আইন, বিচার ও সংসদ বিষয় মন্ত্রী এড. আনিসুল হক বলেন, বাংলাদেশ কখনই সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে প্রশ্রয় দিবে না। জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশের সংবিধানে যে কথা লেখা আছে, বঙ্গবন্ধু আমাদেরকে যে সংবিধান উপহার দিয়েছেন সে সংবিধানের কথাগুলো অক্ষরে অক্ষরে তা পালন করতে হবে। যতদিন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ জীবিত থাকবে, যতদিন পর্যন্ত বাংলাদেশ জীবিত থাকবে, ততদিন পর্যন্ত আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিও জীবিত থাকবে।
যে কুচক্রী মহল তাদের নিজস্ব স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য গন্ডগোল লাগিয়েছিল সেটি জনগণ গ্রহন করেনি। তিনি বলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫৮০টি মন্ডপে দুর্গাপূজা হয়েছে। কিন্তু কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি।
আজ শুক্রবার সকালে আখাউড়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ভারত সরকারের দেওয়া এম্বুলেন্স প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লার ঘটনা একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। এই পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিছু জায়গায় এ ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এটা বাংলাদেশের সার্বিক চিত্র নয়।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ভারত প্রথম স্বীকৃতি দেয়। আমরা বাঙালী, আমাদেরকে দু:সময়ে যারা সাহায্য করে। বন্ধুদের হাত বাড়িয়ে দেয় আমরা তাদেরকে কখনও ভুলি না। এম্বুলেন্স উপহার দেওয়ায় তিনি ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তৃব্য রাখেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার শ্রী বিক্রম কুমার দুরাইস্বামী।
সম্মানিত অতিথির বক্তৃতায় দুরাইস্বামী বলেন, ২০২১ সালের মার্চ মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফর কালে বাংলাদেশকে ১০৯টি এম্বুলেন্স উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এই এম্বুলেন্সগুলো প্রদান করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কোভিডের দ্বিতীয় তরঙ্গের সময়ে ভারতের প্রয়োজনে বাংলাদেশও ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছিল। বাংলাদেশের ঘনিষ্ট বন্ধু হিসেবে জনস্বাস্থ্য ও জনগণের কল্যানের জন্য ভারত তার সামর্থ অনুযায়ী সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবন্ধ।
এসময় অন্যানের মধ্য আরও বক্তব্য রাখেন সিনিয়র পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, আইন সচিব মোঃ গোলাম সারওয়ার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার, আখাউড়া পৌরসভার মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল প্রমুখ।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন মিসেস দুরাইস্বামী জেলা পুলিশ সুপার মো: আনিসুর রহমান, সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ একরাম উল্লাহ, উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক মোঃ জয়নাল আবেদীন, যুগ্ম আহবায়ক মো. মনির হোসেন বাবুল, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল মমিন বাবুল, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাবউদ্দিন বেগ শাপলু প্রমূখ।
পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা আক্তার অনুষ্ঠানের সম্মানিত অতিথি বিক্রম কুমার দুরাইস্বামীর হাতে আখাউড়ার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজরিত আখাউড়ার দর্শনীয়দের স্থানের আলোচিত্র উপহার দেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথিরকে ক্রেস্ট উপহার দেওয়া হয়। এরআগে মন্ত্রী রেলপথে ট্রেনযোগে তিনি ঢাকা থেকে আখাউড়ায় আসেন। অনুষ্ঠান শেষে সড়ক পথে তিনি কসবায় চলে যান।





