গাজীপুরের শ্রীপুরে সাড়ে তিনশ ফুট লম্বা এলাকা জুড়ে ভুমিতে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলার বরমী ইউনিয়নের ৩ নং ওর্য়াডের বরনল (গোলাঘাট) এলাকায় ভূমিতে ফাটলে এ ঘটনা ঘটেছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ঝড় ও শিলাবৃষ্টির পর ফাটলটি সৃষ্টি হয়।
ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন ফাটল দেখা দেওয়ায় আতঙ্কে আছেন এলাকাবাসি।
প্রত্যক্ষদর্শী বাসিন্দারা জানান, ওই এলাকায় ৩০টি পরিবারের বসতি রয়েছে। এখানে প্রায় দুই শতাধিক মানুষ বসবাস করে। নারী শিশুসহ বসতিপূর্ণ এ এলাকায় পূর্ব-পশ্চিম ও উত্তর-দক্ষিণে দুইটি বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রতিটি ফাটলের মুখ কোনো কোনো স্থানে একফুট ও আবার কোথাও কোথাও ৫-৬ ইঞ্চির মতো গভীরতা রয়েছে। গভীরতা কোথাও আবার ৫ ফুটেরও বেশি লক্ষ্য করা গেছে। আশপাশে কাঁচা-পাকা বাড়ি-ঘর ও বিদ্যুতের খুঁটি আছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সুমন মিয়া জানান, ঝড়ের পর বিকালেই লম্বা এ ফাটলটি চোখে পড়ে। তিনি বলেন, এই এলাকায় ১০ বছর আগে টিউওয়েল স্থাপন করলে ৫০-৫৫ ফুট মাটির নিচে গেলেই পানির (লেয়ার) স্থর পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে আর এই গভীরতায় পানি (লেয়ার) স্তর পাওয়া যায় না। এখন ৭৫-৮০ফুট অথবা ২০০-২৫০ফুট নিচে পানি পাওয়া যায়।
স্থানীয় গৃহবধূ শরিফা আক্তার জানান, গ্রামের এক বৃদ্ধা ঝড়ের পর পর হাটতে গিয়ে হঠাৎ গড়তে পড়ে যান। পরে তাকে সেখান থেকে তুলতে এসে ফাটল দেখতে পান স্থানীয়রা। তিনি আরো বলেন ভুমিতে দেখা যাওয়া ফাটলটি প্রতিদিন বড় আকার ধারন করছে। এ নিয়ে এলাকার মানুষ আতঙ্কিত রয়েছে।
বরমী ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নং ওয়ার্ড সদস্য তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ঝড়ের পরে ফাটল দেখা দেয়। প্রতিদিনই ফাটলের আকার বড় হচ্ছে। এ নিয়ে মানুষ আতঙ্কিত রয়েছে। বড় ধরনের কোনো ভুমি বির্পযয় নেমে আসে কিনা এলাকাবাসি রয়েছে ভয়ে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্বাবিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহেদি আহমেদ আনসারি জানান, গত ২৬ ফ্রেব্রুয়ারি গাজীপুরসহ দেশের কিছু স্থানে ভূমিকম্প হয়েছে। এ থেকেও ফাটল দেখা দিতে পারে বলে তিনি ধারণা করেন।
তিনি বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পরিবর্তনজনিত কারণে সাধারণত ভূমির ওপরের দিকে ফাটল দেখা দেয় না।





