কে এম আনিছুর রহমান,সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সারা দেশের মতো দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা সাতক্ষীরা সদর সহ জেলার সাতটি উপজেলায় পৌষের হাড় কাঁপানো কনকনে শীত ও মৃদু শৈত্যপ্রবাহে শীতের তীব্রতায় কাহিল হয়ে পড়েছে ছিন্নমূল মানুষসহ সর্বশ্রেণির মানুষ। রোববার (৮ জানুয়ারি) সাতক্ষীরায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
গত কয়েক দিন থেকে সূর্যের দেখা ঠিক মতো পাওয়া যাচ্ছে না। দিনের অধিকাংশ সময় ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতের তীব্রতায় অসহায় ছিন্নমূল মানুষের জীবনে নেমে আসে চরম ভোগান্তি।
কৃষি কাজ থেকে শুরু করে অফিস পাড়া এমনকি ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে। তীব্র শীতে দরিদ্র ও হতদরিদ্র মানুষ চরম বিপাকে পড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা রয়েছে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ব্যক্তি মালিকানা বিভিন্ন ক্লিনিকে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালে বেড না পেয়ে বারান্দায় ও মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে রোগীরা। তীব্র শীতে নষ্ট হচ্ছে বোরোর বীজতলা ও আমের মুকুল। ফলে এ বছর বোরো ও আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
হটাৎ জেঁকে বসা এই শীত থেকে রক্ষা পেতে সাতক্ষীরার বড় বাজারের কাপড়ের দোকান, নিউ মার্কেট, চৌরাস্তা মোড়ের কাপড়ের দোকানগুলো, জেলা পরিষদ মার্কেট ও শিশু মেলায় গরম পোশাকের কদর বেড়েছে। কিন্তু এসব দোকানে শীতের পোশাকের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে দ্বিগুনের বেশি। এমনিতেই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। তারমধ্যে গরম পোশাকের এই দাম যেন মরার ওপর খাড়ার ঘাঁ। ফলে সকাল ও রাতে অনেক স্থানে মানুষকে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা চালাতে দেখা গেছে।
সাতক্ষীরা জেলায় প্রায় ২২ লাখ মানুষের বসবাস, যাদের অধিকাংশ দরিদ্রসীমার নিচে বসবাস করে। শীত এবং শৈত্যপ্রবাহে গ্রামের দুস্থ মানুষরা যেমন কষ্ট পাচ্ছেন তেমনি একই অবস্থা পৌর সদরের বিভিন্ন মার্কেটে বারান্দায়, বস্তিতে রাত যাপনকারী ও ছিন্নমূল মানুষের।
এদিকে অসহায় ও দরিদ্র মানুষদের শীত নিবারণের জন্য এখনো সরকারি বা বেসরকারি সাহায্য-সহযোগিতা তেমন চোখে পড়ছে না। কিছু স্থানে যা দেওয়া হয়েছে তা চাহিদার তুলনায় খুবই নগন্য।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দেবনগর গ্রামের কৃষক রেজাউল ইসলাম জানান, এ বছর প্রচন্ড শীত, বিশেষ করে গত ৫/৬ দিন বেশী শীত পড়ছে। আমরা এই প্রচন্ড শীতে মাঠে যেতে পারি না। বোরো বীজতলা শীতে নস্ট হয়ে যাচ্ছে। আমের মুকুল পড়ে যাচ্ছে কুয়াশায়। ফলে এ বছর আমের উৎপাদন ভালো হবে না।
সাতক্ষীরা সদরের ভ্যান চালক বাবলু জানায়,এ বছর এতো বেশী পরিমান শীত পড়ছে আমরা সকালে ব্যান চালাতে পারছি না। তাছাড়া বেলা ১১ টার আগে লোকজনও শীতে বাইরে বের হচ্ছে না। ফলে আমরা বর্তমানে খুবই কষ্ঠে আছি।
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলি রিপন বলেন, শীতের তীব্রতা সহসা কমছে না, শৈত্য প্রবাহ এখনও ২-৩ দিন থাকবে। তাছাড়া এ মাসে আরো দুইটা শৈত্য প্রবাহ হতে পারে।





