সারা দেশ

শ্রীপুরে ফ্রিজে রাখা আচার খেয়ে শিশুর মৃত্যু, অসুস্থ দাদি-বোন

  • শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৩ নভেম্বর, ২০২১

গাজীপুরের শ্রীপুরে দীর্ঘদিন ফ্রিজে বোয়মে রাখা আমের আচার খেয়ে এক শিশু গুরুতর অসুস্থ হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায় শিশুটি। এ সময় শিশুর দাদি ও তার চাচাত বোনও আচায় খেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাদেরও দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। সোমবার বিকালে উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের ধলাদিয়া গ্রামে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে। আচার খেয়ে অসুস্থ দাদি ও বোনের অবস্থা একটু ভাল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

নিহত শিশুর নাম সানিয়া আক্তার (০৭) । সে ধলাদিয়া গ্রামের সাইদুর রহমান সজিবের মেয়ে। গুরুতর অসুস্থ অপর শিশু মেহজাবিন আক্তার (১৩) সাইদুর রহমানের ভাতিজি ও শাহনাজ বেগম (৫৫) তার মা। তাদের চিকিৎসা চলছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

নিহতের স্বজনরা জানান, সোমবার সকালে ফ্রিজে রাখা আমের আচার খায় সানিয়া। এ সময় তার দাদি শাহনাজ বেগম ও তার চাচাত বোন মেহজাবিনও তার সাথে বসে আচায় খায়। কিছুক্ষণ পর থেকেই সানিয়া অসুস্থ অনুভব করে। পরে তার অবস্থা ক্রমেই খাবার হতে থাকে। এক সময় বমি শুরু হয় সানিয়ার। পরে পাশের একটি হাসপাতালে নিলে সানিয়াকে দ্রুত গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে নেওয়ার সময় শিববাড়ি এলাকায় যাওয়ার পর গাড়িতেই সানিয়া মরা যায়। এ দিকে কিছুক্ষণ পর থেকেই তার দাদি শাহনাজ বেগম ও চাচাত বোন মেহজাবিন অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। একদিন পর এখন তাদের অবস্থার কিছু উন্নতি হয়েছে। এখনো চিকিৎসা চলছে।

রাজাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ৮নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আবদুল কাদির জানান, ফ্রিজে রাখা আমের আচার খেয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে ও আরো দুইজন আহত হয়েছে এমন খবর পেয়েছি। মনে হয় দীর্ঘদিন ফ্রিজে আচার থাকায় কোনো বিষক্রিয়া হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ এম এ সায়ীদ লিয়ন বলেন, দীর্ঘদিন আচার বা অন্য যেকোনো ধরনের খাদ্য সামগ্রী ফ্রিজে রাখলে বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস জন্ম নিতে পারে সে খাদ্যে। যাতে ই-কলাই ও রেস্টিফাই নামের ভয়ংকর দুটি ব্যাকটেরিয়া বেশি জন্ম নেয়। যার কারনে মৃত্যু ঘটতে পারে। এক সময় তা উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন টক্সিন (বিষ) এ পরিনত হয়। তিনি বলেন এ ঘটনায় ধারনা করা হচ্ছে টক্সিনের কারনে খাদ্য বিষক্রিয়া ঘটেছে। ফ্রিজে রাখা খাবার খেতে অধিক সর্তক থাকতে হবে নইলে ঘটতে পারে মর্মান্তিক ঘটনা।

এমন ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রীপুর মডেল থানার ওসি খোন্দকার ইমাম হোসেন জানান, এমন একটি ঘটনা ঘটেছে। কোনো প্রকার আপত্তি না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনের কাছে শিশুর মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads