সাড়ে তিন মাস পর ঘাতক স্বামী ও দেবর গ্রেফতার

সেনবাগে মাম্মি হত্যার সাড়ে তিন মাস পর পুলিশ গেফতার করল ঘাতক স্বামী সোহের ও দেবর রুবেলকে।

ছবি : বাংলাদেশের খবর

আইন-আদালত

যৌতুকের দাবীতে গৃহবধুকে হত্যা

সাড়ে তিন মাস পর ঘাতক স্বামী ও দেবর গ্রেফতার

  • সেনবাগ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১০ জানুয়ারি, ২০১৯

নোয়াখালীর সেনবাগে যৌতুকের দাবীতে গৃহবধু জাহেদা খাতুন প্রকাশ মাম্মি (২০) হত্যার সাড়ে তিন মাস পর পলাতক ঘাতক স্বামী আলী আহম্মদ প্রকাশ সোহল (৩০) ও দেবর আবুল কালাম আজাদ প্রকাশ রুবেল (২৫)কে গ্রেফতার করেছে সেনবাগ থানার এসআই মাহফুজুর রহমান।

আজ বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মোবাইলফোন ট্যাকিংয়ের মাধ্যমে ফেনীর সোনাগাজীর আবতাবি পাড়ার হকদি গ্রামের সদরউদ্দিনের বাড়ি থেকে সোহেলকে ও তার স্বীকারোক্তিতে ফেনী শহরের শাহীন একাডেমি এলাকার টমটম চালক আলা উদ্দিনের বাসা থেকে রুবেলকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ডের ঘটনা স্বীকার করেছ বলে জানায় পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে জবানবন্ধী রেকর্ড করার জন্য নোয়াখালী বিচারিক আদালতে গ্রেফতারকৃত দুইজনকে প্রেরণ করা হয়।

ওই হত্যা কাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে গত বছর ২০১৮ সালের বৃহস্পতিবার (২৭সেপ্টেম্বর) ভোরে সেনবাগ উপজেলার উত্তর রাজারামপুর গ্রামের আবুল হোসেনের বাড়িতে। নিহত গৃহবধু মাম্মির ৮ মাস বয়সের ইয়াসমিন আকতার একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

ঘটনার আগের দিন রাতে মাম্মির স্বামী ঘাতক আলী আহম্মদ সোহেল, দেবর আবুল কালাম আজাদ প্রকাশ রুবেল(২৫), ভাসুর ওয়াসিম ও পরিবারের লাকজন যৌতুক দাবী মাম্মিকে মারধর করে এক পর্যায়ে গলায় ওড়না পেছিয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে। এক পর্যায়ে লাশ ঘরের ভুতুরের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা করেছ বলে প্রচার করে। এবং এক পর্যায়ে গৃহবধুর লাশ পাশ্ববতী দাগনভূঁইয়া হাসপাতালে রেখ পরিবারের সবাই পালিয়ে যায়।

পরে খবর পেয়ে মাম্মির মা রাহেলা আক্তার সহ পরিবারের লোকজন হাসপাতালে গিয়ে মাম্মির লাশ সন্তাক্ত করেন। এরপর সেনবাগ থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ দুপুরে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।

এঘটনায় মাম্মির জেঠা আবদুর আউয়াল বাদি হয়ে সেনবাগ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। 

নিহত মাম্মির মা রাহেলা আক্তার জানায়, ২০১৭ সালের ২৪ এপ্রিল মাম্মিকে বিয়ে দেন একই উপজেলার ৭নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের উত্তর রাজারামপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে সোহেলের সঙ্গে। বিয়ের পর থেকে মেয়ের জামাই সোহেল যৌতুক দাবী করে আসছিলো। দাবীকৃত যৌতুক না পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে তার মেয়েকে মারধর করে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে মেয়ের জামাই, দেবর ও ভাসুর সহ ও পরিবারের লোকজন । পরে তার লাশ দাগনভূঞা স্বাস্থ্য কমপ্রেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করলে তারা মাম্মির লাশ হাসপাতালে রেখেই তারা পালিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করলে সেনবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুই আসামীতে গ্রেফতারের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেফতারকৃতদের নোয়াখালীর বিচারিক আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads