থায় সরকারী-বেসরকারী সহায়তা খুবই প্রয়োজন।

সিভিল সার্জন ডা. জাহিদুল ইসলাম জানান, প্রতিটি ইউনিয়নে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। ওষুধ ও স্যালাইন মজুদ রয়েছে। প্রয়োজন হলে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads