করোনা প্রতিরোধে বাজারঘাট বন্ধ থাকায় ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ৮নং ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের লাঙ্গলবাধ, মালিথিয়া গড়াই নদীর পাশে হরিজন সম্প্রদায়ের কলোনীর বসবাসরত সাধারণ মানুষের খাবারের যোগান হচ্ছে না।
তাই দেরি না করে সরকার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের শৈলকুপা উপজেলার লাঙ্গলবাধে খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করেন সেখান এলাকাবাসী।
প্রতিদিনের মতো এখন আর তাদের উপার্জন নেই। আমরা বাজার পরিষ্কার করে টাকা পাই তা দিয়েই যতটুকু সম্ভব নিজের পেটের ক্ষুধা মেটাই। করোনা মহামারির জন্য বাজার বন্ধ, বন্ধ সব দোকান পাট, বসছে না হাট-বাজার।
আমাদের খাবার খাওয়া বন্ধ হয়ে পড়েছে। আমাদের বেঁচে থাকতে সহায়তা করুন’। ঠিক এমনিভাবে নিজেদের কষ্টের কথা জানালেন সেখানকার এক বাসিন্দা।
করোনা সংক্রমণ রোধের সেখানকার শিক্সাপ্রতিষ্টানসহ সব কিছুই বন্ধ ঘোষণা করেছে করা হয়েছে। সবাইকে থাকতে বলা হয়েছে নিজেদের বাড়িতে। তাছাড়া প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়াটাও নজরে রেখেছেন প্রশাসন।
আর সেখানেই বিপাকে পড়েছে শৈলকুপার ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের লাঙ্গলবাধ, মালিথীয়া এলাকায় বাস করা হরিজন সম্প্রদায়ের ১০টি পরিবারের শিশুসহ প্রায় ৩০ জন। তাদের একমাত্র আয়ের রোজগার ঝাড়– দিয়ে বাজার পরিষ্কার করা।
খোজ নিয়ে কলোনীতে ঢুকতেই দেখা যায়, মাথা গুঁজে ঘরের সামনে বসে আছেন বয়স্ক কয়েকজন। তাদের কাছে করোনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তারা জানান, শুনেছি কি না কি ভাইরাস এসেছে। কি আর করবো বয়স হয়ে গেছে এমনিতেই বাঁচবো না বেশিদিন, আছি যতদিন ভাইরাসে মরবো না, মরবো ক্ষুদার যন্ত্রণায়। এ কথা বলেই অঝরে কেঁদে উঠলেন।
অপরদিকে, নিজের উদ্দ্যোগে এই হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন শিক্ষানন্দ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ মেহেদী হাসান নামের একজন সেচ্ছাসেবক। করোনা সর্তকতায় দিয়েছেন তাদের সাবান ও লিফলেট।
মেহেদী হাসান জানান, খবর পেয়ে এখানে এসে তাদেরকে করোনা প্রতিরোধে সতর্কতামূলক লিফলেট দিয়েছি। নিজ উদ্যোগে যতটা সম্ভব তাদেরকে সহযোগিতা করেছি। সরকারের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের পাশে থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি।





