শ্রীপুরে বানর ধরা নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড

সংগৃহীত ছবি

সারা দেশ

শ্রীপুরে বানর ধরা নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড

  • শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ৫ জুলাই, ২০২১

গাজীপুরের শ্রীপুরে বরমী বাজার থেকে বানর ধরতে এসে জনরোষে পড়েছে ওষুধ প্রস্তুতকারি প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেকের কর্মকর্তারা। রোববার দুপুরে এ ঘটনা নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড বাধিয়ে দেন স্থানীয় লোকজন। পরে প্রসাশনের কর্তা ব্যক্তিরা এসে বিষয়টি নিরসন করেন।

গ্লোব বায়োটেকের করোনা টিকা বঙ্গভ্যাক্স এর কার্যকারিতার নিশ্চিতের জন্য এ বানর ধরার অভিযানে নামে কর্মকর্তারা। কোনো কিছু না জানিয়ে বেশ কিছু বানর ধরতে গিয়ে স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে তারা। পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ তাদের রক্ষা করেন জনতার রোষানোল থেকে। এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে অনুমতি আছে এমন কাগজপত্র দেখালে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। 

প্রক্ষদর্শীরা জানান, বেলা  সাড়ে ১১টার দিকে ৪ জন ব্যক্তি গাড়ি নিয়ে বরমী বাজারে আসেন। পরে  কৌশলে বানর ধরতে শুরু করেন তারা । আটক করা বানগুলো লোহার খাঁচার মধ্যে বন্দি করতে থাকে। এর মধ্যে ২২টি বানর ধরে ফেলেন সেই কর্মকর্তারা । এ সময় স্থানীয়রা বানর ধরা দেখে তীব্র প্রতিবাদ করে । পরে তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ালে সে ৪ ব্যক্তিকে স্থানীয়রা আটক করে শ্রীপুর থানায় খবর দেন। পরে থানা থেকে পুলিশ গিয়ে তাদের নিয়ে যান । তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বরমীর ঐতিহ্য এই বানরগুলোকে স্থানীয়রা সাধ্যমতো খাবার দিয়ে লালন পালন করে থাকে। সরকারের পক্ষ থেকে ইউনিয়ন পরিষদ বরাদ্দ রাখে বানরের খাবার। 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তবিবুর রহমান জানান, বানর ধরার জন্য সরকারের সকল দপ্তরের যাবতীয় অনুমতি নিয়েই তারা এসেছেন। তবে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানালে ভালো হতো। এমন তুলকালাম কাণ্ড হতো না। সাধারন মানুষ বানর ধরাকে ভিন্ন ভাবে নিয়েছে। এটা তাদের ভুল পদ্ধতি ছিল। প্রসাশন সাথে থাকলে এমনটি হতো না।

বরমী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) তোফাজ্জল হোসেন জানান, এ বানগুলো মানুষকে বিরক্ত করলেও এদের জন্য স্থানীয়দের দরদ রয়েছে। দেদারছে বানর ধরা মানুষ মেনে নিতে পারেনি। পরে তাদের তোপের মুখে পড়ে বানর ধরতে আসা গ্লোব বায়োটেকের কর্মকর্তারা। পরে পুলিশ ও উপজেলা প্রসাশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন।

তবে এ ব্যাপারে গ্লোব বায়োটিকের পক্ষ থেকে কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে  শ্রীপুর মডেল থানার ওসি খন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, আমরা যাচাই বাচাই করে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছি। তাঁরা গ্লোব বায়োটেক ওষুধ প্রস্তুতকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী। তাঁদের কাছে গবেষণার জন্য বানর ধরার বৈধ অনুমতি পত্র ছিল । তাই তাদের ব্যপারে কোনো ব্যবস্থা গ্রহন না করে ছেড়ে দিয়েছি।  

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads