সারা দেশ

কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি

সাতক্ষীরায় রাস্তার মাটি ৮ মাস কেটে রাখায় জন-দূর্ভোগ চরমে

  • সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ৭ মে, ২০২১

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিষখালী ইউনিয়নের দলুয়া শুক্তিয়া টিকারামপুর অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ সরকারী কর্মকর্তাদের তদারকি না থাকা ও ঠিকাদারের গাফিলতিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। উন্নয়নের জন্য প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তা প্রায় ৮ মাসের অধিক সময় মাটি কেটে রাখার ফলে ওই এলাকায় এ জনদূর্ভোগ দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, টেন্ডারের মাধ্যমে খুলনার মেসার্স এম এম বিল্ডার্স নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে এক বছর আগে রাস্তাটি উন্নয়নের কার্যাদেশ পান। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি না করে দুই হাত বদল করে খলিষখালীর জনৈক খোকন ও তালার বুলু নামে দুই জনকে দিয়ে কাজটি ৯ মাস আগে শুরু করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় রাস্তাটি দলুয়া বাজার থেকে টিকারামপুর পর্যন্ত মাটি কেটে বালি ফেলার জন্য রেখে দেয়া হয়। হঠাৎ কয়েক মাস ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ না করায় স্থানীয় চেয়ারম্যান বিষয়টি উপজেলা উন্নয়ন সমম্বয় সভায় উপস্থাপন করেন। এর পর ঠিকাদার পক্ষে জনৈক খলিষখালীর খোকন দলুয়া অংশে বালি ভরাটের জন্য পার্শ্ববর্তী নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলন শুরু করে। একপর্যায়ে খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন অবৈধভাবে বালি উত্তোলন বন্ধ করে দেওয়ার ফলে আবারও বন্ধ হয়ে যায় উন্নয়ন কাজ।

কয়েক মাস পর স্থানীয়দের চাপে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন রাস্তার তুলে রাখা ইট খোয়া করে কাজ শুরু করে। দলুয়া অংশে কয়েক ট্রাক বালি ও ফেলে। দুই থেকে তিন‘শ মিটার কাজ করার পর আবারও রাস্তার উন্নয়ন কাজ বন্ধ রাখে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত দুই দিন আগে হঠাৎ সামান্য বৃষ্টি হওয়ায় রাস্তাটিতে পানি জমে কদামক্ত হওয়ায় কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচলের দূর্ভোগ চরমে পৌছেছে। রাস্তাটির বেহাল দশায় মানুষ বাড়ী থেকে বের হয়ে হাট বাজারসহ কোথাও যাওয়ার জোঁ নাই ।

এর আগে বোরো ধান কেটে ওই রাস্তা দিয়ে চাষীরা কোন যানবাহনে করে তাদের উৎপাদিত ফসল বাড়ীতে আনতে পারেনি। রাস্তাটি যান চলাচলে এতই অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে যে, কৃষকরা মাঠের মধ্যে ধান ক্ষেতে ধান ঝাড়াই এর কাজ করতে বাধ্য হতে হয়েছে।

তালা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী রথীন্দ্র নাথ হালদার জানান, রাস্তাটির কাজের জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যান মোজাফ্ফর রহমান কয়েক দফায় আমাকে জানিয়েছেন। আমিও রাস্তাটির উন্নয়ন কাজ যাতে দ্রুত শুরু হয় তার জন্য ঠিকাদারকে বলেছি। এরপরেও যদি কাজ না করেন তাহলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads