শ্রীমঙ্গলে প্রথম টেস্ট টিউব বেবি পদ্ধতির যাত্রা শুরু

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

শ্রীমঙ্গলে প্রথম টেস্ট টিউব বেবি পদ্ধতির যাত্রা শুরু

  • শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১৯ ডিসেম্বর, ২০২০

সিলেট বিভাগে প্রথম টেস্ট টিউব পদ্ধতিতে বেবি জন্মদানের উদ্যোগ হাতে নিয়েছে শ্রীমঙ্গলের 'দীপশিখা ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড কাউন্সিলিং সেন্টার'। 

ফলে টেস্ট টিউব বেবি, প্রসূতি, বন্ধ্যাত্ব ও স্ত্রীরোগ চিকিৎসায় নবদিগন্ত সুচনার স্বপ্ন নিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভুমি শ্রীমঙ্গলে চালু হয়েছে বিশেষায়িত হাসপাতাল। শ্রীমঙ্গল শহরের কলেজ রোডে অবস্হিত এই বিশেষায়িত হাসপাতালের নাম 'দীপশিখা ইনফার্টিলিটি কেয়ার এণ্ড কাউন্সিলিং সেন্টার। ছয়তলা এই ভবনটিতে ডাক্তার চেম্বার, ফার্মেসি, প্যাথলজিকাল ল্যাব, এসি- নন এসি কেবিন, হাইড্রো ইলেকট্রিক বেড, ইন্টারকম সার্ভিস, ল্যাপরোস্কোপি মেশিন, ট্রান্সভ্যাজাইনাল সনোগ্রাফি, অক্সি কনসেনট্রেটর মেশিন, পালস অক্সিমিটার, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, বর্জ্য পরিশোধনের জন্য ইনসিনারেটর মেশিন, অটো জেনারেটর, সর্বাধুনিক লিফট, সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্য অপারেশন খিয়েটার, খাওয়ার ব্যবস্হা, ঠাণ্ডা-গরম জলের ব্যবস্হা, ওয়াইফাই সহ সকল সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান। 

ভারতে গিয়ে বন্ধ্যাত্বের যে চিকিৎসা পাওয়া যায় সেই মানের চিকিৎসা এখন থেকে কম খরচে বাংলাদেশের শ্রীমঙ্গলে পাওয়া যাবে এমনটাই দাবি কর্তৃপক্ষের। 

আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১১ টায় শ্রীমঙ্গল শহরের কলেজ রোডে এই বিশেষায়িত হাসপাতালে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে এই হাসপাতালেরর চিকিৎসা বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন দীপশিখা ইনফার্টিলিটি কেয়ার এন্ড কাউন্সিলিং সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রসুতি, স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. নিবাস চন্দ্র পাল ডিএমই  এফসিপিএস ( অবস এণ্ড গাইনি)। 

দীপশিখা সেন্টারের চেয়ারম্যান দীপশিখা ধর মতবিনিময় সভার শুরুতে এই ইনফার্টিলিটি কেয়ার এণ্ড কাউন্সিলিং সেন্টারের সকল কার্যক্রম বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন সহকারি অধ্যাপক অবিনাশ আচার্য।

দীপশিখা ধর বলেন, টেষ্ট টিউব বেবী, প্রসুতি, স্ত্রীরোগ এবং বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা সেবায় এটি সিলেট বিভাগের প্রথম এবং একমাত্র সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল। তিনি বলেন, সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও নার্সিং ডিপ্লোমা এবং বিএসসি ডিগ্রিধারী এবং গাইনি ও প্রসুতিবিদ্যায় বিশেষ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সেবিকা দ্বারা সার্বক্ষণিক এখানে সেবাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় সফলতার কথা তুলে ধরে দীপশিখা ধর বলেন, ২০১৬ সালে চিকিৎসা গ্রহনকারীর সংখ্যা ছিল ২৮৫ জন। সাফল্য এসেছে ৫৫ জনের।  ২০১৭ সালে চিকিৎসা গ্রহনকারীর সংখ্যা ছিল ২৯৯ জন। সাফল্য এসেছে ৮১ জনের। ২০১৮ সালে ৩৩৭ জনের মধ্যে সফলতা পায় ৮০ জন।

ডা. নিবাস চন্দ্র পাল টেস্ট টিউব বেবি সম্পর্কে  বলেন, ইতোমধ্যে 'আইভিএফ' এর রোগী সিলেকশনের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে 'আইভিএফ' প্রথম ব্যাচ দিয়ে প্রথম টেষ্ট টিউব বেবী পদ্ধতির যাত্রা শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরো বলেন, এটাই হবে সিলেট বিভাগের মধ্যে প্রথম এবং একমাত্র 'আইভিএফ' অর্থাৎ টেস্ট টিউব বেবি সেন্টার।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads