সারা দেশ

সাতক্ষীরায় সতীত্ব হারানো সফুরা খাতুনের ৫২ বছরের স্বীকৃতি মেলেনি

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ২৮ মার্চ, ২০২৩

কে এম আনিছুর রহমান, সাতক্ষীরা:
মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি আমার সতীত্ব বিসর্জন দিয়েছি। তবে ৫২ বছর হয়ে গেল, এখনও সরকারিভাবে কোনো তালিকায় আমার নাম ওঠেনি। আর কত বয়স হলে তালিকায় আমার নাম উঠবে? মরার আগে স্বীকৃতি পাব তো?
মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) সকালে আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন সদর উপজেলার বৈকারী ইউনিয়নের ‘বীরাঙ্গনা’ সফুরা খাতুন (৭৬)। তিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বৈকারী ইউনিয়নের মৃত মুনতাজ সরদারের স্ত্রী।
সফুরা খাতুন জানান, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার কোলে তিন দিনের এক সদ্য ভূমিষ্ঠ মেয়ে সন্তান ছিল। ওইদিন পাকিস্তান হানাদার বাহিনী আমার স্বামীকে ধরে নিয়ে যায়। নিজ ছেলেকে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী ধরে নিয়ে যাওয়ায় আমার শাশুড়ি ধারালো—দা হাতে নিয়ে ঘরের দরজায় বসে ছিলেন। তারপরেও হানাদার বাহিনী আমাকে জোরপূর্বকভাবে নিয়ে যেতে চায়। তারা বলে, আমি যদি না যাই তাহলে তারা আমার স্বামীকে মেরে ফেলবে।
ওই সময় শাশুড়ি আমার কোলের সন্তানকে দেখিয়ে আমার ও আমার স্বামীর মুক্তি চাইলেও পাকিস্তানিদের মন গলেনি। স্বামীকে বাঁচাতে হলে আমার সতীত্ব বিসর্জন দিতে হবে অন্যথায় তারা আমার স্বামীকে মেরে ফেলবে বলে তারা জানায়। নিরূপায় হয়ে স্বামীকে বাঁচাতে তিন দিনের শিশু সন্তানকে বাড়িতে রেখে আমি পাকিস্তানিদের সঙ্গে যাই।
ওই সময় আমাকে ধরে নিয়ে জনৈক শরিতুল্লাহ সরদারের ঘরে নিয়ে অমানবিকভাবে নির্যাতন চালায় পাকিস্তান হানাদার বাহিনী। এক পর্যায়ে আমি অচেতন হয়ে পড়লেও তাদের অত্যাচার থেকে মুক্তি পাইনি।
তিনি আরও জানান, ওইসময় নিজের সতীত্ব বিসর্জন দিয়ে আমি আমার স্বামীকে জীবিত উদ্ধার করি। তবে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অত্যাচারে আমার স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়ে। সেই থেকে নিজের স্বামীসহ আমার ১০ সন্তানকে ভিক্ষা করে বড় করেছি। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি আমার সতীত্ব বিসর্জনও দিয়েছি। তবে আজও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো তালিকায় আমার নাম ওঠেনি। আমি স্বীকৃতি পাই নাই।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আজ বাদে কাল আমি আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে চলে যাবো, তবে আমার ১০ সন্তানের কী হবে? এলাকার মানুষ তাদেরকে আড় চোখে দেখে। আমি নিজেও সন্তানদের সঙ্গে কথা বলতে লজ্জাবোধ করি। কেননা, আমার সাথে এতোকিছু ঘটে যাওয়ার পরেও সরকার থেকে আমার প্রাপ্য সম্মানটুকুও দেওয়া হয়নি।
এ কারণে নিজ জীবনের শেষ সময়ে হলেও সরকারিভাবে নিজ প্রাপ্য সম্মানটুকু পেতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
জেলা আওয়ামী লীগের নেতা ও বৈকারী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বলেন, সফুরা খাতুন একজন বীরাঙ্গনা। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আমি চাই, তার মৃত্যুর আগে যেন বীরঙ্গনার স্বীকৃতিটি দেখে যেতে পারে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফাতেমা—তুজ—জোহরা বলেন, তিনি যদি বীরঙ্গনা হয়ে থাকেন, তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় যোগাযোগ করতে পারেন। খেতাবের বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নেবে। এ বিষয়ে আমাদের কিছু করার নেই ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads