শৈশবে থেকেই সাংবাদিক হওয়ার স্বপ্ন

আহরার হোসেন

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ

শৈশবেই সাংবাদিক হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন যিনি

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ২ অগাস্ট, ২০২১

বাড়ি থেকে স্কুলের দুরত্ব ছিল প্রায় তিন কিলোমিটার। মাটির রাস্তা, বর্ষাকালে হাঁটু অব্দি কাদা হত। পথিমধ্যে একটা নদী; পার হতে হত খেয়া নৌকায় । ওই ছোট্ট বয়সে হাঁটু কাদা মাড়িয়ে পুরো পথ অতিক্রম করতে হত পায়ে হেঁটে। দিনের পত্রিকা পৌঁছাত পরদিন সন্ধ্যায়। শৈশবেই ওই পত্রিকা সংগ্রহ করে দেশ বিদেশের খবর পড়ার এক অদম্য নেশায় পেয়ে বসে। আর সেই নেশাই তাকে নিয়ে এসেছে বহুদূর। বলছি আহরার হোসেন এর কথা। তিনি এখন বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র সাংবাদিক। টানা ১০ বছর যুক্ত বিবিসির সাথে।

আহরার হোসেনের জন্ম ১৯৮২ সালে। ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বড় মামা দরবেশ আলী খান স্বপ্ন দেখতেন ভাগ্নে অনেক বড় হবে। আহরার হোসেন নামটা তারই দেয়া। জন্মের পরের মাসগুলোতে বেড়ে ওঠা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কোয়ার্টারে। সেখান থেকে বাবার বাড়ি বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার এক অজ গাঁয়ে। পাঠশালার এক পণ্ডিতমশায়ের কাছে হাতেখড়ি হলেও প্রকৃত শিক্ষাজীবন শুরু হয় উপজেলা সদরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বাড়ি থেকে তিন কিলোমিটার দূরের ওই স্কুলে যেতেন হাঁটু কাদা মাড়িয়ে খেয়া নৌকায় নদী পেরিয়ে।

পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীতে পুরো জেলায় প্রথম হয়ে মেধাবৃত্তি পেলে বাবা আরো ভাল স্কুলে পড়ানোর জন্য পাঠিয়ে দেন খুলনার নামকরা আবাসিক স্কুল খুলনা পাবলিক কলেজে। গ্রামের কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পিতা ওরকম একটা পিছিয়ে পড়া জায়গায় বসেই ছেলেকে নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখতেন।

কচুয়ায় দিনের পত্রিকা পৌঁছাত পরদিন সন্ধ্যায়। শৈশবেই ওই পত্রিকা সংগ্রহ করে দেশ বিদেশের খবর পড়ার একটা অদম্য নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এরই কোন এক ফাঁকে মনের গোপন কোনে বাসা বেঁধেছিল সাংবাদিক হওয়ার স্বপ্ন।

খুলনায় উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ চুকিয়ে আবার ফিরে আসা শৈশবের বিচরণক্ষেত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এবার সাংবাদিকতার ছাত্র হিসেবে। যেহেতু সাংবাদিক হওয়াই একমাত্র লক্ষ্য তাই ১৯৯৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিন থেকেই শুরু হয় লেখালেখির জগতে পথ চলা।

শুরু দৈনিক ইত্তেফাক দিয়ে। তারপর পাক্ষিক বিনোদন আর মাসিক ই-বিজ। যুক্ত ছিলেন ফ্যাশন বিষয়ক ম্যাগাজিন ক্যানভাসের প্রতিষ্ঠার সাথে।

২০০৪ সালে প্রথম আলোতে দু-মাস ইন্টার্ণ করার পর সম্পাদক মতিউর রহমান পছন্দ করে ফেলেন। ফলে স্নাতক পাশের আগেই হয়ে যান ওয়েজ বোর্ডে বেতনভূক্ত দেশের শীর্ষ দৈনিকের পূর্ণকালীন সাংবাদিক। কিন্তু স্বপ্ন ছিল বিবিসির ঐতিহ্যবাহী বাংলা বিভাগে কাজ করা। এর মধ্যে দেশে টেলিভিশন শিল্পের বিকাশ লাভ হলে হাতছানি উপেক্ষা করতে পারেননি। ২০০৬ সালে যোগ দেন এনটিভিতে। এখানকার সাংবাদিক হিসেবে প্রভূত খ্যাতি অর্জন করেন।

বিবিসিতে কাজ করার সুযোগ আসে ২০১১ সালে। সেখানে শুরু করেন রেডিওর ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট হিসেবে। লিখেছেন বিবিসির ওয়েবসাইটে, সিনিয়র সাংবাদিকের দায়িত্ব পালন করেছেন বিবিসির টিভি অনুষ্ঠান বিবিসি প্রবাহতেও।এখন সিনিয়র সাংবাদিক হিসেবে ব্যবস্থাপনা করেন বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইট।

কুড়ি বছরের বেশি সাংবাদিকতা ক্যারিয়ারে কাজ করেছেন দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক পত্রিকায়, টেলিভিশনে, রেডিওতে, অনলাইনে, ডিজিটাল মাধ্যমে- বলতে গেলে সাংবাদিকতার সকল প্লাটফর্মে।

সংবাদ কভার করতে ইউরোপ আমেরিকাসহ পৃথিবীর নানা দেশ ঘুরেছেন। ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ইরাক যুদ্ধ দিয়ে। কভার করেছেন সুনামি, টুইন টাওয়ার হামলা, আফগানিস্তান দখল- দেশে সশরীরে কভার করেছেন একুশে অগাস্ট গ্রেনেড হামলা, জঙ্গীবাদের উত্থান, ওয়ান ইলেভেন, বিডিআর বিদ্রোহ, রানা প্লাজা ধস, রোহিঙ্গা সংকটের মত বিশ্বকাপিয়ে দেয়া সব ঘটনা।

সেরা অনুসন্ধানী সাংবাদিক হিসেবে টানা তিন বছর পেয়েছেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সেরা সাংবাদিকের সম্মাননা। স্ত্রী তানিয়া তাসলিমা একজন ফ্যাশন ডিজাইনার ও তৈরি পোশাক শিল্প উদ্যোক্তা। একমাত্র কন্যা পড়ছে ঢাকার স্কলাসটিকা স্কুলে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads